artk
১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, রোববার ২৪ জুন ২০১৮, ৭:০৮ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
শেষ মূহুর্তের গোলে সুইডেনকে হারাল জার্মানি                    

শিরোনাম

প্রধান বিচারপতির ছুটি শেষ হচ্ছে শুক্রবার

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ০৯২৯ ঘণ্টা, শুক্রবার ১০ নভেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৮৫৭ ঘণ্টা, শনিবার ১১ নভেম্বর ২০১৭


প্রধান বিচারপতির ছুটি শেষ হচ্ছে শুক্রবার - কোর্ট-কাচারি

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটি শেষ হচ্ছে শুক্রবার। ষোড়শ সংশোধনী ঘিরে বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তার প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ফেরা হবে কিনা তা ঠিক করে বলতে পারছেন না কেউ।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এক মাসের ছুটিতে যান। এরপর ছুটি ১০ দিন বাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া যান তিনি। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটিতে গেলেও গত ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সময় লিখিত বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি সিনহা বলেছিলেন, “তিনি সুস্থ আছেন। সাময়িকভাবে যাচ্ছেন। আবার ফিরবেন। প্রধান বিচারপতি বিদেশে যাওয়ার পরদিন ১৪ অক্টোবর সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে প্রধান বিচারপতির ওই বক্তব্যকে বিভ্রান্তিমূলক উল্লেখ করে। প্রধানবিচারপতির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এ ধরনের বিবৃতি দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রধান বিচারপতির পদটি একটি প্রতিষ্ঠান। সেই পদের ও বিচার বিভাগের মর্যাদা সমুন্নত রাখার স্বার্থে এর আগে সুপ্রিমকোর্টের তরফ থেকে কোন ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি প্রদান করা হয়নি। কিন্তু উদ্ভুত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিবৃতিটি দেয়া হলো।”

সুপ্রিমকোর্টের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১ অভিযোগ উঠেছে।

এরপর এ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, এমন পরিস্থতিতে প্রধান বিচারপতির পদে ফেরা সুদূরপরাহত। পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে থাকা ১১ অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে দুর্নীতি দমন কমিশন।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পাওয়া বিচারপতি এস কে সিনহার চাকরির মেয়াদ রয়েছে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। সুপ্রিমকোর্টের অবকাশ শুরুর আগে গত ২৪ আগস্ট তিনি শেষ অফিস করেন এবং অবকাশ শেষে ৩ অক্টোবর আদালত খোলার দিন থেকে ছুটিতে যান। রাষ্ট্রপতি বরাবরে প্রধান বিচারপতির পাঠানো সেই ছুটির আবেদন সাংবাদিকদেরও দেখান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সেখানে বলা ছিল, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এর আগে তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং গত বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। বিশ্রামের জন্য ৩ অক্টোবর থেকে ১ নবেম্বর পর্যন্ত ৩০ দিন তিনি ছুটি কাটাতে চান।

এর মধ্যে গত ৭ অক্টোবর বিচারপতি সিনহার অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পাওয়ার খবর আসে। আদালতের একটি সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতি ও তার স্ত্রী সুষমা সিনহা তিন বছরের ভিসা পেয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে বড় মেয়ে সূচনা সিনহার কাছে উঠবেন তারা। এরপর বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা রাষ্ট্রপতিকে জানিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন বিচারপতি সিনহা। আইন সচিব সেদিন জানান, ১৩ অক্টোবরে থেকে ১০ নবেম্বর পর্যন্ত বিদেশে থাকার ইচ্ছার কথা ওই চিঠিতে রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

চলতি বছর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দেয়ার পর থেকে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধান বিচারপতি। বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের এই সংশোধনী এনেছিল বর্তমান সরকার। হাইকোর্ট ওই সংশোধন বাতিলের পর আপিল বিভাগও একই রায় দেন।

ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধুকে খাটো করেছেন বলে অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও সংসদ সদস্যরা। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন কেউ কেউ। অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার আমলে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে আনার এই রায়কে স্বাগত জানায় বিএনপি।

ষোড়শ সংশোধন বাতিলের ওই রায় ‘ভ্রমাত্মক’ বলে প্রতিক্রিয়া এসেছে সাবেক প্রধান বিচারপতি ও বর্তমানে আইন কমিশনের সদস্য এ বি এম খায়রুল হকের কাছ থেকে। সুপ্রিমকোর্ট এই রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করবেন জানিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আশা প্রকাশ করেছেন, এতে তারা ‘কামিয়াব’ হবো।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়। ওই প্রস্তাব পাসের আগে সংসদে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আদালত তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে সংসদে আনা সংবিধান সংশোধন বাতিলের এই রায় দিয়েছে। সংসদ ও গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এই রায় দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য