artk
৪ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১:০১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

নিরপেক্ষ ভোট হলে আ.লীগের অস্তিত্ব থাকবে না: ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০০৮ ঘণ্টা, বুধবার ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২০১২ ঘণ্টা, বুধবার ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭


নিরপেক্ষ ভোট হলে আ.লীগের অস্তিত্ব থাকবে না: ফখরুল - রাজনীতি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভোট হলে আওয়ামী লীগের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে এতো ভয় পান কেনো? কারণ আপনারা জেনে গেছেন যে, আপনাদের পায়ের নিচে মাটি নেই, জনগণের সমর্থন নেই। ভোট যদি নিরপেক্ষ হয় তাহলে আপনাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। যতই অত্যাচার করবেন, যতই নির্যাতন করবেন ততই স্বাধীনতাকামী মানুষ আরো শক্তিশালী হবে।”

বুধবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ‘সাগর-রুনি’ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসক এইচএম এরশাদের পতন দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  হয়।

‘এরশাদের সঙ্গে জোট’ অসম্ভব কিছু নয়: ফখরুল

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “এখনো সময় আছে কথা বলুন, আলোচনা করুন। আলোচনা ছাড়া, কথা বলা ছাড়া গণতন্ত্রকে কখনো সফল করা যায় না। আলোচনার মাধ্যমে আমরা নিশ্চয় একটা পথ বের করতে পারবো, যা জনগণের আকাঙ্খাকে পূরণ করবে।”

তিনি আরও বলেন, “নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। আপনারা যখন ৯৬-তে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়েছেন তখন কি তা সংবিধানে ছিল? কিন্তু আমরা মেনে নিয়েছিলাম। এই সরকার ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচনে আমরা দু’বার, আপনারা একবার সরকার গঠন করেছিলেন। তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচনে আপনাদের সমস্যাটা কোথায়?”

সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কোর্টে নিয়ে হেনস্তা করছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, “কাকে ভয় দেখাচ্ছেন? খালেদা জিয়াকে? যিনি নয় বছর স্বৈরাচারের সঙ্গে কোনো আপোস করেননি। ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের সঙ্গে কোনো আপোস করেননি। আপোস করলে এতোদিন প্রধানমন্ত্রী থাকতেন। যতই অত্যাচার নির্যাতন করবেন ততই জনগণের প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হবে।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, “দেশের সামনে বিরাট সঙ্কট। এতো বড় সঙ্কট আর আসেনি। আমাদের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব বিপন্ন, গণতন্ত্র বিপন্ন। মানুষের নিরাপত্তা নাই। আজকে যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ না হই, একজোট হয়ে অপশাসন-দুঃশাসনকে পরাজিত করতে না পারি, আমাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। তাই অুনরোধ জানাতে চাই আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে এবং জনগণের দিকে তাকিয়ে সমস্ত দ্বিধা ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করা এবং সরকারকে বাধ্য করা নির্বাচন দিতে।”

সদ্য নিখোঁজ হওয়া সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মারুফ জামানের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “পত্রিকায় এসেছে, একজন সাবেক রাষ্ট্রদূত গত মঙ্গলবার থেকে নাই। আপনারা এই গায়েব শুরু করেছেন গত ৬ থেকে ৭ বছর ধরে। একে একে আমাদের সংসদ সদস্যদের গায়েব করেছেন, কমিশনারকে গায়েব করেছেন, বুদ্ধিজীবীকে গায়েব করেছেন, শিক্ষককে গায়েব করেছেন, ছাত্র নেতা-যুব নেতাদের গায়েব করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এদেশে এখন আর কেউ নিরাপদ নয়। এদেশের ইতিহাসকে আপনারা বিকৃত করছেন, ইতিহাসকে গায়েব করে দিয়েছেন। এখন বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে গায়েব করছেন।”

সাবেক ছাত্রনেতা নাজিম উদ্দিন আলমের পরিচালনায় ও ডাকসুর সাবেক ভিপি বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- সাবেক ছাত্র নেতা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, কামরুজ্জামান রতন, রফিক সিকদার, খোন্দকার লুৎফর রহমার, আসাদুর রহমান আসাদ, সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত