artk
৪ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১:০৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাজধানীর সবজির বাজার: রাস্তার এপারে এক দাম ওপারে আরেক

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ০৮৪৩ ঘণ্টা, শুক্রবার ০১ ডিসেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১০১৪ ঘণ্টা, শনিবার ০২ ডিসেম্বর ২০১৭


রাজধানীর সবজির বাজার: রাস্তার এপারে এক দাম ওপারে আরেক - অর্থনীতি

নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিরতা অনেক আগে থেকেই। কিন্তু কোনো কোনো সময় তা আকাশ পাতাল পার্থক্যে পৌঁছায়। রাজধানীর এক  বাজারের সঙ্গে অন্য বাজারের দামের মিল নেই। রাস্তার এপারের বাজারে যে দাম, রাস্তা পার হলেই প্রতিটি সবজির দামে পাঁচ থেকে দশ টাকার ব্যবধান। 

রায়ের বাজারসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে শীতের শাকসবজি বেশ কম দামেই মিলছে। এর মধ্যে বেগুন ৪০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৩০ টাকা, শিম ৪০-৪৫ টাকা, লাল বরবটি ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেশির ভাগ সবজিই মিলছে ৪০ টাকার মধ্যে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকারভেদে প্রতিটি ২০-৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এই জায়গা থেকে আড়াই-তিন কিলোমিটার দূরে ঝিগাতলায় সালেক গার্ডেন কাঁচাবাজারে বিক্রেতারা বিভিন্ন ধরনের শাক প্রতি আঁটি বিক্রি করছে ২০-২৫ টাকায়। কোনো কোনো দোকানি কারওয়ান বাজার থেকে, আবার কেউ কেউ সাদেক খান কৃষি মার্কেট থেকে সবজি কিনে আনে। তবে সব দোকানিই প্রায় একই দামে এগুলো বিক্রি করছে। সালেক গার্ডেন কাঁচাবাজারে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া ফুলকপি ও বাঁধাকপি ২০-৩০ টাকা, শিম ৫০-১০০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৫০ টাকা, বেগুন ও বরবটি ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

দুই-তিন টাকা মূল্যের শাক ২০-২৫ টাকায় বিক্রি করার কারণ জানতে চাইলে সবজি বিক্রেতা আরজু মিয়া বলেন, “মার্কেটে অনেক ভাড়া দিতে হয়। শাক এক দিনের বেশি রাখা যায় না, পচে যায়। সে কারণে একটু বেশি দামে বিক্রি করতেই হয়। কারণ যেদিন বিক্রি না হয়, সেদিন সব ফেলে দিতে হয়।”

ক্রেতা রাজিব খান বলেন, ‘‘এখানে কস্টিংয়ের কারণে সব মিলিয়ে যে দাম নেয়ার কথা সেটা নিচ্ছে না বিক্রেতারা। তারা এখানে দ্বিগুণ, তিন গুণ পর্যন্ত লাভ করছে। এর কারণ তাদের বলার কেউ নেই। কিছুদিন আগেও তো চালের দাম নিয়ে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের নাকানিচুবানি দিয়ে ছাড়ল। এদের অতিমুনাফার ওপর যদি শাসন করার কেউ থাকত তাহলে ক্রেতারা হয়তো স্বস্তি পেত।’’

ওই এলাকায় দেখা গেছে, মার্কেটের ভেতরের দোকান এবং বাইরে ভ্যানের বিক্রেতাদের পণ্যের দাম একই। ঝিগাতলার ওই বাজারের আশপাশেও অনেকে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করছে। ওই ভাসমান দোকানগুলোর নির্দিষ্ট কোনো ভাড়া নেই। ভ্যানের খরচ এবং জায়গা ম্যানেজ করতে কিছু ‘বকশিশ’ দিতে হয়। তার পরও তারা একই দামে পণ্য বিক্রি করছে। অনেকে বলছে, এটা প্রমাণ করে শুধু খরচের কারণেই নয়, অতিমুনাফার লোভেই ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম ঠিক করে নেয়।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, একই পণ্য এক বাজারে পাঁচ টাকা, আরেক বাজারে ২০-২৫ টাকা-এটা শুধু যে ব্যবসায়ীদের খরচের ওপর নির্ভর করে হচ্ছে তা নয়। অনেকটাই খুশিমতো লাভ করার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্রেতা ও বাজার বিশ্লেষক মনে করছেন, দামের তারতম্য হলেও এসব পণ্য সবাইকেই কিনতে হয়। এই সুযোগে বাজারগুলোতে সব দোকানি মিলে একটি নির্দিষ্ট দাম ঠিক করে নেয়। এখানে প্রকৃত লাভের চিন্তার চেয়ে অতিমুনাফার লোভ বেশি কাজ করে। এ কারণে ঢাকার ভেতরে ভোক্তারা অনেকটা জিম্মি হয়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহ বাড়লে দাম কমার যে যুক্তি দেখানো হয় সেটাও এখানে খুব ধীরে এবং কম পরিমাণে কাজ করে।

শুধু ওই দুটি বাজারেই নয়, রাজধানীর ভেতরের বিভিন্ন বাজার এবং ঢাকার আশপাশের এলাকায় বেশিরভাগ পণ্যের দামেই বড় তারতম্য দেখা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘‘ভোগ্যপণ্যের বাজারে ব্যবসায়ীরা অনেকটা ইচ্ছামতো দাম ঠিক করে, এটা জানা। এখানে মনিটরিং একেবারেই নেই। যদিও এখানে মনিটরিং করাও একটা কষ্টকর বিষয়। ব্যবসায়ীরা যার যার মতো করে দাম ঠিক করলেও তো কেউ বলার নেই। তাই তারা সুযোগ পেলেই ভোক্তাদের জিম্মি করে। এই মানসিকতা থেকে তাদের ফেরানোর উদ্যোগ নিতে হবে।’’

শুধু যে বাজারভেদে দামের পার্থক্য সেটাই নয়, পাইকারি বাজারগুলোতেও দামের বেশ পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন রকমের শাক পাইকারি বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে আট টাকায়। আবার বসিলার কাছের পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে তিন টাকা করে। কারওয়ান বাজারে নতুন আলুর পাইকারি দর ১৮-২০ টাকা। আড়ত থেকে বেরিয়ে দুই হাত বদল হয়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছতে সেটা হয়ে যাচ্ছে ৬০ টাকা। আবার এই আলু যাত্রাবাড়ীতে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১৪-১৫ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের আড়তদার রেজা বলেন, ‘‘আমরা তো কোনো পণ্যেই আহামরি লাভ করতে পারি না। এখান থেকে বের হয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছে যায়। তারপর খুচরা বিক্রেতার কাছে। সেখানে যেতে যেতে দ্বিগুণ হলে আমাদের কী করার আছে?’’

বাজারভেদে দামের দু’তিন টাকা পার্থক্য হতে পারে বলে জানান তিনি।

সারা দেশে বাজার মনিটরিংয়ে নিয়মিত কাজ করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সাধারণত দ্রুত পচনশীল নয় এমন পণ্যের মান, দাম ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর বলেন, ‘‘দ্রুত পচনশীল পণ্যগুলো নিয়ে আসলে কাজ করার সুযোগ কম। এগুলো নিয়ে মনিটরিং করা যায় না। এগুলোর দাম চাহিদা ও সরবরাহের ওপরই নির্ভর করে। তবে অনেকেই অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করে, এটা সত্য। আমরা আলোচনা করব, দেখি এ বিষয়ে মনিটরিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায় কি না।’’

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য