artk
৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ১০:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

শুক্রবার শুরু হচ্ছে জাতীয় লীগ
খুলনার আবু নাসের স্টেডিয়ামে বৃষ্টি হলেই পানি

শেখ হেদায়েতুল্লাহ, খুলনা প্রতিনিধি | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৯৫৩ ঘণ্টা, বুধবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৩২৬ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭


খুলনার আবু নাসের স্টেডিয়ামে বৃষ্টি হলেই পানি - খেলা

খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের মাঠে এখন বৃষ্টি হলেই জমে যায় পানি। বছর দেড়েক আগে ঝড়ে স্টেডিয়ামের বড় ধরনের ক্ষতি হলেও এখনো পর্যন্ত তার সংস্কার হয়নি। কবে নাগাদ সংস্কার হবে তাও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না।

ক্ষতিগ্রস্ত স্টেডিয়ামের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না করেই আগামী শুক্রবার থেকে এই স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট লীগ। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছেন ঘরোয়া ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে স্টেডিয়ামটি উপযোগী করে সংস্কার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের লাকি ভেন্যু হিসেবে পরিচিত দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি দীর্ঘদিন ধরে আছে খেলাবিহীন অবস্থায়। প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় আগে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্টেডিয়ামটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ এখনও নেয়া হয়নি। এরই মাঝে এ বছর পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্টেডিয়ামের খেলোয়াড় সাজ স্বজ্জা কক্ষ ও মিডিয়া কক্ষের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সংযোগ। বড় খেলা হওয়ার জন্য স্টেডিয়ামে নেই সাইড স্ক্রিনও। এই মাঠটি ফিল্টার মাঠ হিসেবে তৈরি করা হলেও বর্তমানে নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঘণ্টাখানেক বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় মাঠটি।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, স্টেডিয়ামটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে একাধিকবার দাপ্তরিক পত্র দিয়ে জানানো হলেও কার্যত কোনো ফল আসছে না। যদিও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে বলা হচ্ছে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন বিধায় বাজেট সমস্যার কারণে সমাধান করা যাচ্ছে না।

গত বছরের ৬ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয় শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের। স্টেডিয়ামের প্যাভিলিয়ান বিল্ডিং, প্রেসিডেন্ট বক্স, মিডিয়া বক্সসহ অধিকাংশ ভবনের সিলিং ডেকোরেশন ও সামনের গ্লাস ভেঙে পড়ে। মাঠের ভেতরে থাকা সাইড স্ক্রিনও ভেঙে যায়। একই সঙ্গে কোনো বড় ধরনের খেলা এ মাঠের জন্য অনুপোযোগী হয়ে যায়। এসব ভবনে থাকা প্রায় সবগুলো এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রক) অকেজো হয়ে যায়।

এছাড়া স্টেডিয়ামে আগে থেকেই এক পাশের গ্যালারির চেয়ার উঠিয়ে নেয়া হয়। ফলে এখন শ্রীহীন অবস্থায় রয়েছে স্টেডিয়ামটি। ফ্লাশ লাইটেরও বেহাল দশা। বেশ কিছু লাইট অকেজো হয়ে পড়েছে। গ্যালারির এক অংশের প্রায় সব চেয়ার ভেঙে গেছে। ঝড়ের পর দিনই শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ বিসিবিকে ক্ষতির বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে জানায়। এরপর বিসিবি থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে সংস্কার প্রয়োজন জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়।

একাধিকবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে থেকে স্টেডিয়াম পরিদর্শন করলেও সংস্কার কাজ শুরুর আর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ চলাকালেই এই চেয়ারগুলো ভেঙে যায়। এরপর থেকে ওই অংশটি চেয়ার ছাড়াই রয়েছে।

অপরদিকে স্টেডিয়ামটির সমস্যার সঙ্গে যোগ হয়েছে মাঠে পানি আটকে থাকা। নগরীতে টানা এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় মাঠটি। এর ভেতরে প্রায় ৬ ইঞ্চি পরিমাণ পানিও উঠে যায়। পাশের প্রধান সড়ক থেকে মাঠ নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি মাঠে প্রবেশ করে। মাঠের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভাল থাকায় পানি দীর্ঘক্ষণ স্থায়ীও হয় না। তবে জলাবদ্ধতার কারণে মাঠের ক্ষতি হয়। আর খেলা চলাকালে যদি পানি আটকে থাকে তবে পানি শুকিয়ে খেলা শুরু করতে দেরি হয়।

তবে এসব সমস্যার সমাধানে বিসিবি থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানালেন শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার কচি। তিনি বুধবার বলেন, “জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে কয়েক দফা চিঠি দেয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই হয়তো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সংস্কার কাজ শুরু করবে।”

তবে খুলনায় জাতীয় ক্রিকেট লীগের খেলা নিয়ে কোন শঙ্কা নেই বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আবু নাসের স্টেডিয়ামের প্লেয়ার্স ড্রেসিং রুমের এসি সংযোগ ঠিক করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশও সংস্কার করা হয়েছে। বুধবার রংপুর ও খুলনা দলের খেলোয়াড়রা অনুশীলন করেছে। শুক্রবার থেকে এই দুটি দল মুখোমুখি হবে। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে খেলা শুরু হবে খুলনা ও বরিশাল দলের।”

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের আন্তর্জাতিক ম্যাচের পথচলা শুরু। ওই বছর খুলনাতে একটি ওয়ানডে ম্যাচ ও পরবর্তী বছর দুটি ওয়ানডে ও একটি টি-টেয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ ৬ বছর এ স্টেডিয়ামে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি। ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে স্টেডিয়ামটি টেস্ট ভেন্যুর স্বীকৃতি পায়। ওই বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয় এ মাঠে। এরপর আবারও দীর্ঘ অপেক্ষা। অবশেষে ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএইচ/এসজে/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য