artk
৪ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:৫৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

কুয়াশার ডাকে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

মাহমুদুল হাসান, গাজীপুর | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৮১১ ঘণ্টা, বুধবার ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২১৫৬ ঘণ্টা, বুধবার ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭


কুয়াশার ডাকে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা - ফিচার

বৈচিত্র্যপূর্ণ ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। একেক ঋতুর রয়েছে একেক বৈশিষ্ট্য। তেমনি এক ঋতু হেমন্ত। এই ঋতুর শেষ হওয়ার আগেই আগমন ঘটে শীতের। এই শীতে পাওয়া যায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু পানীয় খেজুরের রস।

শীতের সকালে রোদে বসে মিষ্টি খেজুরের রস পানের স্বাদই আলাদা। মৌসুমের শুরুতেই গাজীপুরের শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় রস সংগ্রহে নেমে পড়েছেন গাছিরা।

প্রতিদিন সকালে গাছিদের খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে দেখা যায়। বর্তমানে এই মৌসুমি পেশার ওপর অনেকে নির্ভরশীল। তবে পূর্বের তুলনায় খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ঐতিহ্য দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।

গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে হলে প্রথমে গাছের মাথার অংশ পরিষ্কার করতে হয়। পরে বিশেষ কায়দায় অল্প কেটে সাদা অংশে বাঁশের নল ও গাছের বুক চিরে ছোট দুটি খুঁটি গেড়ে তাতে ছোট-বড় মাটির কলসি ঝুলিয়ে রস সংগ্রহ করা হয়।

গাছিরা প্রতিদিন বিকেলে গাছে কলসি বাঁধেন। সকালে রস নামিয়ে কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করেন। আবার কেউ কেউ গুড় তৈরি করেন। রস দিয়ে তৈরী হয় মুখরোচক পায়েস ও পিঠা।

মাওনা ইউনিয়নের ফুলানিরসিট গ্রামের গাছি মনির হোসেন বলেন, “আমি ২০-২৫ বছর ধরে মৌসুম আসলে খেজুরের রস সংগ্রহ করি। এবার ৬০-৭০টি গাছের দায়িত্ব নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “সাধারণত একটি খেজুর গাছ রস দেয়ার উপযোগী হতে ৫-১০ বছর সময় লাগে। রস পাওয়া যায় ২৫ বছর পর্যন্ত। প্রতিটি গাছ থেকে কী পরিমাণ রস পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে গাছির দক্ষতার ওপর।”

গাছিরা জানান, প্রতিটি গাছ থেকে দৈনিক তিন-চার কেজি রস সংগ্রহ করা যায়। কাচা রস প্রতি কেজি ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

খেজুরের রসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ খনিজ। রস টিনের ডিঙিতে ঢেলে বড় চুলায় জ্বাল দিয়ে তৈরি হয় পাটালি গুড়, ভাঁপা পিঠা ও জনপ্রিয় রসের পিঠা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএইচ/এসজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য