artk
৪ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১:০২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি
২ কোটি টাকা চাঁদা চেয়েছিলে পুলিশ-গোয়েন্দা কর্মকর্তা

মা‌নিকগঞ্জ সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১০০১ ঘণ্টা, শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৪০২ ঘণ্টা, শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৭


২ কোটি টাকা চাঁদা চেয়েছিলে পুলিশ-গোয়েন্দা কর্মকর্তা - জাতীয়
ফাইল ফটো

মানিকগঞ্জে স্বর্ণের দোকানে নিরাপত্তা দেয়ার কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা কিছুদিন আগে মানিকগঞ্জের সোনা ব্যবসায়ীদের ডেকে নিয়ে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। বলেন, “অবৈধ সোনার ব্যবসাসহ নানা কারণে তাদের সামনে বিপদ। আর সেই বিপদ কাটাতে গেলে ওই পরিমাণ টাকা দিতে হবে। এ ঘটনার কয়েক দিনের ব্যবধানে বুধবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ শহরের স্বর্ণকারপট্টিতে নাগ জুয়েলার্সে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।”

মানিকগঞ্জ স্বর্ণশিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানিয়ে বলা হয়, পুলিশ কর্মকর্তার চাঁদা দাবির পর থেকেই ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন স্বর্ণকারপট্টির ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে এই ডাকাতির ঘটনা তাদের আতঙ্কিত করে তুলেছে। তারা বলেছে, খোদ পুলিশের পক্ষ থেকে এমন চাঁদা দাবির বিষয়টি নিয়ে তারা ভয়ে মুখ খুলতে পারছিল না। এবার ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নাগ জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ ডাকাতির পর অস্তিত্ব রক্ষার্থে তারা সরব হয়েছে। ভয় কাটিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে পুরো বিষয়টি সাংবা‌দিক‌দের কাছে প্রকাশ করেছে তারা।

গত বুধবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ শহরের স্বর্ণকার পট্টির নাগ জুয়েলার্সে প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখিয়ে ৭শ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় একদল যুবক। লুট করে চলে যাওয়ার সময় তারা বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে একটি প্রাইভেট কার ও একটি ট্যাক্সিতে করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার দিনই নাগ জুয়েলার্সের মালিকের বড় ভাই চন্দন নাগ দাবি করে, এটি একটি পরিকল্পিত ডাকাতি। এর সাথে ডিবি পুলিশ জড়িত।

এই ডাকাতির ঘটনার ভিডিওতে ডাকাত দলের সদস্যরা চিহ্নিত হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হলেও ৬০ ঘণ্টায়ও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। উদ্ধার হয়নি লুণ্ঠিত মালামাল।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ডাকাতির ঘটনার এক সপ্তাহ আগে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল আওয়াল রাসেল জেলা স্বর্ণ শিল্পী সমিতির কর্মকর্তাদের নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে চাঁদা দাবি করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন এনএসআই মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ মনোয়ার।

জুয়েলার্স মালিক সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রঘুনাথ সাহার অভিযোগ, গোয়েন্দা কর্মকর্তা আসিফ মনোয়ার প্রথমে জুয়েলারি দোকানে গিয়ে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখান। এরপর ৮ ও ৯ নভেম্বর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল আওয়াল তার কার্যালয় ডেকে নেন তাদের।

নিজের অফিসে বসেই ওই পুলিশ কর্মকর্তা ব্যবসায়ী নেতাদের বলেন, ‘আপনারা অবৈধ স্বর্ণের ব্যবসা করছেন। ডাকাতি ও চুরির স্বর্ণ কিনছেন। স্বর্ণালঙ্কার তৈরিতে অবৈধভাবে এসিড ব্যবহার করছেন। আবার ভারতীয় কারিগর এনে অলংকার বানাচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে। আপনাদের সামনে বিপদ। বিপদ কাটাতে হলে দুই কোটি টাকা লাগবে।’

স্বর্ণশিল্পী সমিতির ওই দুই নেতা বলেন, অর্থ দেয়া সম্ভব নয় জানিয়ে আমরা ফিরে আসি। পরদিন আবারও ডেকে পাঠানো হয় আমাদের দুজনকে। এবার হুমকি দিয়ে আমাদের সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়।

সভাপতি আতাউর রহমানকে উদ্দেশ করে গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, “আপনি সাততলা বিল্ডিং করলেন কিভাবে?”

এ দফায় অবশ্য এক কোটি থেকে ৭০ লাখ টাকায় নেমে আসেন ওই দুই কর্মকর্তা। সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে জানানো হবে জানিয়ে ওই ব্যবসায়ী নেতারা ফিরে আসেন। পরে মিটিং ডেকে তারা অন্য সদস্যদের বিষয়টি জানান। কিন্তু বেশিরভাগ সদস্যই এই চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন।

এনএসআই কর্মকর্তা আসিফ মনোয়ারের স্বর্ণকারদের কাছে চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় এনএসআইয়ের উপপরিচালক আব্দুল কাদের খানের কাছে। তিনি বলেন, “আসিফ মনোয়ারের বিষয়টি আমি শুনেছি। তিনি ছুটি নিয়ে বিদেশে অবস্থান করছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।”

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল আওয়াল চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে জানায়, স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাজকর্মের বিষয়ে জানতে আমার কার্যালয়ে তাদের ডাকা হয়েছিল। তবে তার নাম ভাঙিয়ে অন্য কেউ চাঁদা দাবি করতে পারে।

মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান জানায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল আওয়াল খানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে। দায়ী সে যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসআরকে/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত