artk
৪ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পর খালটি এখন ময়লার ভাগাড়!

সো‌হেল রানা খান, মা‌নিকগঞ্জ | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭১৯ ঘণ্টা, বুধবার ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৭৫২ ঘণ্টা, বুধবার ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭


১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পর খালটি এখন ময়লার ভাগাড়! - জাতীয়

মানিকগঞ্জ শহর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রধান খালটি প্রায় ১৯ কো‌টি টাকা ব্যয় করে সংস্কার করা হলেও সেটি এখন এক প্রকার ময়লা অবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ফলে নোংরা খালটি বর্তমানে মা‌নিকগঞ্জ শহরবাসীর জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ খালটি ঠিকমত রক্ষণাবেক্ষণ করলে এটি হতে পারত এই শহরের সৌন্দর্যের প্রতীক ও স্থানীয়‌দের অবসর ও বি‌নোদনের জায়গা।

মা‌নিকগঞ্জ শহর দি‌য়ে প্রবা‌হিত খালটির দু’পাশে রয়েছে- রাস্তা, বাসাবাড়ি, অফিস, শপিংমলসহ দোকানপাট। খালটির পাশেই রয়েছে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের বাসভবন ও সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ, মহিলা কলেজ, সদর থানাসহ সরকারি বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান। খালটির দৈর্ঘ্য ৬১৫০ মিটার।

জানা গেছে, ২০০৮ সালের এপ্রিলে খালটি সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়। কালীগঙ্গা নদী হতে বকজুরী ব্রিজ পর্যন্ত খালের ড্রেজিং, দুপারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, দুপারের কিছু অংশে ব্লক স্থাপন, বাকি অংশে বালু ও সিমেন্টের মিশ্রণে তৈরি বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় ১৮ কোটি ২৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬৭৭ টাকা খরচ করে এলজিইডি ও পৌরসভা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। তার মধ্যে সেওতা এলাকা থেকে বাজার ব্রিজ পর্যন্ত ও বাজার ব্রিজ থেকে হুজুরের বাড়ি পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪০ মিটারে ব্লক স্থাপন করা হয়। 

সংস্কারের পর কয়েক মাস খালটি তার সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারলেও পরে অসচেতন মানুষের কারণে এক সময় আর্বজনার ভাগাড়ে পরিণত হয়।

সরেজমিনে মা‌নিকগঞ্জ খাল পাড় এলাকা থেকে বাজার ব্রিজ পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, খালটির দু’পাশে থাকা বাসা, শপিংমল, মিষ্টির দোকান এবং খাবার হোটেলের সমস্ত ময়লা আর্বজনা খালটিতে ‌ফেলা হ‌চ্ছে। খা‌লের মা‌ঝে ও খা‌লের পা‌ড়েই জমা ক‌রে রাখা হ‌য়ে‌ছে ময়লার স্তুপ। পা‌নি কম ও কচু‌রিপানায় প‌রিপূর্ণ থাকায় মায়লা ফেলার কারণে খা‌লের পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

শহ‌রের গঙ্গাধর পট্টির বা‌সিন্দা সা‌ব্বিরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন আমা‌দের এই খালের পাশ দিয়ে যাতায়াত কর‌তে হয়। অনেক সময় খালের ময়লার পচা গ‌ন্ধের কার‌ণে যাতায়াতের সময় নাক চেপে যাতায়াত করি। ময়লা আবর্জনায় খালটি এখন মশা মাছি উৎপাদ‌নের কারখানায় পরিণত হয়েছে।”

মা‌নিকগঞ্জ শহ‌রের বা‌সিন্দা রেজা জামান জিপু জানান, ক‌য়েক বছরে আ‌গে খ‌াল সংস্কা‌রের সময় চলাচ‌লের জন্য খা‌লের পা‌রে রাস্তা করা হ‌য়ে‌ছিল। কিন্তু বর্তমা‌নে সে রাস্তার ওপর অ‌বৈধ স্থাপনা, হো‌টেল ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অর্বজনা ফে‌লা হচ্ছে। ফলে প্রয়োজন ছাড়া কেউ খা‌লের পাড় দি‌য়ে যায় না।

মা‌নিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম বিষয়‌টি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “মা‌নিকগঞ্জ শহর দি‌য়ে প্রবা‌হিত খালটিতে পানি প্রবাহ বজায় রাখা গেলে এবং লোকজনকে ময়লা আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত রাখা গেলে খালটির পরিপূর্ণ সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন কয়েকবার সার্ভে করে গেছে। আশা করি আমি মেয়র থাকা অবস্থায় মানিকগঞ্জবাসীকে খালটি সুন্দরভাবে উপহার দিতে সক্ষম হবো।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসআরকে/এসজে/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত