artk
৯ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রোববার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:৩৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং
টানা চতুর্থবার জার্মানির চ্যান্সেলর নির্বাচিত হলেন অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল                    

শিরোনাম

পদ বাণিজ্যের অভিযোগ
বিতর্কিতদের নিয়ে ময়মনসিংহ মহানগর আ.লীগের কমিটি

উবায়দুল হক, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২২১৪ ঘণ্টা, বুধবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৭৪৭ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭


বিতর্কিতদের নিয়ে ময়মনসিংহ মহানগর আ.লীগের কমিটি - বিশেষ সংবাদ

ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে ৩০ নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে মোস্তফা মামুনুর রায়হান অসীমকে। অথচ এই অসিমের মামা মুক্তাগাছার শিবির নেতা শামীম। সরকার বিরোধী নাশকতা আন্দোলনের অন্যতম আসামিও তিনি। তার ব্যবসা-বাণিজ্য বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে। সেই সময়েই তার সঙ্গে গাটছড়া বেঁধে নিজের আখের গুছিয়েছেন তিনি।

এমন রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের এক নেতাকে মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করায় সমালোচনা করছেন দলের অনেকেই।

এ কমিটির ১৫ নম্বর সদস্য সিদ্দিকুর রহমান ফেরদৌস আহম্মদ কোরাইশীর দলের সহসভাপতি ছিলেন। সিনিয়র সহসভাপতি নাজমা ইসলাম ছাত্র জীবনে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের নেত্রী ছিলেন বলেও খবর চাউর হয়ে উঠেছে। এছাড়া তিনি কোনো সময়ই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কোনো পদবীতেও ছিলেন না।

এমন আরও অনেকেই অদৃশ্য শক্তির জোরে ঠাঁই করে নিয়েছেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রস্তাবিত কমিটিতে। তাদের কারণেই বাদ পড়েছেন দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা। এলডিপি, ফাঁসিতে ঝুলা জঙ্গি নেতার স্বজন, শিবির নেতার ভাগ্নে, হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের অন্তর্ভুক্ত করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে জমা দেয়া এমন কমিটিকে নিয়ে ক্ষোভ-অসন্তোষ দানা বাঁধছে দলীয় রাজনীতিতে।

প্রস্তাবিত এ কমিটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে।

জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের হাতে যৌথভাবে অনুমোদনের জন্য এ কমিটি জমা দেন। এরপর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কমিটি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়। ফাঁস হতে শুরু করে কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া বেশিরভাগ নেতার গোঁমর। কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরা জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও এ কমিটির এসব নেতাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।

একাধিক লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রস্তাবিত কমিটির ৩১ নেতাকে অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। এর মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগ উঠেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত কমিটির সহসভাপতি মাহমুদ হাসান প্রিন্স জিয়াউর রহমানের জাগপা দলের সদস্য এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ কমিটির সদস্য জুয়েলারি ব্যবসায়ী মালিক মো. শহীদুল্লাহ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির কমান্ডার শায়খ আব্দুর রহমানের ভাগ্নে। সহসভাপতি তাজুল আলম রাজাকার বুচন মিয়ার পুত্র ও সাবেক গভর্নর মোনায়েম খানের নিকটাত্মীয়।

সহসভাপতি শাহজাহান পারভেজ কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির সদস্য এবং তিনি ওই জেলার স্থানীয় বাসিন্দা। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন জাহাঙ্গীর বাবু বাকশাল ছাত্রলীগের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বোন সালেমা সিদ্দিক জেসমিনও মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন।

সহদপ্তর সম্পাদক হিসেবে প্রস্তাবিত হেলাল উদ্দিন হিমু কোনোদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির কোনো পদে ছিলেন না। তাকে অনুপ্রবেশকারী (হাইব্রিড) হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মূলত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির ছেলের পারপাস সার্ভ করার জোরেই অনুপ্রবেশকারীকেও রাখা হয়েছে কমিটিতে এমন অভিযোগও উঠছে সর্বত্রই।

এ কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. দেবাশীষ মন্ডল ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় তাকে বেসরকারি সিবিএমসিবি হাসপাতালের চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছিল।

দলীয় সূত্রের অভিযোগ, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এহতেশামুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত দলীয় রাজনীতিতে দুটি বিপরীত মেরুতে অবস্থান করলেও কমিটি বাণিজ্যের কারণেই তারা আঁতাত করেছেন। শান্ত ধর্মমন্ত্রীর পুত্র হওয়ায় তার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েই মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছেন এমন গুঞ্জণও চলছে দলের ভেতর ও বাইরে।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবু সাঈদ কায়সার দীপু, ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এবং ময়মনসিংহ পৌরসভার দুই বারের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাদেশকে অভিযোগ করে জানান, পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে দুই নেতা চিহ্নিত মাস্তান, খুনি, ডাকাত ও জঙ্গি হেফাজতকারী, বিএনপি, জামায়াত চক্রের লোকজনকে কমিটিতে জায়গা দেয়া হয়েছে।

একই রকম অভিযোগ করে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তাজ রানা জানান, বিএনপি, এলডিপি, জেএমবি, সরকারি তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী, খুন, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি মামলায় জড়িতদের অন্তর্ভুক্ত কমিটি দলের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কমিটি অনুমোদন হলে ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগ-বিএনপি একাকার হয়ে যাবে। এতে করে আদর্শের পতন ঘটবে। দলকে বাঁচাতেই মমতাময়ী নেত্রী শেখ হাসিনা এ চক্রটিকে প্রতিহত করবেন, এমন প্রত্যাশা তাদের।

এসব বিষয়ে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “কমিটিতে সবাইকে আমরা মূল্যায়ন করতে পারিনি। যারা বাদ পড়েছেন তারাই নিজেদের মতো করে অভিযোগ করেছেন। সবাইকে সন্তুষ্ট করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।”

তিনি দাবি করেন, “শহীদুল্লাহ শায়খ রহমানের ভাগ্নে এটা ঠিক, কিন্তু তিনি দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামী লীগ করে। হিমুর বাবা আওয়ামী লীগ নেতা। অসীমের ভিন্ন দল কানেকশনের বিষয়টি আমি জানি না। আর প্রিন্স কখনোই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। তাজুলের রাজাকার পুত্রের বিষয়টি ঢাহা মিথ্যা কথা।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/ওএইচ/এসজে/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য