artk
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ২২ মে ২০১৮, ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

জনি নিখোঁজের ঘটনায় চরম অবহেলা ছিল পুলিশের: পিবিআই

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৮২৭ ঘণ্টা, সোমবার ২২ জানুয়ারি ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২২০৯ ঘণ্টা, সোমবার ২২ জানুয়ারি ২০১৮


জনি নিখোঁজের ঘটনায় চরম অবহেলা ছিল পুলিশের: পিবিআই - কোর্ট-কাচারি

সাতক্ষীরার কুখরালীর শেখ মোখলেছুর রহমান জনির ‘নিখোঁজের’ ঘটনায় থানায় মামলা না নেয়ায় জেলার সদর থানার পুলিশের দায়িত্ব পালনে চরম অদক্ষতা ও অবহেলা ছিল। শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য মোটেই কাম্য নয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

২০১৬ সালের ৪ আগস্ট জনি ‘নিখোঁজ’ হন। জনি নিখোঁজের ঘটনা পিবিআইয়ের মাধ্যমে তদন্ত করতে গত বছরের ১৬ জুলাই নির্দেশ দিয়েছিলেন হাই কোর্ট।

গত রোববার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এর শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

পিবিআই বলছে, জনির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জড়িত, নাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কোনো অপরাধী চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা প্রমাণ করা যায়নি। তা ছাড়া তৎকালীন ওসি মো. এমদাদুল হক শেখের পরবর্তী ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লা তার সময়কালে অভিযোগের বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেয়ায় জনির প্রকৃত অবস্থান জানার একটি সুযোগ নষ্ট হয়েছে।

জনির স্ত্রী জেসমিন নাহার বলেছিলেন, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট রাত সাড়ে নয়টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট এলাকা থেকে তার স্বামী মোখলেছুরেকে আটক করেন সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক হিমেল হোসেন। ওই রাতে তাদের বাড়িতে তল্লাশি করে সদর থানা-পুলিশ। ৫, ৬ ও ৭ আগস্ট থানায় গিয়ে তিনি স্বামীর সঙ্গে দেখা করে তাকে খাবার দিয়ে আসেন। ৮ আগস্ট থানায় গিয়ে তিনি স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। থানা থেকে বলা হয়, মোখলেছুর রহমান জনি নামে থানায় কেউ নেই।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে দায় এড়াতে পারে না। কেননা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে গ্রেপ্তার করলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কর্তব্য যথাসময়ে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা। আর কোনো অপরাধী চক্র করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব ভিকটিম ও অপরাধী চক্র উভয়কে খুঁজে বের করে আদালতে উপস্থাপন করা। অন্যথায় এ ধরনের অভিযোগ মিথ্যা কিংবা বানোয়াট হলে তা প্রমাণ করার দায়িত্বও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বর্তায়। এসব কথা বলা হয়েছে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের সুপারিশে।

সাতক্ষীরা জেলার সদর থানা–পুলিশের তৎকালীন ওসি মো. এমদাদুল হক শেখ ও এসআই হিমেল এবং পরবর্তীকালে ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লাসহ অন্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায় নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা উদ্‌ঘাটিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পিবিআই বলছে, এ ঘটানায় উল্টো পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

থানায় রক্ষিত সকল রেজিস্ট্রার পর্যালোচনাকালেও থানা হেফাজতে ভিকটিমকে রাখার বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া যায় না। ফলে ওই এসআই হিমেল জনিকে গ্রেপ্তারপূর্বক থানা হেফাজতে রাখার বিষয়টি অস্পষ্ট। কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী বলেনি জনিকে থানায় ধরে আনা হয়েছে। এসব কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনের পর্যালোচনায়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, জনির খোঁজ না পেয়ে তার স্ত্রী জেসমিন নাহার গত ২ মার্চ হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ৬ মার্চ হাই কোর্ট রুল জারির পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তির বিষয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারকে ব্যাখ্যা জানাতে নির্দেশ দেন। এরপর প্রতিবেদন জমা পড়ে। এতে বলা হয়, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আদালত বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুসারে সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হাবিবুল্লাহ মাহমুদকে ঘটনা তদন্ত করে হাই কোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ কর্তৃক জনিকে গ্রেপ্তার ও তিন দিন পর্যন্ত থানায় আটকে রেখে পরবর্তীকালে অস্বীকারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত