artk
১০ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

১৬ ডিসেম্বরের তারিখটাই বাঁচিয়ে রেখেছে তাদের

বিদেশ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৪২০ ঘণ্টা, শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২১২ ঘণ্টা, রোববার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭


১৬ ডিসেম্বরের তারিখটাই বাঁচিয়ে রেখেছে তাদের - বিদেশ
একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় লাখো মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে পাড়ি জমায় ভারতে

শনিবার ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। এ দিনটি বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম জানান দেয়ার দিন।

গৌরবদীপ্ত এই বিজয়ের আগে মুক্তি ‍যুদ্ধের নয় মাসে পাক সেনাদের হানায় দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। তারা ফিরে আসেনি স্বদেশে, কিন্তু যুদ্ধের সেই দিনগুলো ভুলতে পারে না। বিজয় দিবস এলেই মনে পড়ে সেইসব দিন। বাংলাদেশ যে তাদের কাছে এখনো ‘দেশ’। এখনো স্মৃতি হাতড়ে বেড়ায় নদিয়া-মুর্শিদাবাদের সেই মানুষগুলো।

দেখতে দেখতে ৪৬টা বছর। আরো একটা বিজয় দিবস। আবার স্মৃতিকাতর, অঘ্রাণের কুয়াশা জমে আছে কাঁটাতারের ওপর।

বড় করে শ্বাস নিলে হারানো পুকুরের জলজ ঘ্রাণ পান তারা। একটু খুঁটিয়ে কান পাতলে ফট ফট স্টেনগানের শব্দ শোনেন। আর সব শেষে সেই সোল্লাশ, নতমস্তক নিয়াজি।

এর পর? বুড়ো আঙুলে উঠোনের মাটি খুঁটে তোলার ফাঁকে অশ্বিনী কর্মকার বলছেন, ‘‘ওই যে বললেন, ফট ফট...এক টানা আওয়াজ আর ঝরাপাতার মতো টুপ টুপ করে পড়ে মরে গেল আমাদের আস্ত পরিবারটা। এগারোটা লোক, ভাবতে পারেন!’’

সেই ছেলেবেলার কথা এখনো মনে আছে অশ্বিনীর। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সেই বাড়িটাও মনে আছে তার। আগুন, ধোঁয়া, কান্না, ভয়- সব কেমন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে, আজও।

চাপড়ার মাধবপুরের চণ্ডী সরকার বলছেন, ‘‘বেলা বাড়তেই খবরটা এসেছিল, পাশের হাদলা গ্রামে পাক সেনা হানা দিয়েছে। মারা গেছে অনেক মানুষ। ছুটলাম ফরিদপুরের ভিটাকুশুলিয়া ছেড়ে, রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে অজস্র লাশ। গুলিতে ঝাঁঝরা, রক্তে ভেসে যাচ্ছে। আর সেই মৃতদেহ আঁকড়ে মানুষের কান্না। অতো সহজে কি ভায়ের রক্তে রাঙা দেশটা ভোলা যায়!’’

খুব শান্ত গলায় তিনি জানান, ১৬ ডিসেম্বরটা ঠিক মনে পড়ে। ফারাক্কার বিন্দুগ্রামের গ্রামীণ চিকিৎসক অশ্বিনীর সেই দেশ ছাড়ার দুপুরটা এখনও ঝলমল করছে, ‘‘গোপনে ঘণ্টা দুয়েক হেঁটে অচেনা এক ঘাটে এলাম আমরা। তার পর, নিঃসঙ্গ নৌকা খুলে ভেসে পড়লাম!’’

কিন্তু পাবনা জেলারই সেতুপাড়ার বাসিন্দা মনোজ সন্ন্যাসীর পালিয়ে আসাটা সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ‘‘খুব কাছ থেকে দেখেছি মৃত্যুকে। এখন মনে হয় আমার বন্ধুগুলো পটাপট প্রাণ দিলো আর আমি পালিয়ে এলাম, ঠিক করিনি!’’

ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেতের ভেতরে লুকিয়ে প্রতিবেশী গ্রামে ঢুকে যখন খান সেনার উড়ন্ত বুলেটে মাথা নুইয়ে শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছিলেন সাতবাড়িয়ার হাইস্কুলে। সে রাতেই গাজনা বিলের কোল ঘেঁষে গ্রাম ছেড়েছিলেন তারা। আর ফেরা হয়নি।

তবে, ডিসেম্বর এলেই ওই ১৬ তারিখের কথা মনে করে দম বন্ধ করে বসে থাকেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘ওই তারিখটাই বাঁচিয়ে রেখেছে!’’ সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত