artk
৮ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ১১:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ফের মিথ্যাচার বর্মী সেনাপ্রধানের
‘রোহিঙ্গারা মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছে’

বিদেশ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৫০৫ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১২ অক্টোবর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৯০৪ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৩ অক্টোবর ২০১৭


‘রোহিঙ্গারা মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছে’ - বিদেশ

রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমারের স্থানীয় অধিবাসী নয়। তারা তাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বার্মিজ সেনাবাহিনীর প্রধান জ্যেষ্ঠ জেনারেল মিন অং হ্লাইয়াং।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সিয়েলের সঙ্গে সাক্ষাতকালে তিনি এই দাবি করেন বলে বৃহস্পতিবার তার ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে জেনারেল মিন অং বলেন, “এই সঙ্কটের জন্য ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীরা দায়ী। বাঙালিদের এই দেশে মিয়ানমার নিয়ে আসেনি। এনেছিল উপনিবেশবাদীরা। তারা এখানকার স্থানীয় নয়। নথিপত্র প্রমাণ করে, উপনিবেশকালে তাদের রোহিঙ্গা নয়, বাঙালি হিসেবে ডাকা হতো।”

চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কটের জন্য মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ব্যক্তিগতভাবে জেনারেল মিন অংকে দায়ী করছে। তবে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বিষয়ে তার মত, রোহিঙ্গারা তাদের মাতৃভূমিকে ফিরে যাচ্ছে।

রাখাইনে ২৫ আগস্ট পুলিশ ও সেনা স্থাপনায় হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আরসার নেতৃত্বে স্থানীয় বাঙালিরা হামলায় জড়িত ছিল। এই কারণেই তারা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করে পালিয়ে গেছে। বাঙালিদের স্থায়ী নিবাস আসলে বাংলা। একই ভাষা, জাতিগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি হওয়ার কারণে নিরাপত্তা পাবে ভেবে তারা হয়তো অন্যদেশে পালিয়ে গেছে।”

বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যাকে ‘খুবই বিশাল’ বললে অতিরঞ্জন করা হয় বলেও মন্তব্য করেন মিয়ানমারের সেনা প্রধান। সেই সঙ্গে তারা দাবি, পর্দার আড়াল থেকে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্ররোচনা ও প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াং। তার আপোষহীন অবস্থানের কারণেই রোহিঙ্গা সঙ্কট গুরুতর অবস্থা ধারণ করেছে। এরই মধ্যে পাঁচ লাখের অধিক রোহিঙ্গা নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

উদ্বাস্তু হওয়া রোহিঙ্গারা যাতে ঘরে ফিরতে না পারে সে জন্য মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সুসংগঠিত, সমন্বিত ও পদ্ধতিগতভাবে আক্রমণ পরিচালনা করছে বলে বুধবার এক প্রতিবেদনে জানায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫ আগস্ট পুলিশ পোস্টে সশস্ত্র হামলার আগে থেকেই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘ছাঁটাই অভিযান’ শুরু হয়। এর মধ্যে ছিল হত্যা, নির্যাতন ও শিশুদের ধর্ষণ। উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে আগুন এবং গ্রাম ও ফসলের মাঠ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে পাঁচ লাখের অধিক রোহিঙ্গা মুসলিম বাড়িছাড়া হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, “বিশ্বাসযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে শুধু মাত্র তাড়িয়ে দিতেই নয়, তাদের ঘরে ফেরা রোধ করতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো রাখাইন রাজ্যের উত্তরে রোহিঙ্গাদের সম্পত্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করেছে এবং তাদের বাড়িঘর ও পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/একিউএফ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত