artk
৫ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২০ আগস্ট ২০১৮, ৮:৫৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পরীক্ষার্থীদের মারধর: ইউএনওর আতঙ্কে অজ্ঞান ৫ ছাত্রী

জেলা সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২১৫০ ঘণ্টা, সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৮২২ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮


পরীক্ষার্থীদের মারধর: ইউএনওর আতঙ্কে অজ্ঞান ৫ ছাত্রী - শিক্ষাঙ্গন
মোসাদ্দেক মেহদী ইমাম

রাঙামাটির লংগদুতে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে দুই পরীক্ষার্থীকে মারধর করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসাদ্দেক মেহদী ইমাম। গত শনিবার লংগদু সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

একই দিনে লংগদু সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রেও এক পরীক্ষার্থীকে চড় মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে দায়িত্বরত শিক্ষকরা ছাত্রকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার কর জানিয়েছেন, ইউএনও সবাইকে ধমক দিয়েছেন।

এ খবর পরীক্ষার্থীরা শুনলে তারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আতঙ্কে পাঁচ ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাদের লংগদু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাবেতা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

চড় মারার কারণ জানতে চাইলে ইউএনও মোসাদ্দেক মেহ্দী ইমাম বলেন, “মারধর করা হয়নি। শুধু ধমক দেয়া হয়েছে। অসুবিধা নেই, এগুলো ঠিক হয়ে যাবে।”

ভুক্তভোগী ইসমাঈল হোসেন নামের এক পরীক্ষার্থী বলেন, “শুধু গণিত পরীক্ষাই নয়, ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার দিনও তাকে এবং তার পাশের ছাত্রকে চড় মেরেছেন ইউএনও এবং গালাগাল করে বলেন, তোর মতো এমন ছাত্র লাগবে না।”

এক ছাত্রীও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওনার (ইউএনও) আচরণ খুবই খারাপ।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুধু মারধর নয়, গালাগাল, ধমক ও ফাইল ছুড়ে মারাসহ অনেক খারাপ আচরণ করেছেন ইউএনও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কক্ষ পরিদর্শক ও শিক্ষক বলেন, “আমার দীর্ঘদিন পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন খারাপ আচরণ করতে কোনও কর্মকর্তাকে দেখিনি। উনার (ইউএনও) এমন রূঢ় আচরণের কোনও প্রতিবাদই আমরা করতে পারিনি।”

জানা যায়, শনিবার গণিত পরীক্ষা চলাকালে ইউএনও সকালে লংগদু বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এ সময় কেন্দ্রের ৬নং কক্ষে প্রবেশ করে জুনায়েদ ইসলাম পেয়ার নামের এক ছাত্র অন্যদের খাতা দেখানোয় তাকে চড় মারতে শুরু করেন তিনি এবং ওই ছাত্রের খাতাও কেড়ে নেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীকে শার্টের কলার ধরে টেনে বাইরে এনে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। এসময় গালাগাল ও চিৎকার করে তাকে বহিষ্কার করে দেবেন বলে হুমকি দেন তিনি।

তখন শুভ নামের অন্য এক শিক্ষার্থী পেয়ারকে ইউএনওর কাছে ক্ষমা চাইতে বললে তাকেও চার-পাঁচটি চড় মারেন তিনি। এ সময় দায়িত্বরত কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষকরা অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন।

পেয়ার বলেন, “সামান্য কারণে আমাকে ১৫/২০টা চড় মেরেছেন এবং খাতাও কেড়ে নিয়েছেন ইউএনও। আমি ঘটনার পর আধঘণ্টা কিছু লিখতেই পারিনি। আমার পরীক্ষাও খারাপ হয়েছে।”

এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রশ্ন সহজ হলেও ইউএনও’র এমন আচরণে তারা ভালো পরীক্ষা দিতে পারেনি। ফেল করবে বলে তারা আশঙ্কা করছে।

অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উনি (ইউএনও) যত বড় অফিসার হোক না কেন, আমাদের সন্তানদের গায়ে হাত তোলার অধিকার নাই। সরকার যেখানে শ্রেণিকক্ষেই ছাত্রদের মারতে নিষেধ করেছেন, সেখানে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

এ বিষয়ে লংগদু বালিকা বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক রবিরঞ্জন চাকমা বলেন, “শিক্ষার্থীকে চড় মারার বিষয়টি জানি না। তবে ইউএনও স্যার রাগারাগি করেছেন বলে শুনেছি।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য