artk
৮ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

মিয়ানমারের সেনাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ গণ আদালতে

সিনিয়র রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২১১১ ঘণ্টা, বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২১১২ ঘণ্টা, বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭


মিয়ানমারের সেনাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ গণ আদালতে - জাতীয়

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছে দেশটির রোহিঙ্গা, কাচিন, কারেনসহ কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে চলমান আন্তর্জাতিক গণ আদালতের শেষ পর্বের শুনানিতে সাক্ষ্য দেন তারা। সেখানে এ অভিযোগ আনা হয়।

বুধবার আন্তর্জাতিক গণ-আদালত কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক এ কথা বলেন।

এ আদালতে নয় সদস্যের বিচারকের একটি প্যানেল শুনানি গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলারসের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও আর্জেন্টিনায় সেন্টার ফর জেনোসাইডের প্রতিষ্ঠাতা দানিয়েল ফিয়েরেস্তেইন, আয়ারল্যান্ডের ডেনিস হেলিডে, ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত-প্রক্রিয়ায় যুক্ত মালয়েশিয়ার জুলাইহা ইসমাইল, কম্বোডীয় আইনবিদ হেলেন জার্ভিস, অস্ট্রেলিয়ার সিডনির মেকুইয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক প্রধান গিল এইচ বোয়েরিঙ্গার, ইন্দোনেশিয়ার মানবাধিকার আইনজীবী নুরসিয়াবানি কাতজাসুংকানা, ভারতের মুম্বাই দাঙ্গার তদন্তকারী ও দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি বেলুর নারায়ণস্বামী শ্রীকৃষ্ণ, ইরানের মানবাধিকার আইনজীবী সাদি সদর এবং ইতালির সুপ্রিম কোর্ট অব ক্যাসেসনের বর্তমান সলিসিটর জেনারেল নিলও রেসি শুনানিতে ছিলেন।

কুয়ালালামপুরের আদালতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সচিব হিরণ্ময় বাড়ৈ এবং উপপরিচালক এম রবিউল ইসলামও অংশ নেন।

এর আগে রিয়াজুল হকের নেতৃত্বে গত ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি দল কক্সবাজারের কুতুপালংসহ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে। ভুক্তভোগী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে সেখানকার অবস্থার তথ্যানুসন্ধান করেন। কুয়ালালামপুরে চলা গণ-আদালতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে বক্তব্য তুলে ধরেন রিয়াজুল হক।

কুয়ালালামপুরের মালয় ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিভিলাইজেশন ডায়ালগের পরিচালক ও বুদ্ধিজীবী চন্দ্র মোজাফফর পিপিটির এই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সমন্বয় করেছেন। ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদেই এই বিচার চলছে। আগামী শুক্রবার এর রায় দেয়া হবে।

কমিশন সূত্র জানায়, এ আদালতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ সরকারকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে মানবাধিকার কমিশনকে এ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়।

গণ-আদালত কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক জানান, কমিশনের পক্ষ থেকে ওই আদালতে বিবৃতি দেন তিনি। সেখানে আমন্ত্রিত বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকেও রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতনের প্রমাণও তুলে ধরেন তিনি।

রোহিঙ্গা ও কাচিন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বক্তব্য শুনেছেন জানিয়ে রিয়াজুল হক বলেন, “রোহিঙ্গারা রাখাইনে চলমান অভিযানকে জাতিগত নিপীড়ন হিসেবে তুলনা করেন। তারা সবাই একবাক্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বর নিপীড়নের নানা চিত্র তুলে ধরেন। তারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনেন।”

গণ-আদালতের কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, আদালতে রোহিঙ্গারা বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনী জাতিগত নিধন অভিযান চালানো হচ্ছে।

শুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ দেখান জানিয়ে রিয়াজুল হক বলেন, “রোহিঙ্গারা রাখাইনে চলমান সেনা অভিযান ও নিপীড়ন সু চির অবস্থানের প্রতি ঘৃণা জানান।”

রোমভিত্তিক পারমানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল (পিপিটি) নামের একটি সংগঠন আন্তর্জাতিক গণ-আদালত গঠন করে। পিপিটি ষাটের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পটভূমিতে প্রখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের ধারণায় প্রতিষ্ঠিত। এর যাত্রা শুরু ইতালির বোলোগনাতে, ১৯৭৯ সালে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত