artk
৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

ভ্যাট পরিশোধ না করলে প্রিমিয়ার ব্যাংকের হিসাব জব্দ!

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২২২৪ ঘণ্টা, রোববার ১৫ অক্টোবর ২০১৭


ভ্যাট পরিশোধ না করলে প্রিমিয়ার ব্যাংকের হিসাব জব্দ! - অর্থনীতি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের বিরুদ্ধে স্থান ও স্থাপনা ভাড়ায় প্রায় ১১ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি এ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)-মূল্য সংযোজন কর শাখা এ ফাঁকি খুঁজে পেয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ফাঁকি ভ্যাট পরিশোধে প্রিমিয়ার ব্যাংকে চূড়ান্ত দাবিনামা জারি করেছে এলটিইউ। এ ভ্যাট পরিশোধ না করলে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হতে পারে বলে এলটিইউ এর একটি সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ৯ মার্চ প্রিমিয়ার ব্যাংকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরের বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়া হয়। প্রিমিয়ার ব্যাংক ১৯ এপ্রিল স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার তথ্য দেয়। তথ্য বিশ্লেষণ করে একবছরে ১০ কোটি ৬৮ লাখ ৩ হাজার ৬৬৪ টাকা ১০ পয়সার ভ্যাট ফাঁকি খুঁজে পায় এলটিইউ।

এরমধ্যে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৯% ও জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫% হারে ভ্যাট হিসাব করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল মূসক ফাঁকির মামলা করা হয়। ২৭ এপ্রিল দাবিনামা (ডিমান্ড নোট) ও রাজস্ব ফাঁকির ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। ১৮ মে প্রিমিয়ার ব্যাংক চিঠি দিয়ে জানায় উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে দুই রিট বিচারাধীন রয়েছে। প্রিমিয়ার ব্যাংক ৫ জুন দুই মাসের সময় চেয়ে এলটিইউকে চিঠি দেয়।

এলটিইউ ১৫ জুন শুনানির সময় দিলে প্রিমিয়ার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতে রিট আপীল দায়ের করে। পরে ৯ জুলাই উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ জারিসহ নির্দেশনা প্রদান করেন।

স্থগিতাদেশের মাধ্যমে প্রিমিয়ার ব্যাংককে ফাঁকির এ অর্থ দিতেই হবে। পরে প্রিমিয়ার ব্যাংকে শুনানিতে ডাকা ও তাদের বক্তব্য শোনা হয়। বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় ভ্যাট পরিশোধের তাগাদা দেওয়া হয়।

সূত্র আরও জানায়, ফাঁকিকৃত ভ্যাট পরিশোধ না করায় চলতি সপ্তাহে প্রিমিয়ার ব্যাংকে প্রায় ১১ কোটি টাকার ভ্যাট পরিশোধে চূড়ান্ত দাবিনামা (ডিমান্ড নোট) জারি করে এলটিইউ।

মূসক আইন অনুযায়ী, চূড়ান্ত দাবিনামা জারির পর প্রিমিয়ার ব্যাংক বকেয়া পরিশোধে ৩ মাস সময় পাবে। ৩ মাস পর ২টি নোটিশ জারি করা হবে। এরপরও ভ্যাট পরিশোধ না করে ব্যাংকের হিসাব জব্দ করা হবে।

সূত্র জানায়, এনবিআর ২০১০ সালের এসআরও (এসআরও নং-২০০-আইন/২০১০/৫৪৯-মূসক) অনুযায়ী স্থান ও স্থাপনার ওপর মূসক আরোপ ও একটি ব্যাখ্যা দেয়।

এতে বলা হয়, স্থান ও স্থাপনা ভাড়া গ্রহণকারীর ওপর ৯% হারে মূসক প্রযোজ্য। তবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনধিক ১৫০ বর্গফুট আয়তনের কোন স্থাপনা এর অন্তভূর্ক্ত নয়।

এলটিইউ সূত্র জানায়, প্রিমিয়ার ব্যাংক শুধু ২০১৬ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর প্রায় ১১ কোটি টাকা মূসক ফাঁকি নয়।

এর আগে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি একইভাবে ৩২ কোটি ৮১ লাখ ৩ হাজার ১৫১ টাকা ৬৭ পয়সার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। যা সুদসহ দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি টাকার বেশি।

এরমধ্যে ২০১১ সালে ৪ কোটি ১ লাখ ৯৯ হাজার ১০২ টাকা, ২০১২ সালে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ১৬ হাজার ১৫৯ টাকা, ২০১৩ সালে ৭ কোটি ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০৫ টাকা, ২০১৪ সালে ৭ কোটি ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ২০৮ টাকা ৭৩ পয়সা ও ২০১৫ সালে ৭ কোটি ৮৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৭৬ টাকা ৯৪ পয়সা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। ফাঁকি দেওয়া মোট ৩২ কোটি ৮১ লাখ ৩ হাজার ১৫১ টাকা ৬৭ পয়সা সুদসহ বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি টাকারও বেশি।

এ বিষয়ে এলটিইউ এর একজন কর্মকর্তা জানান, চূড়ান্ত দাবিনামা জারি হয়েছে। মূসক আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বকেয়া পরিশোধ না করলে আমরা ব্যাংকটির হিসাব জব্দ করবো।

এ বিষয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের সিএফও আবদুল হাই অর্থসূচকে বলেন, ২০১১ সালে স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর ভ্যাট আদায়ের বিরুদ্ধে আদালতে আমরা একটা রিট দায়ের করেছি। রিটে স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর ভ্যাট আদায় স্থগিত করা হয়েছে। আদালত এনবিআরকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছে। এখনো সে অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, এনবিআর প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এর ওপর ভ্যাট আদায়ে ডিমান্ড নোট জারি করে। আমরা সে নোটের ওপর আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিই। এবছরের চূড়ান্ত ডিমান্ড নোট জারি হয়েছে, কিন্তু এখনো হাতে পাইনি। তবে ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয় এখনো কিছু জানি না।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য