artk
৫ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২০ আগস্ট ২০১৮, ১:১৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ফারমার্স ব্যাংকের অনিয়মের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: মহীউদ্দীন

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০১০ ঘণ্টা, সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১০১২ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮


ফারমার্স ব্যাংকের অনিয়মের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: মহীউদ্দীন - অর্থনীতি

অব্যবস্থাপনা ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়ে চাপের মুখে ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে। তবে তার দাবি, তিনি কোনো অনিয়মে জড়িত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।

সোমবার সংসদে বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীর এ দাবি করেন। সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় দাঁড়িয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

এসময় তিনটি সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য প্রকাশের অভিযোগ তোলেন তিনি। মহীউদ্দীন বলেন, “তারা বলেছেন, ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ঋণ বিতরণের আগে কমিশন নিয়েছি। আমার ৭৭ বছর বয়সে আমি কখনও এত বড় অসত্য কথার সম্মুখীন হইনি। শিল্প ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় ছিলাম, কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলাম। শিল্পঋণ সংস্থার সভাপতি ছিলাম। আমার কার্যকলাপ সম্পর্কে এ ধরনের কোনো উদাহরণ কেউ দিতে পারেননি।”

এর আগে, গত ২৭ নভেম্বর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে মহীউদ্দীন খান আলমগীর পদত্যাগ করার পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, “ফারমার্স ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতারাই ব্যাংকটিকে লুটপাট করে শেষ করে দিয়েছে।”

২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার কয়েকটি ব্যাংক অনুমোদন দিলে তার একটি পান মহীউদ্দীন খান আলমগীর। ব্যাংকটিতে ঋণ বিতরণে শত শত কোটি টাকা অনিয়ম ধরা পড়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যবেক্ষকও বসিয়েছিল। সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে দেয়া এক প্রতিবেদনে ফারমার্স ব্যাংককে দেশের আর্থিক খাতের জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, “এই অংশে কোথাও কেউ প্রমাণ করতে পারবেন না যে কোনো ঋণ গ্রহীতার কাছ থেকে আমার এখানে কোনো অর্থ ঢুকেছে। এ প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন, পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী আমি ১৭ জুলাই ১৩ কেটি টাকা গ্রাহকের হিসাব থেকে আমার হিসাবে নিয়ে এসেছি। আমি এ হিসাবটি উপস্থাপন করতে চাই। এখানে ১৭ জুলাই থেকে পরবর্তী ৭ বা ১০ দিনের হিসাব আছে। এ ধরনের অপরাধ সমাজে একটি সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করার প্রতিকূল। সুস্থ সমাজিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আপনার (স্পিকার) প্রত্যবেক্ষণ চাইব।”

তিনি চেয়ারম্যান থাকতে অননুমোদিত বিল দিয়েছে প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “কোনো অনুমোদন বহির্ভূত ঋণ ফারমার্স ব্যাংক, আমরা প্রক্রিয়াজাত করিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পর্যবেক্ষক দু’বছর ধরে ছিল, তারাও এটা অবলোকন করেছেন। এ ধরনের অনুমানভিত্তিক প্রতিবেদন আর্থিক ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রাখার প্রতিকূল। এক্ষেত্রেও আপনার প্রতিরক্ষণ চাই।”

ফারমার্স ব্যাংক অনুমোদিত ঋণের চেয়ে বেশি অননুমোদিত ঋণ দেয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। মহীউদ্দীন বলেন, “ঋণ দেয়ার কর্তব্য ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তারা অনুমোদনের বাইরে কোনো ঋণ যদি দিয়ে থাকেন, তা তাদের দায়িত্ব। আমার জানা মতে, যত দিন চেয়ারম্যান ছিলাম এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।” কর্মচারী নিয়োগেও কোনো অনিয়ম ঘটেনি বলে দাবি করেন মহীউদ্দীন খান।

এর আগে, সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক প্রতিবেদন দেখে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “ব্যাংকগুলো যেসব অনিয়ম করেছে, পড়লেই গা শিউরে ওঠে। এসব অনিয়মের দায় বোর্ডকে নিতে হবে। তারা দায় এড়াবে কীভাবে?”

সাবেক আমলা মহীউদ্দীন খান সরকারি চাকরি ছাড়ার পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের টিকেটে সংসদ সদস্য হন; পরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী করা হয় তাকে।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দুর্নীতি মামলায় সাজা হয়েছিল তার। পরে উচ্চ আদালত তা বাতিল করে।

ফারমার্স ব্যাংক নিয়ে অভিযোগের জবাব দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা নিজের ব্যাংক হিসাবের ‘পুরো অংশ’ সংসদে নিয়ে আসেন মহীউদ্দীন খান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য