artk
৮ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ১১:০৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

শুক্রবার দেশ ছাড়ছেন প্রধান বিচারপতি: আইনমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৪০৮ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১২ অক্টোবর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৭০৩ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১২ অক্টোবর ২০১৭


শুক্রবার দেশ ছাড়ছেন প্রধান বিচারপতি: আইনমন্ত্রী - কোর্ট-কাচারি
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (ফাইল ফটো)

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিদেশ ভ্রমণের জন্য ‘শুক্রবার ঢাকা ছাড়বেন’ বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির বর্ধিত ছুটির প্রজ্ঞাপন জারির পর দেশ ত্যাগের এ তথ্য জানালেন মন্ত্রী।

প্রধান বিচারপতি স্বেচ্ছায় ছুটি বাড়িয়েছেন উল্লেখ করে আ্ইনমন্ত্রী বলেন, “বিদেশ যাওয়ার অনাপত্তিপত্র ও ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। তিনি চারটি দেশ ভ্রমণ করবেন। আগামীকাল ঢাকা ছাড়বেন।”

প্রধান বিচারপতির ছুটি ও বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে কার্যভার দিয়ে আগে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি বৃহস্পতিবার হালনাগাদ আকারে জারি করা হয়েছে।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কথা বলে ছুটি নেন প্রধান বিচারপতি সিনহা। তবে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির দাবি, প্রধান বিচারপতিকে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

এক মাসের অবকাশসহ ৩৯ দিনের ছুটি শেষে ৩ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট খুলেছে। খোলার দিনেই প্রধান বিচারপতি সিনহাকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছিলেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা।

আর ওইদিনই একমাসের ছুটিতে যান আর মাত্র চার মাস মেযাদ থাকা সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন এনেছিল বর্তমান সরকার। হাই কোর্ট ওই সংশোধন বাতিলের পর আপিল বিভাগও একই রায় দেন।

ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি জাতীয় সংসদ ও বঙ্গবন্ধুকে খাটো করেছেন বলে অভিযোগ তোলে আওয়ামী লীগ। বেশ ক্ষুব্ধ হন ক্ষমতাসীন জোটের নেতা ও সংসদ সদস্যরা। কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন।

প্রধানমন্ত্রীও ওই রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে নানা সমালোচনার মধ্যেই এসকে সিনহা আদালতে শুনানিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করে সে সেদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছিলেন, “বিচার বিভাগ যথেষ্ট ধৈর্য ধরেছে।”

এর পর নতুন মাত্রা পায় সমালোচনা। এর পর এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমাকে ‘মিসকোট’ করে প্রকাশিত বক্তব্যের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।”

সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শুরুর আগে গত ২৪ আগস্ট শেষ অফিস করেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

অবকাশের মধ্যেই ১০ সেপ্টেম্বর তিনি দুই সপ্তাহের জন্য বিদেশ সফরে গেলে তার অবর্তমানে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেন। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তার এ মেয়াদ শেষ হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/একিউএফ/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত