artk
৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১১১১ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৪ নভেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৭০০ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১৪ নভেম্বর ২০১৭


প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি - জাতীয়

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে আইনমন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বঙ্গভবন।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন এ কথা জানিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে সিঙ্গাপুর থেকে কানাডা যাওয়ার আগে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। শনিবার দুপুরে সেটি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পৌঁছে।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে ৩ অক্টোবর এক মাসের ছুটিতে যান প্রধান বিচারপতি। তার দায়িত্বভার দেয়া হয় আপিল বিভাগের জেষ্ঠ্যতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে। এরপর ছুটি আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়। ১২ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।

১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতি সিনহা। ওই দিন সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “আমি অসুস্থ নই। আমি পালিয়েও যাচ্ছি না। আমি আবার ফিরে আসব। আমি একটু বিব্রত।”

বিচারপতি সিনহা সাংবাদিকদের হাতে একটি লিখিত বক্তব্য দিয়ে যান। ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাশন একটি নজিরবিহীন বিবৃতি দেয়।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রধান বিচারপতির পদটি একটি প্রতিষ্ঠান। সেই পদের ও বিচার বিভাগের মর্যাদা সমুন্নত রাখার স্বার্থে এর আগে সুপ্রিমকোর্টের তরফ থেকে কোন ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি প্রদান করা হয়নি। কিন্তু উদ্ভুত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিবৃতিটি দেয়া হলো।”

সুপ্রিমকোর্টের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১ অভিযোগ উঠেছে।

এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, এমন পরিস্থতিতে প্রধান বিচারপতির পদে ফেরা সুদূরপরাহত। পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে থাকা ১১ অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে দুর্নীতি দমন কমিশন।

প্রধান বিচারপতির পদে ফেরা ‘অসম্ভব বা সুদূর পরাহত’ এই ধরনের মন্তব্য এর পরেও আসতে থাকে।

এর আগে ৩ অক্টোবর সরকারি ছুটি, সাধারণ ছুটি ও সুপ্রিম কোর্টের অবকাশসহ ৩৯ দিনের ছুটি শেষে ফের এক মাসের ছুটিতে যান প্রধান বিচারপতি। তার দায়িত্বভার দেয়া হয় আপিল বিভাগের জেষ্ঠ্যতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে।

ওই দিন সুপ্রিম কোর্ট খোলার দিনেই প্রধান বিচারপতি সিনহাকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছিলেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা।

এর পর ছুটি আরো ১০ দিন বাড়ানো হয়। ১২ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন এনেছিল বর্তমান সরকার। হাই কোর্ট ওই সংশোধন বাতিলের পর আপিল বিভাগও একই রায় দেন।

ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি জাতীয় সংসদ ও বঙ্গবন্ধুকে খাটো করেছেন বলে অভিযোগ তোলে আওয়ামী লীগ। বেশ ক্ষুব্ধ হন ক্ষমতাসীন জোটের নেতা ও সংসদ সদস্যরা। কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন।

প্রধানমন্ত্রীও ওই রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে নানা সমালোচনার মধ্যেই এসকে সিনহা আদালতে শুনানিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করে সেদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছিলেন, “বিচার বিভাগ যথেষ্ট ধৈর্য ধরেছে।”

এর পর নতুন মাত্রা পায় সমালোচনা। এর পর এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমাকে ‘মিসকোট’ করে প্রকাশিত বক্তব্যের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।”

সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শুরুর আগে গত ২৪ আগস্ট শেষ অফিস করেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

অবকাশের মধ্যেই ১০ সেপ্টেম্বর তিনি দুই সপ্তাহের জন্য বিদেশ সফরে গেলে তার অবর্তমানে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেন। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তার নিয়োগের মেয়াদ শেষ হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত