artk
৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ১০:২৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বিদ্যুৎ চুরির সাজা বাড়িয়ে সংসদে বিল উত্থাপন

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২১৩২ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৪ নভেম্বর ২০১৭


বিদ্যুৎ চুরির সাজা বাড়িয়ে সংসদে বিল উত্থাপন - জাতীয়

ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কার সাধন ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত ও বিদ্যুৎ চুরি এবং এ সংক্রান্ত অপরাধে সুনির্দিষ্ট দণ্ডসহ প্রয়োজনীয় বিধানের প্রস্তাব করে আজ সংসদে বিদ্যুৎ বিল-২০১৭ উত্থাপন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিলটি উত্থাপন করেন। ১৯১০ সালের বিদ্যুৎ আইন রহিত করে নতুন করে এ বিল আনা হয়েছে। ফলে বিলে বিদ্যমান আইন রহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন, সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার সংস্কার, উন্নত প্রযুক্তির প্রবর্তন ও ক্রয়-বিক্রয় এবং সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার এ লক্ষ্যে গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে একটি ইন্ডিপেনডেন্ট সিস্টেম অপারেটর প্রতিষ্ঠার বিধানেরও প্রস্তাব করা হয়। এ অপারেটর সিস্টেম চাহিদা অনুযায়ী ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে লোড বরাদ্দ করবে।

বিলে লাইসেন্স সরবরাহ এলাকায় বা লাইসেন্সের শর্তানুযায়ী সরবরাহ এলাকার বাইরে সরবরাহ লাইন স্থাপনে প্রয়োজনীয় পূর্তকর্ম সম্পাদন, রাস্তাসহ অন্যান্য স্থাপনার ওপর বা নিচ দিয়ে পূর্তকর্ম সম্পাদনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেয়ার বিধানের প্রস্তাব করা হয়।

বিলে বিদ্যুৎ লাইন বা প্ল্যান্ট পরিবর্তন, এরিয়্যাল লাইন স্থাপন, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবাদানকারী সংস্থাকে নোটিশ, ভূগর্ভস্থ নর্দমাসহ বিশেষ এলাকায় সরবরাহ লাইন স্থাপন এবং পূর্তকর্ম সম্পাদন, ক্ষতিপূরণ প্রদান, পথের অধিকার, ভূমি অধিগ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া বিলে বিদ্যুৎ সরবরাহ, মিটার স্থাপন, সংরক্ষণ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ ও পুনঃসংযোগ, সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রাখা, সরবরাহ এলাকার বাইরে বিদ্যুৎ সরবরাহ, সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শক এবং পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধানের প্রস্তাব করা হয়।

বিলে বিদ্যুৎ চুরি, কৃত্রিম পদ্ধতি স্থাপন, বিদ্যুৎ অপচয়, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চুরি অপসারণ বা বিনষ্ট, চুরির মালামাল দখলে রাখা, মিটার, পূর্ত কর্মে প্রতিবন্ধকতা ও অননুমোদিত ব্যবহার, বিদ্যুৎ স্থাপনার অনিষ্ট সাধনসহ অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট দন্ড প্রদানের বিধান করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও কোম্পানির পক্ষ থেকে সংঘটিত অপরাধের জন্য পৃথক শাস্তির বিধানের প্রস্তাব করা হয়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংসদে রিপোর্ট দেয়ার জন্য বিলটি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়।

জানা গেছে, বিলে বিদ্যুৎ চুরির জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা চুরি হওয়া বিদ্যুতের মূল্যের দ্বিগুণ বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার (যেটা বেশি হয়) বিধান রাখা হয়েছে। আগে এ অপরাধের জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ স্থাপনায় নাশকতা করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বিদ্যুৎ চুরির জন্য কোনো যন্ত্র বা ডিভাইস ব্যবহার করলে তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড, কোনো ব্যক্তি শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ চুরি করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা চুরি হওয়া বিদ্যুতের মূল্যের দ্বিগুণ বা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে বিদ্যুৎ অপচয়ের জন্য এক থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কেউ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চুরি বা অপসারণ করলে দুই থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকা, চুরি করা যন্ত্রপাতি বা বিদ্যুতের লাইনের সামগ্রী দখলে রাখলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই—এমন অপরাধে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত