artk
৮ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

সাগর থেকেই পাচার হচ্ছে ইলিশ

ইমরান হোসেন, বরগুনা প্রতিনিধি | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৩০০ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৮১৩ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭


সাগর থেকেই পাচার হচ্ছে ইলিশ - বিশেষ সংবাদ

সারাদেশ ইলিশে সয়লাব, জেলেদের মুখে হাসি। সেব গণমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে অবরোধ সঠিকভাবে পালন হওয়ায় এখন ইলিশে পরিপূর্ণ বাংলাদেশ। জেলেরা দেনা শোধ করে এবার স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে খুচরা বাজারে কেন ইলিশের দাম এত বেশি। সাগরে জাল ফেললেই ইলিশ, ছোট-বড় সকল ট্রলার সাগরে যাচ্ছে ইলিশ শিকারে। তবে অনেক ট্রলার ১০ থেকে ১২ দিন পর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ফিরছে খালি হাতে। লাখ টাকা খরচ করে সাগর থেকে খালি হাতে ফিরছে যেসব জেলে। তবে অভিযোগ বা হতাশা নেই তাদের মধ্যে। বিষয়টা নিয়ে জেলেদের মধ্যেই চলছে গুঞ্জন।

এদিকে প্রতিবছর এসময়ে হত দরিদ্র শ্রেণিপেশার পরিবারগুলোরও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে ছিল ইলিশ। এ বছর মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও ক্রয় করতে পারছে না ইলিশ। একদিকে এক শ্রেণির জেলেদের আনন্দ উচ্ছ্বাস এবার সাগর ইলিশে পরিপূর্ণ। আবার অন্যদিকে ইলিশের দাম কমছে না খুচরা বাজারে। তবে ভারতের জলসীমায় ইলিশের পরিমাণ কম থাকা সত্ত্বেও সদেশের বাজারে ইলিশের দাম বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম।

পাইকার আড়ৎদার সমিতির দেয়া তথ্য মতে, বরগুনায় খুচরা বাজারে এক কেজির একটি ইলিশ ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা বিক্রি হয়। এক কেজির নিচে একেকটি ইলিশের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। এদিকে পাইকারি বাজারে যে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তা মণপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয় নিয়ে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা বলতে গেলে কেউই স্পষ্ট করে কথা বলছেন না। অবশেষে ইলিশের দাম বৃদ্ধি ও খালি হাতে ফেরার রহস্য খুঁজতে জেলেদের অন্যতম আশ্রয় স্থান পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে মাছেরখাল এলাকায় গিয়ে কথা হয় কিছু জেলের সঙ্গে। তারা নিউজবাংলাদেশকে জানান, সাগরে ইলিশের ভিড়ে অন্য মাছের গুরুত্ব নেই। এখন যারা গভীর সমুদ্রে যায় তারা সবাই শুধু ইলিশের জাল নিয়ে যায়। তবে একদিকে ভারতীয় জেলেরা সাগরে ইলিশ শিকার করছে অন্যদিকে ভারতীয় পাইকাররা ট্রলার নিয়ে অনুপ্রবেশ করে সুন্দরবনের পাশে বেশ কয়েকটি স্থানে অবস্থান নেয় এবং বাংলাদেশি অধিকাংশ জেলে সেখানেই ইলিশ বিক্রি করে দেয়। ফলে ইলিশ চলে যাচ্ছে ভারতীয় বাজারে।

পাথরঘাটার হরিণঘাটা এলাকায় বেশ কয়েকটি ট্রলারের জেলেদের সঙ্গে কথা বললে তারা নাম গোপন রাখার শর্তে নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “বাংলাদেশের জলসীমায় ইলিশের সংখ্যা অত্যধিক হওয়ায় সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট, চালনার বয়া, পশ্চিম সুন্দরবন, ফেয়ারওয়েবয়াসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ট্রলার নিয়ে অবস্থান করে ভারতীয় জেলেরা। তাদের কাছে শুধু বরগুনা নয়, চাঁদপুর ও চট্টগ্রামের জেলেরাও ইলিশ বিক্রি করছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। তবে এভাবে ইলিশ বিক্রি করায় দেশ রাজস্ব হারালেও নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীরা লাভবান হচ্ছে বলে অভিযোগ জেলেদের।

এদিকে পাথরঘাটা ট্রলার মালিক সমিতির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিউজবাংলাদেশকে জানায়, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কালিন্দি নদী, রায়মঙ্গল নদী ও হাড়িয়াভাঙ্গা নদী দিয়ে ভারতীয় পাইকারদের হাতে বরগুনা, কলাপাড়া, চাঁদপুর, বাগেরহাট ও চট্টগ্রামের কিছু জেলে ইলিশ বিক্রি করে দিচ্ছে। এদিকে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশ আনলে ইলিশ বিক্রীত অর্থের ১০০ টাকায় একটাকা ২৫ পয়সা রাজস্ব দিতে হয় সরকারকে। তাই অনেক জেলে এমনটি করছে বলে জানায় সূত্রটি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, ওড়িশা ও কলকাতায় বাংলাদেশি ইলিশের চাহিদা বেশি। বাংলাদেশের জলসীমার ইলিশ ভারতের থেকে সুস্বাদু হওয়ায় বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা ব্যাপক। তবে বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর থেকে ভারতীয় জেলেরা পর্যাপ্ত ইলিশ ক্রয় করতে পারায় ভারতের বাজারে বাংলাদেশের ইলিশের দাম কম।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধূরী নিউজাবাংলাদেশকে জানান, জেলেদের একটি মহল ইলিশ সাগরেই ভারতীয়দের কাছে বিক্রি করে এমন কথা তারা শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, “যদি এমনটা হয় তবে সমিতির বিধি মোতাবেক সেই ট্রলারের মালিক ও জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

এদিকে এ বিষয়ে পাথরঘাটা কোস্টগার্ডের সঙ্গে কথা বলার জন্য একাধিক বার যোগাযোগ করলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি।

পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লে. নুরুল আমিন নিউজবাংলাদেশকে জানান, এখন পর্যন্ত তার কাছে কেউ এমন অভিযোগ করেনি। তবে এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।

তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই এই জেলেদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো। আর যারা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সাগরে ইলিশ বিক্রি করছে ভারতীয়দের কাছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের দেয়া তথ্য মতে, চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখ পর্যন্ত গড়ে প্রায় দুলাখ টাকা রাজস্ব আদায় হচ্ছে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য