artk
১০ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

প্রতিবাদে ভিন্ন মাত্রা, মেয়ে কোলে টিভির পর্দায় উপস্থাপিকা

বিদেশ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১১০১ ঘণ্টা, শুক্রবার ১২ জানুয়ারি ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৯৫৭ ঘণ্টা, শুক্রবার ১২ জানুয়ারি ২০১৮


প্রতিবাদে ভিন্ন মাত্রা, মেয়ে কোলে টিভির পর্দায় উপস্থাপিকা - বিদেশ

পাঞ্জাবে আট বছরের শিশু জাইনাবকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় শুরু হয়েছে তীব্র বিক্ষোভ। ‘জাস্টিস ফর জাইনাব’ দাবিতে মুখর গোটা দেশ। এরই মধ্যে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে প্রতিবাদের ধরন। বুধবার পাকিস্তানের সমা টিভি চ্যানেলের উপস্থাপিকা কিরন নাজ খবর পাঠ করার সময়ে নিজের শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে পর্দায় হাজির হন। সে দৃশ্য ভাইরাল হয়ে গেছে।

শুক্রবার খবরের বুলেটিন শুরুর আগে মেয়েকে কোলে নিয়ে তিনি বলেন, “আজ আমি কিরন নাজ নই। আজ আমি এক জন মা। তাই এখানে আমার মেয়েকে নিয়ে বসে আছি।” দেড় মিনিটের বয়ানে কিরন বোঝান, এই ঘটনায় তিনি বিধ্বস্ত। তাঁর কথায়, ‘‘কেউ যখন বলেন, ছোট্ট কফিনগুলোই সব চেয়ে ভারী, ঠিকই বলেন। গোটা পাকিস্তান ভারাক্রান্ত সেই ছোট্ট মেয়েটির কফিনের ভারে।” খবর আনন্দবাজার পত্রিকা।

কিরন বলেন, “জাইনাবের মা-বাবা যখন কন্যার দীর্ঘজীবন চেয়ে সৌদি আরবে প্রার্থনা করছেন, তখন পাকিস্তানে একটা দৈত্য ধর্ষণ করে তার দেহ ছুড়ে ফেলছে আবর্জনার স্তূপে। এর চেয়ে ভাগ্যের পরিহাস আর কী-ই বা হতে পারে! এটা শুধু একটা বাচ্চার ধর্ষণ ও খুন নয়, আমাদের সমাজ, মানবতাই খুন হয়েছে।”

পুলিশের ব্যর্থতায় জাইনাবের বাবা মহম্মদ আমিন ক্ষুব্ধ। প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠেছে সিসিটিভি ফুটেজে মেয়েটিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা গেলেও পুলিশ কিছু করতে পারছে না কেন? ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে, জাইনাবকে বেশ কয়েক বার ধর্ষণ করা হয়েছিল। তার পরে গলা টিপে হত্যা করা হয়। তার মুখে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।

আমিন বলেন, “মেয়েকে যখন অপহরণ করা হলো, তখনই যদি পুলিশ কিছু করত, তা হলে হয়তো ওকে মরতে হতো না।”

পুলিশে আস্থা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “ঘটনার প্রতিবাদ করছে যারা, তাদের উপরে গুলি চালাতে দেরি করেনি পুলিশ। কিন্তু অপহরণকারীকে খুঁজে পেল না।”

পাক সেনাপ্রধান এবং প্রধান বিচারপতির কাছে জাইনাবের খুনের বিচার চান আমিন। মেয়ের মা-ও বলেছেন, “বিচার চাই। আর কিছু বলার নেই।”

এর পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। লাহোর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মনসুর আলি শাহ শাহবাজ বিষয়টিতে নজর রাখছেন। আইএসআই এবং সামরিক গোয়েন্দাদের সেনাপ্রধান বলেছেন অপরাধীকে খোঁজার কাজে পুলিশকে সহায়তা করতে। অপরাধীর খোঁজ দিলে এক কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

সিনিয়র পুলিশ অফিসার জুলফিকার হামিদ বলেন, “এর পেছনে এক সিরিয়াল কিলালের হাত আছে বলে মনে হচ্ছে। আমাদের ধারণা, কাসুরে এমন আরও আটটি খুনে এই অপরাধীর হাত আছে।”

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই নিয়ে গত এক বছরে কাসুরে এই রকম ১২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৫ সালেও কাসুর শিরোনামে এসেছিল। তখন শিশু যৌন চক্র চালানোর অভিযোগে ধরা প়ড়ে বিকৃতকামী এক দল।

বই পড়তে ও লিখতে ভালবাসতো ছোট্ট জাইনাব। অপহরণের আগে তার উর্দু খাতায় কচি হাতে লেখা প্রকাশ করেছে একটি পাক চ্যানেল। জাইনাব নিজের পরিচয় দিয়ে সেখানে লিখেছে, “আমি আম ভালবাসি।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত