artk
৮ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিকত্ব দিতে সু চির ভয়

বিদেশ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০১১ ঘণ্টা, বুধবার ১১ অক্টোবর ২০১৭


রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিকত্ব দিতে সু চির ভয় - বিদেশ

রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিকত্ব দিলে একদিন তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারে। এই ভয়েই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে রাজি নন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি।

তিনি আরও মনে করেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিলে অনেক বাংলাদেশি রাখাইনে গিয়ে বসতি স্থাপনে আগ্রহী হয়ে উঠবে। যেটা তিনি কখনোই চান না। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অং সান সু চি গত বছর একজন জ্যেষ্ঠ বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই কূটনীতিককে ইন্দোনেশিয়ায় মুসলিমদের সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে ওঠার গল্প বলেন। সু চি তাকে বলেন, তার দেশ এরকম কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে চায় না।

মিয়ানমারের বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নেতারাও একই ধরনের কথা বলে থাকেন। তারা বলেন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের যে হারে সন্তান জন্ম হয়, তাতে একদিন তারা রাখাইন দখল করে নেবে। আর রাখাইনের দখল নিতে পারলে তারা পুরো মিয়ানমারের দখলও নিতে পারে। এ কারণেই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে রাখা যাবে না।

দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের মিয়ানমার থেকে সমূলে তাড়াতে মিয়ানমার। এ কারণে গত কয়েক দশক ধরেই রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে দেশটি। নির্যাতনের মুখে বারবার লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। আবার ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। গত এক মাসের নির্যাতনে প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আগে থেকেই ছিল চার লাখের বেশি।

রোহিঙ্গাদের ওপর এবারই সবচেয়ে বেশি বর্বরতা চালানো হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। দল বেঁধে ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে, ধর্ষণ করেছে হাজার হাজার নারীকে।

নির্মম এ ঘটনায় গোটা বিশ্ব সোচ্চার হয়ে নিন্দা জানিয়েছে। তোপের মুখে মিয়ানমার শান্ত হওয়ার ভান করছে। এখনও প্রতিদিন কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। তারা জানাচ্ছে, সেনাবাহিনীর অত্যাচার এখনও চলছে। মুসলিমদের গৃহবন্দী করে রাখা হচ্ছে। বাইরে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। ফলে না খেয়ে মরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা সংকটকে স্পষ্ট ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সু চি রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

মিয়ানমারের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী মনে করে, মুসলিমরা দেশটির জাতিগত ও ধর্মীয় ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই তারা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসী বলে মনে করে এবং প্রায়ই ‘বাঙালি’ বলে উল্লেখ করে।

রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সু চির সে সম্মেলনে যোগ দেননি। কারণ তিনি জানেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তিনি জবাবদিহিতার মুখে পড়তে পারেন। তাছাড়া তার ভয় ছিল, তিনি সম্মেলনে যোগ দিলে দেশটির সেনাবাহিনী তাকে আর দেশে ফিরতে দেবে না।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের যাচাই বাছাই করে ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলেছে মিয়ানমার। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশও মনে করে, এটা মিয়ানমারের চাপ কমানোর একটি কৌশলমাত্র। আসলে তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চায় না।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যহত রাখতে হবে। যাতে তারা রোহিঙ্গাদের নাগরিক্ত দিয়ে সম্মানের সঙ্গে দিয়ে ফিরিয়ে নেয়। কফি আনান কমিশনও একই সুপারিশ করেছে। অবশ্য সু চি বলেছেন কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তাবায়ন করা হবে। তবে তা কবে এবং কীভাবে হবে তার কোনো স্পষ্ট ধারণা তিনি দেননি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত