artk
৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

ইরানে ভূমিকম্প: উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত, নিহত ৪৫০

বিদেশ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১২০২ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৪ নভেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৫০২ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৪ নভেম্বর ২০১৭


ইরানে ভূমিকম্প: উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত, নিহত ৪৫০ - বিদেশ

ইরানে ভূমিকম্প বিধ্বস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ভূমকম্পে সেখানে অন্তত সাড়ে চারশ লোকের প্রাণহানি হয়েছে, আহত হয়েছে কয়েক হাজার।

সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ কথা বলা হয়।

টেলিভিশনে ইরানের জরুরি চিকিৎসা সেবার প্রধান পীর হোসেইন কোলিবন্দ বলেছেন, কেরমান শাহ প্রদেশে উদ্ধা অভিযান সমাপ্ত শেষ হয়েছে।” রয়টার্স।

রোববার ইরাক সীমান্তে কারমেনশাহ প্রদেশের পাহাড়ি এলাকার শহর ও গ্রামগুলোতে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই সময় অনেক লোকই বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে অন্তত ১৪টি প্রদেশে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলেছে, অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে কয়েক হাজার লোক গাদাগাদি করে অবস্থান করছে, যেখানে অনেক মানুষ ১৯৩টি ছোট কম্পনের পর আরো কম্পনের ভয়ে খোলা জায়গায় দ্বিতীয় রাত কাটান।

বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি সারপোল-ই-জাহাবের এক গৃহহীন তরুণী বলেন, তার তাঁবুর অভাবে রাতের ঠাণ্ডার মধ্যে খোলা জায়গায় অবস্থান করে।

তিনি বলেন, খুব ঠাণ্ডার রাত..., আমাদের সাহায্যের দরকার। আমাদের সবকিছু দরকার। কর্তৃপাক্ষেল উচিত দ্রুত সাহায্য করা।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সবকিছু করতে সরকারির সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলেছে, রোববার রাতে ভূমিকম্প এলাকায় ইরানি পুলিশ, অভিজাত বিপ্লবী গার্ড এবং সংযুক্ত বেসিজ মিলিশিয়া বাহিনী প্রেষণে নিযুক্ত হয়েছে।

টেলিভিশনে উদ্ধার তৎপরতার ফুটেজ দেখানো হয়, যেখানে উদ্ধার কর্মীদের দেখা যায় কয়েক ডজন গ্রামে ধ্বংসস্তুপে হন্যে হয়ে অনুসন্ধান চালাতে। কিন্তু ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, আরো কোনো জীবিত ব্যক্তি খুঁজেস পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, কয়েক হাজার গৃহহীন লোককে জরুরি আশ্রয় দেয়া হয়েছে। কিন্তু জর ও বিদ্যুতের অভাব এবং রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে পড়ায় সাহায্য সরবরাহের চেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকে সাহায্য করতে আসা মানুষের ভিড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েও সাহায্য সাহায্যের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কাসর-ই শিরিন ফারামার্জ আকবরির গভর্নর বলেছেন, কিছু গ্রামে এখনো খাদ্য, পানি ও আশ্রয়ের খুব প্রয়োজন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে ৩০ হাজার বাড়িঘর নষ্ট হয়েছে, অন্তত দুটি গ্রাম পুরোপরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

কুর্দিস্তানি শহর সানানদাজের যুবক রোজান মেশকাত (৩৮) টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেন, ঠাণ্ডায় আরো লোক মারা যাবে। আমার পরিবার সারপোল-ই-জাহাবের কাছে গ্রামে থাকে। আমি সেখানে যেতে পারছি না। আমি জানি না তারা মৃত নাকি বেঁচে আছে।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়া প্রদেশের পেঞ্জউইনে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৩। তবে ইরাকি আবহাওয়া অফিস বলছে, মাত্রা ছিল সাড়ে ৬।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত