artk
১১ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২:১০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

ইন্টারনেটের দাম এবার কমবেই...
একজন মোস্তাফা জব্বার, একটি কালো ফোল্ডার এবং আশাবাদের সন্ধ্যা

হাবিবুর রাশেদ পলাশ | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২২৪৭ ঘণ্টা, সোমবার ২৯ জানুয়ারি ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৩২১ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ৩০ জানুয়ারি ২০১৮


একজন মোস্তাফা জব্বার, একটি কালো ফোল্ডার এবং আশাবাদের সন্ধ্যা - বিশেষ সংবাদ

সংবাদটা পুরনো। প্রায় সবাই পড়ে ফেলেছেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার কে সংবর্ধনা দিয়েছে ইন্টারনেট সেবা-দাতাদের সংগঠন ‘ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)’। কিন্তু আপনি জানেন কি, ঐ সন্ধ্যায়, খুব সম্ভবত, দেশের ইন্টারনেট সেবার ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পথচলার শুরু হয়েছে? যদিও, একটি মাত্র বাঁক সোজা লক্ষ্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা দেয় না, কিন্তু মোক্ষম একটি বাঁকই পুরো পথটাকে সহজ আর সংক্ষিপ্ত করে দিতে পারে। পুরো অনুষ্ঠানটি তৃতীয় একটি জায়গা থেকে পর্যবেক্ষণ করে আমার মনে হয়েছে নীল আর্মস্ট্রং এর মতো বলাই যায় - "That`s one small step for man, one giant leap for mankind (In this case, a giant leap toward ‘Internet for All’ in Bangladesh)." শুরুতেই বলেছি, নতুন দায়িত্ব নেয়া মন্ত্রী মহোদয়কে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে – এই খোলসটা আমরা সবাই দেখেছি এবং জেনেছি, কিন্তু ভেতরের চমৎকৃত হওয়ার মতো ব্যাপারটা বোধহয় এখনো আমারা ঠিক অনুধাবন করতে পারছি না। আসুন চেষ্টা করে দেখি খোলস ভেঙ্গে ভেতরের সুস্বাদু ফলটুকু বের করে নিয়ে আসা যায় কিনা।

২৫ জানুয়ারি, ২০১৮, বৃহস্পতিবার, সন্ধ্যা, গুলশান ক্লাব। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশ আইএসপি এ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক তার সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে পোডিয়ামে এসে দাঁড়ালেন। মন্ত্রীর হাতে শোভা পাচ্ছিল কালো চামড়ায় মোড়ানো একটা ফোল্ডার, যা অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে সংগঠনের সভাপতি আমিনুল হাকিম তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করার পর, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক কে সাথে নিয়ে মাননীয় মন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ঐ মুহূর্ত থেকে পোডিয়ামে উঠার আগ পর্যন্ত মন্ত্রী মহোদয় কে ঐ কালো ফোল্ডার থেকে চোখ সরাতে দেখা যায়নি। তাঁর হাতের কলমও থেমে ছিল না, থেকে থেকেই নোট নিচ্ছিলেন। তাঁর চিন্তামগ্ন মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল কিছু একটা নিয়ে তিনি ভাবছেন, গভীরভাবে ভাবছেন। মন্ত্রী যখন মাইক্রোফোনের সামনে, তাঁর মুখোমুখি দর্শক সারিতে ছিলেন বাংলাদেশের প্রায় সব ইন্টারনেট সেবা-দানকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীগণ, প্রযুক্তি-খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, তথ্য-প্রযুক্তিবিদগণ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ। মন্ত্রী মহোদয় নিশ্চিতভাবেই তাঁর সেদিনের দর্শক সম্পর্কে অবগত ছিলেন, তিনি জানতেন এই মানুষগুলো দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের পোড় খাওয়া যোদ্ধা, ঠিক যেমনটা ছিলেন তিনি নিজে। একই পথে চলতে গিয়ে বহুবার তিনি এদের চাওয়া, অভিযোগ, অনুযোগ শুনেছেন, তাঁদের সাথে গলা মিলিয়েছে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছেন, স্বপ্ন দেখেছেন, দেখিয়েছেন। কিন্তু আজকের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজকে তিনি ঠিক আগের ‘প্রিয় জব্বার ভাই’ নন, আরও বড় কিছু, বিশেষ একজন। তিনি জানতেন তাঁদের সবার মিলিত চাওয়াগুলোই ৬টি দফায় ছাপার অক্ষরে গ্রন্থিত আছে তাঁর হাতে ধরা কালো ফোল্ডারে।

মন্ত্রী মহোদয় বললেন খুব অল্প। তাঁর স্বভাবজাত মৃদু কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত হওয়া এই অল্প কিছু শব্দই নিশ্চিত করে দিল বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট আর স্বপ্ন হয়ে থাকছে না, হতে যাচ্ছে নির্জলা বাস্তব। অন্তত ঐ সন্ধ্যায় গুলশান ক্লাবে উপস্থিত তথ্য-প্রযুক্তির ঘরের মানুষদের মধ্যে এ বিষয়ে বিন্দু পরিমাণ সন্দেহ ছিল না। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে এই অল্প কয়েকটি বাক্য কিভাবে এধরণের একটি মৌলিক পরিবর্তনের নিশ্চয়তা দিচ্ছে? এটা অবাস্তব আশাবাদ নয়তো? উত্তর নিহিত আছে মোস্তাফা জব্বারের বক্তব্য এবং সেই কালো ফোল্ডারে ছাপানো অক্ষরের মধ্যে। দুটো যখন একসাথে মিলিয়ে দেখবেন (অথবা পড়বেন) তখন আপনারও মনে হবে, কমদামে এবং একদামে ইন্টারনেট থেকে আমরা আর খুব বেশী দূরে নই। 

ঠিক কি বলেছিলেন মোস্তাফা জব্বার?

শুরুতেই বললেন, “শিল্পখাতকে সংশ্লিষ্ট করে নীতমালা করা হবে, আমলা-নির্ভর নীতিমালা নয়। নীতিমালা আপনারা করে দেবেন, অনুমোদন করে দেওয়ার কাজ আমার”।

হাতে থাকা কালো ফোল্ডারের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন – “ছয় দফা আমার চোখ খুলে দিয়েছে। আমি বুঝতে পারছি, কার স্বার্থে কোথায় এসব আটকে রাখা হয়েছে। ছয়টি দাবি নিয়ে কম কথা বলছি, কারণ এ দাবিগুলোর লাইন বাই লাইন কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তারপর মন্ত্রী নির্দ্বিধায় উচ্চারণ করলেন একটি অপ্রিয় কিন্তু অতি সত্য বাক্য, যা কোন এক অজ্ঞাত কারণে, সাধারণত সরাসরি বলা হয় না। কিন্তু মোস্তাফা জব্বার অবলীলায় বললেন – “বিপুল সংখ্যক মানুষ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, তার ছাড়া উচ্চ গতির ইন্টারনেট পৌঁছানো সম্ভব নয়। ইন্টারনেট মানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, এবং এখানেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

স্বীকার করে নিলেন চলমান বাস্তবতা, “রাষ্ট্রের সবাইকে একই মূল্যে ইন্টারনেট দেওয়া হবে, বৈষম্য আছে। এ লড়াইটা আমি করব। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ফ্রি ওয়াইফাই হটস্পট করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা যাতে সেগুলো ব্যবহার করতে পারে।”

আমি জানি এখন আপনি কি ভাবছেন। নিশ্চয়ই আপনার মনে হচ্ছে, মোস্তাফা জব্বারের এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব, বিশেষ করে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে তো কোনভাবেই সম্ভব না। আপনি চিন্তা করছেন, এই নির্বাচনের বছরে সরকার শুধু সেই কাজকেই প্রাধান্য দেবে যাতে সরাসরি রাজনৈতিক ফায়দা আছে। এখানে রাজনৈতিক অগ্রাধিকার কই? এটা সত্য যে মোস্তাফা জব্বার রাজনীতিবিদ নন। কিন্তু ‘কম দামের ইন্টারনেট’ এর রাজনৈতিক সুবিধাটাও তিনি সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, একজন তুখোড় রাজনীতিবিদের মতই, তাও মাত্র এক বাক্যে – “বাংলাদেশের এখন যে নতুন প্রজন্ম তাদের কাছে নির্বাচন সামনে রেখে ইন্টারনেটের চেয়ে ভালো উপহার হতে পারে না।”

আর তার পুরো বক্তব্যের সারকথা থাকল এই কথায় – “ইন্টারনেট এখন মানুষের মৌলিক অধিকার, এই পঞ্চম মৌলিক অধিকারটি সংবিধানে সংযোজন করার জন্য আমি কাজ করে যাব”।

জানি, সন্দেহ-বাদীরা এর পরও থামবেন না। বলবেন, বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে শেষ কথা বলেন মাত্র দুইজন মানুষ – মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়। আপনার চিন্তায় ভুল নেই। দেশের তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন বলুন, প্রবৃদ্ধি বলুন আর নীতিমালা বলুন সবকিছুতে তাঁরাই মূল সিদ্ধান্ত-দাতা। সংকীর্ন রাজনৈতিক মনোভাব বাদ দিয়ে উদারভাবে চিন্তা করলে, শেখ হাসিনা কে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রযুক্তিবান্ধব সরকার-প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিতেই হাবে। আর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মান এবং হালে তা সম্প্রসারনের লক্ষ্য অর্জনে সজীব ওয়াজেদ জয় নিঃসন্দেহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং করছেন। কিন্তু একবারও কি ভেবেছেন যে মোস্তাফা জব্বারের মত একজন অরাজনৈতিক তথ্য-প্রযুক্তিবিদ কিভাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন? তাও সরকারের একদম শেষ সময়ে এসে? নিশ্চিত থাকতে পারেন তাঁর নিয়োগের সাথে ভোট অথবা জোটের রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই। এর মানে হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা মনে করছেন যে সঠিক জায়গায় সঠিক লোকটিকে বসানোর সময় চলে এসেছে। রাজনীতির ভেতরের অনুগত মানুষদের দিয়ে একটা পর্যায় পর্যন্ত হয়তো সবকিছুই চালানো যায় / চালাতে হয়। সেই সময়টুকু সরকার খুব সম্ভবত পার করে এসেছে, অন্তত তথ্য-প্রযুক্তি খাতে তো অবশ্যই। মোস্তাফা জব্বারের নিয়োগ প্রমাণ করে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এবং এর সম্প্রসারণ কেবলমাত্র একটি রাজনৈতিক স্লোগানই নয়, সত্যিকারের একটি মহা-পরিকল্পনা যা তাঁরা আক্ষরিক অর্থেই বাস্তবায়ন করতে চান। কাজেই বর্তমান বাস্তবতায়, মোস্তাফা জব্বারের আশ্বাসকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টার আশ্বাস বলেই ধরে নিতে হবে। দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতে তিনি এখন তাঁদেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন।

আসুন ফিরে যাই, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের দাবিদাওয়া সম্বলিত সেই কালো ফোল্ডারে। কি কি দাবী ছিল ইন্টারনেট সেবা-দাতাদের? তাঁরা কি তাঁদের প্রিয় জব্বার ভাই কে মন্ত্রী হিসেবে পেয়ে নিজেদের ব্যবসা বাড়িয়ে নিতে চেয়েছেন? বাড়তি সুযোগ-সুবিধা চেয়েছেন? খতিয়ে দেখা যাক। কালো ফোল্ডারে আইএসপিএবি’র ছয়টা দাবী ছিল, সাথে ছিল দাবীর স্বপক্ষে যৌক্তিকতা এবং দাবী পূরণ হলে এর ইতিবাচক প্রভাবের বর্ণনা (সম্ভাব্য সময়কালসহ)। ব্যবসায়ীক দৃষ্টিভঙ্গিও কি তাতে ছিল না? ছিল। না থাকলেই বরং সেটা অস্বাভাবিক হত। কিন্তু সুখের ব্যাপার হচ্ছে, সবার কাছে ইন্টারনেট পৌঁছানো কিংবা ইন্টারনেট এর দাম কমার সাথে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের ব্যবসায়িক স্বার্থের কোন বিরোধ নেই।

১. ছয় দফার প্রথম দাবি ছিল দুইটি এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের ভাড়ার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করে দেয়া। এনটিটিএন এর পূর্ণরূপ হচ্ছে ‘ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক’। নামটা খটমটে হলেও এদের কাজটা খুব সরল। ধরুন আপনি ঢাকা ওয়াসার গুলিস্তানে থাকা একটি ওয়াটার ট্যাঙ্ক থেকে ধানমন্ডিতে আপনার বাসায় পানি নেবেন। সেক্ষেত্রে, আপনার অবশ্যই একটা পাইপলাইন লাগবে গুলিস্তান থেকে আপনার বাসা পর্যন্ত। এখন ধরুন ওয়াসার পাইপলাইন নেই। তখন কি করতে হবে? এমন কারো কাছে ধরনা দিতে হবে যার পাইপলাইন আছে এবং সে সেটা ভাড়ায় খাটাতে রাজি আছে। এই অবস্থায়, পাইপলাইন মালিকের যে ভূমিকা, আমাদের আলোচ্য এনটিটিএন’রও তাই। অর্থাৎ বংগদেশের মাটির নিচ দিয়ে এদের অনেক ট্রান্সমিশন লাইন আছে, যা তাঁরা ভাড়ায় খাটান। কোন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার যদি গ্রাহককে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে চান, তাহলে অবশ্যই তাঁকে কোন একটি এনটিটিএন’এর আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ভাড়া নিয়ে সেটির মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে হবে। এখন, আপনি যদি পুরোপুরি অনুধাবন করতে চান, কেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা এনটিটিএন চার্জের উচ্চ ও নিম্নসীমা নির্ধারণে এতটা ব্যগ্র, তাহলে আরও কয়েকটি তথ্য আপনাকে জানতে হবে। বাংলাদেশে কাগজে কলমে মোট এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান ৫ টি। এর মধ্যে প্রাইভেট ২ টি এবং সরকারী ৩ টি। কোন এক বিচিত্র কারণে, সরকারী ৩ টি এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান নিজেদের গুটিয়ে (অকার্যকর করে) রেখেছে। অপারেশনাল আছে মূলত দুইটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। তাহলে এর মানে কি বাজারে শুধুমাত্র দুইটি এনটিটিএন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে? জি না, তাও না! এদের মধ্যে আদতে কোন প্রকার কম্পিটিশনই নেই। এরা দুইজন পৈত্রিক সম্পত্তির মতো দেশটাকে দুইভাগ করে নিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে। যেখানে এ আছে সেখানে ও নেই! কাজেই যেহেতু কম্পিটিটর নেই, সেহেতু এরা ইচ্ছামত ঠিক করে প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ট্রান্সমিশনের ভাড়া কত হবে। ঢাকার মধ্যে এই অংক ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা আর ঢাকার বাইরে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এটা ঠিক ভাড়াটা সরাসরি আপনাকে দিতে হয় না, দেয় আপনার সার্ভিস প্রোভাইডার। কিন্তু প্রকারান্তরে টাকাটা আপনার কাছ থেকেই তাঁদের উশুল করে নিতে হয়, কারণ এ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোন চ্যারিট্যাবল আইএসপি গড়ে উঠেছে বলে আমার জানা নেই। হয় আপনাকে অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে অথবা সার্ভিস কোয়ালিটি কম্প্রোমাইজ করতে হচ্ছে। আর অতিরিক্ত টাকাটা এক্সক্লুসিভলি যাচ্ছে দুইটি বেসরকারি এনটিটিএন এর পকেটে। কাজেই এটা পানির মত সরল যে এই কোম্পানিদুটোর স্বেচ্ছাচারিতা জারী থাকলে বাংলাদেশ এ ইন্টারনেট এর দাম কমা সম্ভব নয়, এমনকি সরকার যদি বিনা পয়সায় ব্যান্ডউইথ দেয়, তাও না। সরকারের আরেকটি অগ্রাধিকার হচ্ছে সবার কাছে একই দামে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া, অর্থাৎ বুড়িগঙ্গার তীরে আর আর আড়িয়াল-খাঁ’র পাড়ে সমমূল্যে ইন্টারনেট সরবরাহের ব্যবস্থা করা। এটাও সম্ভব হচ্ছে না এনটিটিএন একাধিপত্যের এর কারণে। ঢাকার বাইরে তাদের ট্রান্সমিশন চার্জ আরও বেশি, যেখানে ঢাকার বাইরের গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা তুলনামূলক কম! তাই ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত যৌক্তিক ভাবেই বলেছেন যে ইন্টারনেট এর সর্বোচ্চ সম্প্রসারণ এবং সর্বনিম্ন মূল্য নিশ্চিত করতে হলে এনটিটিএন এর সর্বগ্রাসী ব্যবসানীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

২. দ্বিতীয় দাবি ছিল ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের ট্রিপল-প্লে সার্ভিস চালু করতে দেয়া। ট্রিপল প্লে সার্ভিস মানে হচ্ছে একই সাথে ডাটা, ভয়েস এবং ভিডিও সার্ভিস দেয়া। বর্তমানে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা একটি ক্যাবলে এর মাধ্যমে শুধুমাত্র একটা সার্ভিস প্রদান করতে অনুমতিপ্রাপ্ত অর্থাৎ ডাটা বা ইন্টারনেট। কিন্তু ঐ একই তারে ডাটার সাথে ভিডিও এবং ভয়েস সার্ভিসও প্রদান করা সম্ভব, বাড়তি বিনিয়োগ ছাড়াই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, অনুমতি নেই। ধরুন, আপনি ১ এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করেন মাসে ৮০০ টাকা চার্জ এর বিনিময়ে। এখন যদি আইপিটিভি, ভয়েস-কল আর সেই ১ এমবিপিএস ডাটা আপনি ৯০০ টাকায় পেয়ে যান, তাহলে কি সেটাই আপনার জন্য লাভজনক হচ্ছে না? সেইসাথে যদি এনটিটিএন এর স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, টাকার পরিমাণ আরও কমতে পারে। আমি যতদূর জানি বাংলাদেশের ইন্টারনেট সেবা-দাতারা অনেকদিন থেকেই ট্রিপল-প্লে সার্ভিসের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু যুক্তিগ্রাহ্য কোন কারণ ছাড়াই এ বিষয়ে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিটিআরসি থেকে এই মর্মে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, কোন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানি আইপি-টিভি অথবা ভিডিও-অন-ডিমান্ড সেবা প্রদান করতে পারবে না! এটা নিঃসন্দেহে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত, দুটি কারণে –প্রথমত, টেলিটক ছাড়া দেশের আর সব মোবাইল অপারেটরের নিজস্ব আইপিটিভি/ভিডিও অন ডিমান্ড সেবা আছে (Bioscope, iFlix, Banglalink Mobile TV); দ্বিতীয়ত, আপনি চাইলেই যেকোনো সময় Netflix, Amazon Prime Video অথবা HBO Now এর মতো বিদেশী সার্ভিসগুলো সাবস্ক্রাইব করতে পারছেন। যদি বিদেশী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশী বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত মোবাইল অপারেটররা আইপি টিভি সেবা দিতে পারে, তাহলে দেশীয় উদ্যোগে স্থাপিত ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানগুলো সেটা কেন পারবে না? এটাই ছিলো এই নির্দৃষ্ট দাবীর সপক্ষে আইএসপিএবি’র অকাট্য যুক্তি।

৩. এর পর, মোবাইল অপারেটর কর্তৃক আইপিটিএসপি (আইপি টেলিফোন সার্ভিস প্রোভাইডার) দের সেবা প্রদানে বাঁধা এবং অসহযোগিতার অবসান চাওয়া হয়। আইপি টেলিফোন এর সাথে আমরা এখন মোটামুটি সবাই পরিচিত। এককালের অবৈধ ভিওআইপি’র বৈধ এবং লাইসেন্স-কৃত রূপটিই হচ্ছে আইপি টেলিফোন। এটা শুধুমাত্র যে সাশ্রয়ী তা নয়, একই সাথে সরকারের রেভিনিউ আয়েরও একটা বড় উৎস। একটু হিসেব দিলেই ব্যাপারটা জলবৎ তরলং হয়ে যাবে – আইপি ফোন সার্ভিস থেকে সেবা-দাতারা যে রেভিনিউ উপার্জন করেন, তার ৮০ শতাংশের বেশি জমা দিতে হয় সরকারি খাতে। যাহোক, মূল সমস্যায় আসি। আপনি আপনার বাসার ব্রডব্যান্ড লাইনে আইপি ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু যখনই আপনি মোবাইল ডাটা ব্যবহার করে আইপি ফোন ব্যবহার করতে যাবেন তখনি থমকে যাবেন, কারণ মোবাইল অপারেটররা এই কল ট্রান্সমিট হতে দেবে না! যুক্তি? অবৈধ ভিওআইপি সম্প্রসারিত হবে। কিন্তু এই যুক্তি নিতান্তই খোঁড়া, কারণ আন্তর্জাতিক কলের ক্ষেত্রে অবৈধ ভিওআইপি’র সম্ভাবনা থাকলেও লোকাল কলের ক্ষেত্রে তা নেই। তাহলে লোকাল ট্রাফিক কেন আটকানো হচ্ছে? কার স্বার্থে? যেখানে আইপিফোনে ১০০ টাকা রেভিনিউ জেনারেট হলে, পাবলিক ফান্ডে প্রায় ৮৪ টাকাই জমা হয়, তখন কেন এই প্রতিবন্ধকতা? একজন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার যদি আইপিফোন থেকে ব্যবসা করতে পারে, সে খুব সহজেই ইন্টারনেট এর দাম ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে। আরেকটা তথ্য এখানে যোগ করা দরকার, বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত কোটি আর ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করছেন মাত্র ৫০ লক্ষ গ্রাহক। অর্থাৎ মোবাইল অপারেটরদের অযৌক্তিক অবস্থানের কারণে আইপি ফোন সার্ভিস প্রোভাইডাররা ৭ কোটি ৫০ লাখ মোবাইল গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। এখানে মজার ব্যাপার হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, মেসেঞ্জার, স্কাইপ এর মত অ্যাপ্লিকেশন কিন্তু তাঁরা ঠিকই এলাউ করছেন। এগুলোর মাধ্যমে হরদম লোকাল ও আন্তর্জাতিক কল হচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এক কানাকড়িও পাচ্ছে না! অথচ আটকে দেয়া হচ্ছে স্থানীয় আইপিফোন সার্ভিস প্রোভাইডারদের অর্থাৎ, আমাদের দেশীয় উদ্যোক্তাদের।

৪. কালো ফোল্ডারের লিপিবদ্ধ ৪র্থ দাবি ছিল – অ্যাক্টিভ শেয়ারিং এর অনুমতি দেয়া হোক। অ্যাক্টিভ শেয়ারিং ব্যাপারটা একটু খোলাসা করা যাক। ধরুন আপনার এলাকায় ২০০ টি বাড়িতে ইন্টারনেট সেবা দেয় ১২ টি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানি। ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে, এর প্রত্যেকটি কোম্পানিকেই আলাদা আলাদা নেটওয়ার্ক এবং ইকুইপম্যান্ট ডেপলয় করতে হয়। এখন যদি অ্যাক্টিভ শেয়ারিং এর অনুমতি থাকত, তাহলে এক সেট নেটওয়ার্ক আর ইকুইপম্যান্টের মাধ্যমেই এই ১২ টি কোম্পানি মিলে ২০০ টা বাড়ি কাভার করতে। ফলে প্রতিটা কোম্পানির নেটওয়ার্ক, ইকুইপম্যান্ট ও মেইন্ট্যানেন্স বাবদ ইনভেস্টম্যান্ট ১২ ভাগের ১ ভাগ হয়ে যেতে পারত। এই সহজ অংকের ইতিবাচক ফলাফল পড়তে পারত আপনার মাসিক ইন্টারনেট বিল এ। কিন্তু কোন এক বিচিত্র কারণে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইদারদের পরস্পরের মধ্যে অ্যাক্টিভ শেয়ারিং এর অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। জনাব মোস্তাফা জব্বারের কাছে তাই এর প্রতিকার চেয়েছে আইএসপিএবি।

৫. পঞ্চম দাবি ছিল ইন্টারনেট পরিবহনে অপ্রয়োজনীয় দুটি ধাপের বিলুপ্তি। ব্যান্ডউইথ, আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে গ্রাহক পর্যায় পর্যন্ত ইন্টারনেট-সেবা হয়ে পৌঁছানো পর্যন্ত ৪ ধরণের প্রতিষ্ঠানের হাত ঘুরে আসে। প্রথম ধাপ হচ্ছে আইটিসি (ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল)। এর পর এনটিটিএন এর মাধ্যমে আইটিসি থেকে ব্যান্ডউইথ পৌঁছায় আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেইটওয়ে)’র কাছে। আইআইজি তখন আবারো এনটিটিএন এর মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ রাউট করে আইএসপি বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছে। সবশেষে আইএসপি ইন্টারনেট-সেবা হিসেবে ব্যান্ডউইথ পৌঁছে দেয় গ্রাহকের কাছে, তাও সেই এনটিটিএন এর মাধ্যমেই। এখানে মূলত ব্যান্ডউইথ পরিবহন করে এনটিটিএন এবং ইন্টারনেট সেবা দেয় আইএসপি। বাকি দুইটি ধাপ সত্যিকার অর্থে গ্রাহকের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো ছাড়া আর কোন সার্ভিস অ্যাড করে না। দুটি অতিরিক্ত ধাপ থাকার কারণে সব মিলিয়ে প্রায় ৩৮.৫% ট্যাক্স, ভ্যাট ও রেভিনিও শেয়ারিং এর ভার গ্রাহককে বহন করতে হয়। কাজেই যদি আইএসপি সরাসরি আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ক্রয় করে আর এনটিটিএন (যৌক্তিক ভাড়ায়) ব্যান্ডউইথ ট্রান্সমিট করে তাহলে ইন্টারনেট এর মাসিক ব্যয় এমনিতেই কমে যাবে – এটাই ছিল আইএসপি এ্যাসোসিয়েশন এর বক্তব্য।

৬. সর্বশেষ যে দাবিটি আইএসপি এ্যাসোসিয়েশন করেছিল তা হচ্ছে অবৈধ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের বিরুদ্ধে আশু ব্যবস্থা নেয়া। স্থানীয় পর্যায়ে অসংখ্য লাইসেন্স-বিহীন আইএসপির অস্তিত্ব এখন আর কোন গোপনীয় ব্যাপার নয়। এসমস্ত বেআইনি প্রতিষ্ঠান কোন প্রকার কর এবং লাইসেন্স কিংবা নবায়ন ফি প্রদান না করেই ব্যবসা করে, তাই বৈধ প্রোভাইডারদের চেয়ে তুলনামূলক কম দামে এরা ইন্টারনেট দিতে পারছে। দাম কম হওয়ায় গ্রাহকরা আর ‘কোয়ালিটি অফ সার্ভিস’ নিয়ে মাথা ঘামান না। আরেকটা বড় বিপদ হচ্ছে, এরা প্রচলিত মান অনুযায়ী, ইন্টারনেট সেবা প্রদানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা-প্রটোকল অনুসরণ করে না, তাই সন্ত্রাসবাদীদের জন্য এদের নেটওয়ার্ক অনেকটা অভয়ারণ্যের মতো। সুতরাং বিপদ যেকোনো দিক থেকে যেকোনো সময় আসতে পারে। এমনকি গ্রাহকের প্রাইভেসীও এদের হাতে নিরাপদ না। তাই আইএসপিএবি চাইছে এসব ব্যবসায়ীদের অবৈধ ব্যবসা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হোক।

কালো ফোল্ডারের দাবি-দাওয়াগুলো নিয়ে মোস্তাফা জব্বার কি বলেছেন, তা আমরা শুরুতেই পড়েছি। মন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে বিষয়গুলো তাঁর অজানা নয়, তাই তিনি বিস্মিতও হননি। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কোন একটি ফোরাম থেকে দাবীগুলো উঠে আসা প্রয়োজন ছিল এবং আইএসপিএবি অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজটি করতে পেরেছে। আইএসপিএবি সভাপতি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই বলেছিলেন – “মাননীয় মন্ত্রী, তথ্যপ্রযুক্তি জগতে আপনি আগন্তুক নন”। এই একটি বাক্য দিয়েই আপনি বুঝে নিতে পারেন তথ্যপ্রযুক্তির সাথে সংশ্লিষ্টদের কাছে মোস্তাফা জব্বারের অবস্থান কোথায়। এ অনুষ্ঠানে আসার আগেই, সঠিকভাবে বলতে গেলে মন্ত্রীত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি ৩ টি অগ্রাধিকারসহ তাঁর প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। তার অগ্রাধিকারগুলো হচ্ছে –স্বল্প খরচে দেশব্যাপী ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেয়া; দেশীয় সফটওয়্যার বাজারকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের রাহুমুক্ত করা এবং ডিজিটাল মিডিয়ায় বাংলা কন্টেন্টের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি ভূমিসহ সরকারি সমস্ত সেবার ডিজিটালাইজেশন। ইন্টারনেট সেবা-দাতারা কিন্তু মন্ত্রীর তিনটি অগ্রাধিকারের মধ্যেই হুজুগে নিজেদের জড়াননি। তারা বলেননি যে আপনার সব অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সকল ধরণের সহযোগিতা করতে আমরা এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছি! বরং তাঁরা বলেছেন, “মাননীয় মন্ত্রী, আপনার তিনটি অগ্রাধিকারের মধ্যে প্রথম অগ্রাধিকার, অর্থাৎ সবার কাছে কম খরচে ইন্টারনেট পোঁছে দেয়ার পরিকল্পনায়, আমরা আপনার সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করতে চাই”। আইএসপিএবির উপস্থাপনা আর মাননীয় মন্ত্রীর প্রত্যুত্তর, দুটোই ছিল সুচিন্তিত, পরিপক্ব এবং বাহুল্যবর্জিত।

ধরেই নেয়া যায় ১০০ দিনের মধ্যে না হলেও আজ থেকে একবছরের মধ্যে ইন্টারনেট এর দাম কমে যাবে। দুবছরের মাথায় হয়তো গ্রামে গ্রামে ব্রডব্যান্ড পৌঁছে যাবে। পাঁচ বছরের মধ্যেই হয়তো আমরা এমন অবস্থানে পৌঁছে যাব, যখন ‘সবার-কাছে-কম-খরচে-ইন্টারনেট’ এর ইস্যুটি আলোচ্য বিষয় হিসেবে তার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলবে। ঠিক যেমন হাতে হাতে মোবাইল ফোন থাকাটা এখন আর আলোচনা-যোগ্য কোন বিষয় নয়। আমাদের আলোচ্য সন্ধ্যাটিকেও হয়তো কেউ মনে রাখবে না। মনে থাকুক আর নাই থাকুক, কেউ জানুক আর নাই জানুক, স্বীকার করতেই হবে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ‘সবার-কাছে-কম-খরচে-ইন্টারনেট’ এর স্বপ্ন কে যতটা বাস্তব মনে হয়েছিল, ততটা তার আগে কখনোই মনে হয়নি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত