artk
৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

‘গালি খাওয়া’ এক ভিলেন

রুদ্র রুদ্রাক্ষ | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৪২৫ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৪ নভেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৭০১ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৪ নভেম্বর ২০১৭


‘গালি খাওয়া’ এক ভিলেন - বিনোদন

প্রথমেই একটি গল্প শুনে নেয়া যাক। সময় ১৮৭২ সালের ডিসেম্বরের এক রাত। স্থান কলকাতার ন্যাশনাল থিয়েটার। প্রথমবারের মতো মঞ্চায়ন হতে যাচ্ছে বিখ্যাত নাটক নীলদর্পণ। দর্শকের আসনে উপস্থিত কলকাতার নামী ব্যক্তিত্বরা। আছেন স্বয়ং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

নাটকের মাঝে মেজাজ হারালেন বিদ্যাসাগর। জুতো ছুড়ে মারলেন নাটকের ভিলেন অত্যাচারী নীলকর সাহেব মিস্টার উডের চরিত্রে রূপদানকারী অভিনেতা অর্ধেন্দুশেখর মুস্তাফির দিকে। অভিনয় বন্ধ করে সেই জুতো মাথায় তুলে নেন স্বনামধন্য অভিনেতা। কারণ, এ যে ছিল তার কাজের পরম পুরস্কার।

বাংলা সিনেমার দাপুটে খল অভিনেতা ওয়াসীমুল বারী রাজীবের ক্ষেত্রেও একই কথা মিলে যায়। তার রূপদান করা চরিত্রগুলোকে দেখে কত দর্শক যে গালিগালাজ করেছেন তার তো কোনও সীমা-পরিসীমা নেই। এটাই তো একজন অভিনেতার সার্থকতা।

শক্তিশালী খল অভিনেতা রাজিবের জন্ম ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি পটুয়াখালী জেলায়। চিত্রপরিচালক কাজী হায়াতের খোকন সোনা নামের চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অভিনয়শৈলী দিয়ে পৌঁছে যান অনন্য উচ্চতায়।

খল অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পেলেও অভিনয়ের প্রতিটা শাখায় নিজের দক্ষতা দেখাতে সক্ষম ছিলেন রাজিব। যদিওবা তার অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল নায়ক চরিত্র দিয়ে। কিন্তু এতে তিনি খুব বেশি জনপ্রিয়তা বা গ্রহণযোগ্যতা পাননি।

কেয়ামত থেকে কেয়ামত, অন্তরে অন্তরে, হাঙর নদী গ্রেনেড, প্রেম পিয়াসী, সত্যের মৃত্যু নেই, স্বপ্নের পৃথিবী, আজকের সন্ত্রাসী, দুর্জয়, দেনমোহর, স্বপ্নের ঠিকানা, মহামিলন, বাবার আদেশ, বিক্ষোভ, অন্তরে অন্তরে, ডন, দাঙ্গা, ভাত দে, অনন্ত ভালোবাসা, রাজা শিকদার ও বুকের ভেতর আগুনের মতো অসম্ভব জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন রাজীব।

অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন রাজীব। সেই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রাজীব সম্পর্কে বলতে গিয়ে চলচ্চিত্র অভিনেতা ফারুক বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ ছিল দুই মেরুর। কিন্তু সম্পর্ক ছিল একজন শিল্পীর সঙ্গে আরেকজন শিল্পীর যা থাকে। রাজনৈতিক আদর্শগত কারণে রাজীবকে কোনওদিন ভেদাভেদ করতে দেখিনি।”

তিনি আরও বলেন, “প্রকৃত শিল্পীর যা থাকে রাজিবের মধ্যেও তাই ছিল। বড় ভাই হিসেবে আমাকে খুব সম্মান করত। আর ছোটদের সঙ্গেও ওর ব্যবহার ছিল উল্লেখ করার মত। পর্দায় যে দাপুটে ভিলেন, পর্দার বাইরে সে ছিল অনুসরণ করার মত একটা চরিত্র।”

১৩ বছর আগে ঠিক আজকের এই দিনেই ভক্তদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান শক্তিমান এই খল অভিনেতা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/একিউএফ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য