artk
৪ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:৫০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

‘প্রাথমিক শিক্ষায় পরীক্ষার কোনো আবশ্যকতা নাই’

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৬৩৫ ঘণ্টা, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২২০৮ ঘণ্টা, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭


‘প্রাথমিক শিক্ষায় পরীক্ষার কোনো আবশ্যকতা নাই’ - জাতীয়

প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরীক্ষার কোনো আবশ্যকতা নাই বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

তিনি বলেছেন, “শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য ভালো শিক্ষা পাওয়া নয়, তাদের লক্ষ্য কেবল প্রথম হওয়া। গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা এখন পরীক্ষাকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। প্রাথমিক স্তরে পরীক্ষার কোনো আবশ্যকতা নাই।”

বুধবার সকালে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘সহজপাঠ: শিশুর সামগ্রিক বিকাশ’ শীর্ষক এক আলোচনা চক্রে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রাথমিক পর্যায়ের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, “বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা শোচনীয়। এখানে শিশুদের পরীক্ষার নামে রীতিমতো পীড়ন করা হচ্ছে। এতে বিন্দুমাত্র আনন্দযোগ নেই। শিক্ষা ব্যবস্থা এখন পরীক্ষাসর্বস্ব, জ্ঞান ও শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষার্থীর সম্পর্ক আমরা নষ্ট করে ফেলেছি।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা কমিশন যখন ছড়া, চারুকলা, নৃত্য শিক্ষা ব্যবস্থায় যোগ করার কথা বলছে, তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো ভাবনাচিন্তাই নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের সেই অযৌক্তিক কথায় কর্ণপাত করল। আমরা যতবার পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ ও বদল করতে চেয়েছি, ততবারই আমাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম, পাবলিক পরীক্ষার নম্বরের একটি অংশ স্কুল থেকে আসবে। কিন্তু তা করতে পারিনি।”

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে তারা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থায় ‘নৈতিক শিক্ষা’কে অগ্রাধিকার দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে মাদরাসা ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার কর্মকর্তারা তাদের সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে ধর্মভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রণয়ন করেন।”

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনামলে তার এক পরিচিতের জন্য পরীক্ষা পদ্ধতিতে নতুন ধারা প্রবর্তন করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, “সে সময়ে নিয়ম হল, কেউ যদি পাবলিক পরীক্ষায় কোনো একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন তবে পরবর্তী বছরে সেই বিষয়েই পরীক্ষা দিলেই চলবে। অন্য কোনো বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে না তাকে। মজার ব্যাপার হল, এরশাদ সাহেবের কোনো এক পরীক্ষার্থী আত্মীয়ের জন্য এই পদ্ধতি গৃহীত হয়েছিল।”

সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়পক্ষ এখনো খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না বলেও মনে করেন তিনি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “শিশুকে তার চিন্তার স্বাধীনতা দিতে হবে। তার ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে না দিয়ে সে কি বলতে চায়, তা শুনতে হবে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিয়ে শিশুরা নিজেরা কি ভাবছে, তা আমাদের শুনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শিশুর মেধা মূল্যায়নের বিভিন্ন প্রক্রিয়া থাকলেও আমরা সেই পরীক্ষা পদ্ধতির আশ্রয় নিচ্ছি। শিশুরা স্কুলে এসে কোথায় আত্মবিশ্বাসী হবে, তা না উল্টো মুখস্থ বিদ্যায় জিপিএ-৫ পাওয়ার একটা অনৈতিক প্রতিযোগিতায় নেমেছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজির অধ্যাপক শাহীন ইসলাম বলেন, “মেধাবী শিশুদের বাছাই করতে গিয়ে আমরা ক্রমেই তাদের অবহেলা করছি। তাদের সঙ্গে মেধাবীদের একটা বড় দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। ওদেরকেও বলতে হবে, ওরা স্পেশাল। ওদের গড়ে তোলার জন্য একটি আলাদা কাঠামো প্রণয়ন করা দরকার।”

কবি, সাংবাদিক আবুল মোমেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য আরও বক্তব্য দেন- শিশু অধিকারকর্মী নুরুন্নাহার নূপুর, লেখক আনিসুল হকসহ ‘সহজপাঠ’ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবকরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত