artk
১০ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৪:২৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

লক্ষ্মীপুরে চিকিৎসকরা ফি নেন ইচ্ছেমতো

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৩২৫ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৪ নভেম্বর ২০১৭


লক্ষ্মীপুরে চিকিৎসকরা ফি নেন ইচ্ছেমতো - জাতীয়
প্রতীকী ছবি

লক্ষ্মীপুরে চিকিৎসা সেবার নামে চরম নৈরাজ্য চলছে। চিকিৎসকদের কাছে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। চিকিৎসকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো ফি নিচ্ছেন।

অভিযোগ উঠেছে দেশের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আইনের তোয়াক্কা না করে ৫শ থেকে ৬শ ও ৭শ টাকাও ফি নিচ্ছেন কেউ কেউ। আবার রিপোর্ট দেখাতে নেয়া হচ্ছে ৩শ থেকে ৫শ টাকা। ফি আদায়ে বাংলাদেশের আইনেরও ধার ধারেন না তারা। রোগীদের কাছ থেকে কী পরিমাণ ফি আদায় করলে চিকিৎসকদের অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর শহরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক ও প্রাইভেট হাসপাতাল ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দেখা যায় এ ধরনের চিকিৎসা সেবার নামে নৈরাজ্যের নানা চিত্র।

অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে সুস্থ হতে এসে নিঃস্ব হয়ে ফিরতে হচ্ছে অনেক অসহায় রোগীকে। একজন রোগীকে পরামর্শ ফি ছাড়াও রোগ নির্ণয়ের নামে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে দিতে হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ।

দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর শহর ছাড়াও জেলার রায়পুর, রামগঞ্জ ও চন্দ্রগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি হাসপাতালে কনসালটেন্ট, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক সকলেই সমান তালে ফি আদায় করছেন। পরামর্শ ফি আদায়ে কোনো ধরা বাধা নিয়ম নেই। ৪শ থেকে ৫শ ও ৭শ টাকাও পরামর্শ ফি নিচ্ছেন কেউ কেউ। ফি আদায়ে বাংলাদেশের আইনেরও ধার ধারেন না ডাক্তাররা।

আইনে যা বলা আছে: দি মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ আইনে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। ডাক্তাররা সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেও সে আইনের ধারাবলে হাসপাতালের বাইরে রোগী দেখছেন। তবে সেই আইনে ডাক্তাররা হাসপাতালের বাইরে রোগী দেখলে, কত টাকা ফি আদায় করবেন তাও নির্ধারণ করে দেয়া আছে। তবে বর্তমানে ডাক্তাররা তার ধার ধারেন না। আইনে উল্লেখ রয়েছে, ডাক্তারকে আইন অনুযায়ী তার চেম্বারে ফি আদায়ের তালিকা লাগাতে হবে।

অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সমপদাধিকারের চিকিৎসকরা প্রথম পরামর্শ ফি ৪০ টাকা, পরবর্তী প্রতিবারে ২০ টাকা ও বাসায় গিয়ে সেবা দিলে ৮০ টাকা গ্রহণ করবেন। সহকারী অধ্যাপক বা কন্সালটেন্ট অন্যান্য সমপর্যায়ের ডাক্তাররা প্রথমে ৩০ টাকা, পরবর্তী প্রতিবার ১৫ টাকা ও বাসায় গেলে ৬০ টাকা ফি গ্রহণ করবেন। বর্তমান সময়ে এসে ফি গ্রহণে ১৯৮২ সালের আইন না মানলেও ফি সহনীয় পর্যায়ে থাকবে এই প্রত্যাশা ছিল সকলের। উল্টো পরামর্শ ফি গ্রহণে বেপরোয়া হয়ে উঠছেন অধিকাংশ ডাক্তার।

২০১১ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির খসড়া তৈরি করলেও এতে রোগীর কাছ থেকে কে কত টাকা আদায় করতে পারবেন তার সঠিক ব্যাখ্যা নেই। আর এই সুযোগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ জনগণ নিঃস্ব হচ্ছেন ফি দিতে গিয়ে।

লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন চিকিৎসকের চেম্বার ঘুরে ঘুরে ধরা পড়েছে পরামর্শ ফি আদায়ে ভিন্নতার চিত্র। লক্ষ্মীপুরে ফি আদায়ের চিত্র: ওয়ান ইলেভেন তথা বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রশাসন তথা সব পেশাজীবীরা অনেকটা নড়ে চড়ে বসেছিলেন।

লক্ষ্মীপুরের চিকিৎসকরাও তখন ফি আদায়ে সংযমী ছিলেন। অধ্যাপক ৩শ টাকা ও বাকিরা তখন ২শ টাকা করে আদায় করতেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর উল্টে যায় পুরো চিত্র। অধ্যাপকরা নেন ৭ থেকে ৮শ টাকা। এর সাথে সহকারী অধ্যাপক অনেকেই সমানভাবে ফি আদায় শুরু করেন। বর্তমানে ফি আদায়ে কোন ধরা বাধা নেই। তবে হাজার টাকা ফি আদায়ের টার্গেট নিয়ে এগুচ্ছেন কেউ কেউ।

ক্লিনিক ভিজিটের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ফি আদায়ের চিত্র আরো ভয়াবহ। ক্লিনিকে ভিজিটের ক্ষেত্রে চেম্বারে যারা ৪শ টাকা নেন তারা ৬শ থেকে ৫শ টাকা যারা নেন তারা ৭/৮শ টাকা নেন। যেকোনো ক্লিনিকের রেজিস্ট্রার দেখলেই ফি আদায়ের চিত্র বেরিয়ে আসবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্লিনিকের ম্যানেজার জানান, ডাক্তাররা চেম্বারে যাওয়ার আগে একবার রোগী দেখে যান। পরে চেম্বার শেষে আবার দেখে যান। যতবার দেখবেন ততবারই ৬শ টাকা বা তার নির্ধারিত ফি দেয়া লাগে। তবে ওই টাকা রোগীকেই দিতে হয় কেউ কেউ সুযোগ পেলে দিনে তিনবারও দেখে যান। সব মিলিয়ে ডাক্তার যত কৌশলেই টাকা গ্রহণ করেন না কেন সব টাকাই রোগীদের কাছ থেকে আদায় হচ্ছে। ফলে ডাক্তারদের কাছে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়ছেন সাধারণ জনগণ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সামান্য তরকারি বিক্রেতাদের মোবাইল কোর্ট বসিয়ে সাজা জরিমানা করলেও রোগীদের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে যেন কেউ নেই।

চিকিৎসা নিতে আসা রনি নামে এক স্কুলছাত্র বলেন, “ডাক্তারদের ফি আদায়ে বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। না হয় রোগীরা সুস্থ হবে, তবে দরিদ্র হয়ে পড়বে।”

লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা খালেদ আহমেদ বলেন, “চিকিৎসকদের ইচ্ছেমতো পরামর্শ ফি গ্রহণ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। সরকারের নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় ডাক্তারদের পরামর্শ ফি আদায়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। ডাক্তার রোগীর স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তবে আমরা এসব বিষয়ে ডাক্তারদের অনুরোধ করতে পারি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসআর/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত