artk
৭ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ১:০৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

একটা ডি-লিট মমতার জীবনকে ‘পূর্ণ’ করে দিলো

বিদেশ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১১২৫ ঘণ্টা, শুক্রবার ১২ জানুয়ারি ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৪১২ ঘণ্টা, শুক্রবার ১২ জানুয়ারি ২০১৮


একটা ডি-লিট মমতার জীবনকে ‘পূর্ণ’ করে দিলো - বিদেশ

একটা ডি-লিট জীবনকে ‘পূর্ণ’ করে দিলো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের। তিনি নিজেও মনে করেন, এর যোগ্য তিনি নন। কিন্তু এই সম্মান তার জীবনকে পূর্ণ করে দিলো।

বৃহস্পতিবার আচার্য কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর হাত থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি-লিট গ্রহণ করে অনুভূতি ব্যক্ত করেন মমতা।

কয়েক মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মুখ্যমন্ত্রীকে ডি-লিট দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলে বিতর্ক শুরু হয়। কেন মুখ্যমন্ত্রীকে ডি-লিট দেয়া হবে, কী তার উদ্দেশ্য, তাই নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়। হাইকোর্টে এ নিয়ে মামলাও চলছে। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী যে নিজেও বিব্রত ছিলেন, সেটা ডি-লিট গ্রহণকালে তার কথায় স্পষ্ট হয়ে গেছে।

ডি-লিট পাওয়ার পরে ভাষণে মমতা বলেন, তার জীবনটাই অবহেলার, অসম্মানের। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন তাকে এই সম্মান দেয়ার চেষ্টা করছেন তা নিয়েও তাকে কম অসম্মান করা হয়নি। তিনি আদৌ এ দিন এই সম্মান গ্রহণ করতে আসবেন কিনা, তা নিয়ে দোটানায় ছিলেন।

মমতার কথায়, “আসার আগে আজকে পার্থদাকে (শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়) বলছিলাম, আমার মনের মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব হচ্ছে যাব কি যাব না। আমি সে সব জায়গায় যেতে চাই যেখানে মিনিমাম সম্মানটুকু পাওয়া যায়। যেখানে সম্মান পাওয়া যায় না সেখানে যেতে চাই না।”

সমাবর্তন শেষে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও একই সুরে জানান, এই ডি-লিট নিয়ে যেভাবে নানা জনে নানা কথা বলছেন তাতে মুখ্যমন্ত্রী আহত।”

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আজ সকালে উনি খুবই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। আমি বলি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ এই সম্মান দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আচার্য তথা রাজ্যপাল তা অনুমোদন করেছেন। সকলে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।”

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বাস করুন আমি কিন্তু ডিগ্রিটা কোনো দিন ব্যবহার করব না। আপনারা আমাকে সাম্মানিক দিয়েছেন, সেটা সাম্মানিকই থাকবে। কিন্তু আপনারা আমার জীবনকে পূর্ণ করে দিয়েছেন।”

এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই সাবেক ছাত্রী মমতা। কখনও ভাবেননি, এভাবে এক দিন সমাবর্তনে ভাষণ দেবেন। আগেও তাকে অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে এ ধরনের সম্মান দিতে চেয়েছিল। তিনি রাজি হননি।

“আমি ক্ষুদ্র মানুষ। আমার এ সবের যোগ্যতা নেই বলেই গ্রহণ করিনি...সারা জীবন লড়াই করতে করতে, মরতে মরতে একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি”- বলেন মমতা।

মুখ্যমন্ত্রীকে ডিলিট দেয়া হয়েছে সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য। বিরোধীরা কটাক্ষ করছেন তা নিয়েই। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, “সরকার এমন এক জনকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করেছে, যিনি কোনও দিন কলেজে পড়াননি। তিনিও প্রতিদানে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন!”

বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, “যে বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকার অনুদান দিচ্ছে, সেই সরকারেরই প্রধানকে বিশ্ববিদ্যালয় ডিলিট দিচ্ছে, অদ্ভুত ব্যাপার!”

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ডি-লিট দিয়েছিল জ্যোতি বসুকেও। নিজেই সেই প্রসঙ্গ এনে বিমানবাবু বলেন, “তখন জ্যোতিবাবু মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না।”

তবে ভিন্ন মত রয়েছে কংগ্রেসের ওমপ্রকাশ মিশ্রের। তার বক্তব্য, “কেন্দ্রীয় সরকারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামলেছেন মমতা। গত ছ’বছর ধরে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তার সমাজসেবার স্বীকৃতি দিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যদি ডি-লিট দেয়, এতে বিতর্কের কী আছে? যদি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ডিলিট দিতে পারে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, তা হলে মমতাকে নয় কেন? রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু এমন ব্যক্তিগত আক্রমণ সমর্থন করছি না।” সূত্র আনন্দবাজার।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত