artk
৪ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫:৪৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

৯০ ভাগ রোহিঙ্গা নারীই ধর্ষণের শিকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২১১৩ ঘণ্টা, বুধবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৩০১ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭


৯০ ভাগ রোহিঙ্গা নারীই ধর্ষণের শিকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী - জাতীয়

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারীদের ৯০ শতাংশই ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, “অবর্ণনীয় অত্যাচারে দিশেহারা হয়েই রোহিঙ্গারা আমাদের দেশে চলে এসেছে। আমি কথা বলে জেনেছি, ৯০ শতাংশ নারীই ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আর যত শিশু এসেছে তারা কোনো না কোনোভাবে আহত হয়েছে।”

গত ২৪ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইনে কয়েকটি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলা হয়। মিয়ানমারের দাবি, রোহিঙ্গা মুসলিমরাই ওই হামলা করেছে। এরপর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। তারা গণহত্যা শুরু করে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিতে থাকে। এ অবস্থায় দিশেহারা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে থাকে।

শুরুতে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ঢুকতে বাধা দেয়া হলেও, পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়ায় এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের সমবেত দাবির মুখে রোহিঙ্গাদের ঢুকতে দেয়া হয়। এ পর্যন্ত কত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে সে হিসাব সরকারের কাছে না থাকলেও জাতিসংঘ বলছে, সে সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার। আর এ জনসংখ্যার ৬০ ভাগই শিশু।

আন্তর্জাতিক মহল এরইমধ্যে স্বীকার করে নিয়েছে যে রাখাইনে গণহত্যা চলছে। জাতিসংঘ বলছে, মিয়ানমারে নজিরবিহীন জাতিগত নিধন চলছে। বলা হয়েছে এরইমধ্যে ৩ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া নদী পার হয়ে বাংলাদেশে আসার সময় নাফ নদীতে ডুবে মারা গেছে শতাধিক।

অন্যদিকে পরিস্থিতি দেখার জন্য জাতিসংঘের কোনো প্রতিনিধি কিংবা সাংবাদিকদের ওই এলাকায় যেতে দিচ্ছে না মিয়ানমার। একংসঙ্গে হত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার অভিয়োগ অস্বীকার করছে দেশটি। তারা বিভিন্নভাবে বলার চেষ্টা করছে, মুসলিম জঙ্গিদের বিরুদ্ধেই এই অভিযান এবং রোহিঙ্গারা নিজেরাই ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

বিগত কয়েক দশক ধরেই মিয়ানমারে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চলছে। মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। আর সেখানকার বৌদ্ধ ভিক্ষুরা চায় না রাখাইনে কোনো মুসলমান থাকুক। এর আগেও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে এসেছে। তারা এখানে শরণার্থী শিবিরে বাস করছে কয়েক দশক ধরে।

এরইমধ্যে বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের থাকার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তাদের পরিচয় পত্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের এই পৈশাচিক নির্যাতনের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় বইছে। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির নোবেল কেড়ে নেয়ার দাবি উঠেছে, যিনি দেশটির বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা আছে। তবে মিয়ানমার জানিয়েছে ওই অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন না মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হবে। এরইমধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারের ওপর যারা চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যেমন- ভারত, চীন ও রাশিয়া মিয়ানমারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।

চীন ঘটনার নিন্দা জানালেও মিয়ানমারের পক্ষেই অবস্থান স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমার সফরে সু চির সঙ্গে সঙ্গে বৈঠক করলেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো কথা বলেননি। লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে পালিয়ে আসার বিষয়ে তিনি একটি কথাও খরচ করেননি। এ নিয়ে নিজের দেশেই সমালোচনায় পড়েছেন মোদি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত