artk
৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, রোববার ২২ জুলাই ২০১৮, ৩:৩০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

দুই লাখ লোকের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য
কক্সবাজারে তিনটি ট্যুরিজম পার্ক করছে বেজা

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১০২৩ ঘণ্টা, বুধবার ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৮১৬ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭


কক্সবাজারে তিনটি ট্যুরিজম পার্ক করছে বেজা - বিশেষ সংবাদ
জালিয়ার দ্বীপ (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) দুই লাখ লোকের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে কক্সবাজার জেলায় তিনটি পর্যটন পার্ক স্থাপন করছে।

পার্কগুলো হলো সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, নাফ ট্যুরিজম পার্ক (জালিয়ার দ্বীপ) এবং সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক।

কক্সবাজার জেলায় ১০২৭ একর জমি নিয়ে প্রথম সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক বাস্তবায়ন হবে। এটি পাহাড় ও সমুদ্র সৈকত নিয়ে বহুমুখী ও বৈচিত্র্যপূর্ণ চমৎকার একটি জায়গা। বিশুদ্ধ বাতাস, উঁচু পাহাড়, সমুদ্র এবং হ্রদ সব ধরনের ট্যুরিজম ও বিনোদনের স্থান হিসেবে উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত জায়গা।

সমুদ্র সৈকতে অবস্থিত এ পার্ক থেকে সামুদ্রিক জাহাজে কোরাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে যেতে আধাঘণ্টা সময় লাগবে। পার্কটি টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে ৮ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার বিমান বন্দর থেকে গাড়িতে দুই ঘণ্টার দূরত্বের মধ্যে।

দেশের সবচেয়ে দক্ষিণের ইউনিয়নটির নাম ‘সাবরাং’। কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমী এ সাবরাং। একপাশে নাফ নদী অন্যদিকে সুনীল বঙ্গোপসাগর। সাগরপাড়ের এ জনপদের মানুষের এক সময়ের প্রধান জীবিকা ছিল সাগরে মাছ ধরা।

নাফ ট্যুরিজম পার্ক (জালিয়ার দ্বীপে) নাফনদীর মাঝে চমৎকার একটি দ্বীপ। ২৯১ একর জায়গা নিয়ে এই পার্কটি তৈরি হবে। উঁচু পাহাড় এবং নদী দ্বীপটিকে বিশ্বমানের পর্যটক আর্কষণীয় স্থানে পরিণত করেছে। এই দ্বীপটি রাজধানী ঢাকা থেকে ৪৫০ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম নগরী থেকে ১৮৫ কিলোমিটার দূরে। তবে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে।

ফাইভস্টার হোটেল, ঝুলন্ত সেতু, ৯.৫ কিলোমিটার ক্যাবল কার নেটওয়ার্ক, ভাসমান জেটি, শিশুপার্ক এবং ইকো কটেজ, ওশেনারিয়াম এবং ওয়াটার রেস্টুরেন্ট সুবিধা থাকবে এখানে। পার্কটি প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান করবে।

এই পার্কটি সার্বিক উন্নয়নে প্রায় দুই হাজার পাঁচশ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে টেকনাফ উপজেলায় ২৭১ একর আয়তনের জালিয়ার দ্বীপে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে অবৈধভাবে চিংড়ি ও লবণ চাষ করে আসছিল বদির পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা। মেসার্স জালিয়ারদিয়া লিমিটেডের নামে সরকারের কাছ থেকে ১০ বছরের জন্য জমি ইজারা নিলেও ইজারা ফি পরিশোধ করেননি বদির অনুসারী স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। বকেয়া পরিশোধে বারবার তাগিদ দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। এর পর সরকার আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই দ্বীপ উদ্ধার করে সেখানে ট্যুরিজম পার্ক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

এছাড়া বেজা বিভিন্ন অংশীদারদের নিয়ে সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক স্থাপন করবে। কক্সবাজার থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরত্বে মহেশখালীর নয় বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষিত সোনাদিয়া দ্বীপকে নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করেছে সরকার। সেখানকার ১৩ হাজার একর এলাকায় ইকো ট্যুরিজম গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটক আকর্ষণে আমরা তিনটি পর্যটন পার্ক তৈরির পরিকল্পনা করেছি। প্রতিবছর এতে বাড়তি ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

ট্যুরিজম পার্কের উন্নয়ন সম্পর্কে পবন চৌধুরী বলেন, “বিইজেডএ মনে করে ভ্রমণ এবং পর্যটনে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ১২৭ থেকে দ্বিগুণ বেড়ে ভ্রমণ ও পর্যটন সূচক ডাবল ডিজিটে উন্নীত হবে।”

তিনি বলেন, “এসব ট্যুরিজম পার্ক দ্রুতগতিতে বাস্তবায়নে ভূমি, সড়ক উন্নয়ন এবং সেতু নির্মাণ কাজ চলছে এবং ২০১৮ সালের মধ্যে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হবে।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

 

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত