artk
৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

রোহিঙ্গাদের বাসা ভাড়া দেয়ায় ৩ জনের কারাদণ্ড

কক্সবাজার প্রতিনিধি | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২২৩০ ঘণ্টা, সোমবার ১৩ নভেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২২৩০ ঘণ্টা, সোমবার ১৩ নভেম্বর ২০১৭


রোহিঙ্গাদের বাসা ভাড়া দেয়ায় ৩ জনের কারাদণ্ড - জাতীয়
ফাইল ফটো

কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গাদের বাসা ভাড়া দেয়ার দায়ে ৩ জনকে আটক করে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ১৭১ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করে ক্যাম্পে পাঠানো হয়।

সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের একটি টিম টেকনাফে এ অভিযান চালায়।

র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন জানান, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের নির্দিষ্ট স্থানে সাময়িক বাসস্থানসহ সব ধরের মানবিক সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এসব রোহিঙ্গাদের কোনো বাসাবাড়িতে স্থান দেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে।

টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় রোহিঙ্গাদের বাসা ভাড়া দেয়ার সংবাদ পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় ৩টি এলাকায় রোহিঙ্গাদের বাসাভাড়া দেয়ার দায়ে ৩ জনকে আটক করা হয়। পরে প্রত্যেককে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেয় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে ভাড়াবাসা থেকে মিয়ানমারের ১৭১ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করে ক্যাম্পে পাঠানো হয়। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

এদিকে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সে দেশের সামরিক জান্তারা রোহিঙ্গা নাগরিকদের হত্যা, ধর্ষণ, বসতঘরে অগ্নিসংযোগসহ নানা নির্যাতন কিছুদিন বন্ধ রাখার পর ফের শুরু করেছে। এতে সীমান্তের নাফ নদী পার হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আবারো বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শুরু করেছে রোহিঙ্গারা। সাঁতার কেটে, ভেলায় করে, যে যেমন করে পারে নাফ নদী পার হয়ে অনুপ্রবেশ করছে। নৌকা সংকটের কারণে প্লাস্টিকের জারিকেন, কাঠ, বাঁশ ও দড়ি দিয়ে ভেলা তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে আসছে তারা।

সর্বশেষ সোমবারও নাফ নদীর শাহপরীর দ্বীপ ও সাবরাং পয়েন্ট দিয়ে ২টি ভেলায় করে শতাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। এর আগে গত ৪ দিনে ভেলায় করে অন্তত ৮ শতাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। এদের ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়েছে।

উখিয়ার আন্জুমানপাড়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশকারী ১৫ শতাধিক রোহিঙ্গাকে বালুখালী ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়েছে। আন্জুমানপাড়া সীমান্তের নাফ নদীর ওপারে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে ২ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান জানিয়েছেন, নতুন করে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের জন্য সরকার নির্ধারিত জমিতে আবাসন তৈরি করে মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। এছাড়া এখন পর্যন্ত বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৩৪ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন এতিম শিশু শনাক্ত করা হয়েছে।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) রিপোর্ট মতে, ২৫ আগস্ট থেকে গত রোববার পর্যন্ত ৬ লাখ ২৭ হাজার ৫ শত জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনএ/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত