artk
৭ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শনিবার ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৫৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

৫৮ শতাংশ সংবাদে সন্দেহ তৈরি করে পাঠকের মনে: এমআরডিআই

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২১০৩ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১১ জানুয়ারি ২০১৮ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১১১৪ ঘণ্টা, শুক্রবার ১২ জানুয়ারি ২০১৮


৫৮ শতাংশ সংবাদে সন্দেহ তৈরি করে পাঠকের মনে: এমআরডিআই - জাতীয়

দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ৫৮ শতাংশ সংবাদের কোনো কোনো ঘটনার বিবরণ পাঠকদের মনে সন্দেহ তৈরি করে। আর মাত্র এসব সংবাদ পুরোপুরি বিশ্বাস করে ১৪ শতাংশ মানুষ।

বৃহস্পতিবার ‘সংবাদবোধ এবং খবরের নীতি-নৈতিকতা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এসব ফলাফল তুলে ধরে বেসরকারি সংগঠন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)। এতে সহায়তা করে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ।

রাজধানীতে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মিলনায়তনে ওই অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন এমআরডিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিবুর রহমান।

পিআইবি, এমআরডিআই ও ইউনিসেফ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সংবাদমাধ্যমের কাজ হচ্ছে জনগণের স্বার্থে সত্য প্রকাশ করা।

ঢাকাসহ দেশের ছয়টি এলাকায় ওই জরিপটি করা হয়েছে। এ জন্য তারা ১৪০ জন উত্তরদাতার কাছ থেকে প্রশ্নমালার ভিত্তিতে মতামত নিয়েছেন। বিষয়ভিত্তিক দলীয় আলোচনা (এফজিডি) করেছেন ৬০টি, ৩৫টি বিশেষ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ও ৬০টি মতবিনিময় সভা করেছেন। গবেষণায় উঠে আসা সুপারিশ হিসেবে তিনি পাঠক ও সংবাদকর্মীদের মধ্যে মতবিনিময়ের আয়োজন করেন। সংবাদবোধ ও নৈতিকতার বিষয়টিকে পাঠ্য বইতে যোগ করা এবং সংবাদমাধ্যমের মালিক ও ব্যাবস্থাপকদের পাঠকদের মতামতগুলো জানানো।

সংস্থাটির পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়, বাকি ২৪ শতাংশ মোটামুটি ও প্রকাশিত সংবাদের মাত্র ৮ শতাংশের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া হয়। বাকি সংবাদে কোনো না কোনো ঘাটতি থেকে যায়।

গবেষণার জরিপে দেখা গেছে, গণমাধ্যমের যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়, তার ৪৪ শতাংশেই গণমাধ্যমের নীতি-নৈতিকতা অনুসরণ করা হয় না। ২৫ শতাংশ অনুসরণ করা হয়। আর ৩১ শতাংশ মানুষ এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে মত দিয়েছেন। ৯৬ শতাংশ অবশ্য মনে করে, সংবাদমাধ্যমের উচিত নীতি-নৈতিকতা মেনে প্রতিবেদন তৈরি করা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির দেয়া বক্তব্যে সংবাদপত্রগুলোর উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, “সংবাদপত্র যাতে মালিকদের প্রতিপক্ষের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের মাধ্যম না হয়, করপোরেটসের মুখপাত্র না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার নামে যাতে মানুষের অধিকার হনন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

দেশের সংবাদমাধ্যম যতটুকু স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করছে, ততটুকু অন্য অনেক দেশেই নেই উল্লেখ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, “আপনারা এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করেন যার সূত্র উল্লেখ করে আমরা কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি। সরকারের কাছে পরিস্থিতির সঠিক চিত্র তুলে ধরতে পারি।”

অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীর বলেন, “একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের এক সাংবাদিক বান্দরবানের থানচিতে সংবাদ সংগ্রহের জন্য গিয়ে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার উচিত ছিল সেখানে যাওয়ার আগে ম্যালেরিয়ার টিকা দেয়া। এভাবে আমাদের নিজেদেরও সংবাদ সংগ্রহের ব্যাপারে প্রস্তুতি নিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “কোনো সংবাদের যদি সূত্র জানা না যায়, তাহলে তা প্রকাশ করাই উচিত না। আর ভুল হলে তা স্বীকার করা উচিত। এতে পাঠকদের আস্থা বাড়ে, কমে না। তবে ভুয়া খবর প্রকাশ আটকানোর নামে গণমাধ্যমকে দমন করা উচিত নয়।”

বার্তা সংস্থা ইউএনবির নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ বলেন, “গণমাধ্যমের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়াতে সুশাসনের অভাব আছে। ফলে এসব গণমাধ্যমে সুসাংবাদিকতা আশা করা কঠিন।”

টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুন, টেলিভিশন চ্যানেল ইনডিপেনডেন্টের প্রধান বার্তা সম্পাদক আশিস সৈকত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক খ আলী আর রাজি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে, চ্যানেল আই অনলাইন সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খানসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে 

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত