artk
১০ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৩:৫২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পার্বতীপুরের রেলওয়ে হাসপাতালটি নিজেই অসুস্থ

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১১১২ ঘণ্টা, বুধবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১১২০ ঘণ্টা, বুধবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭


পার্বতীপুরের রেলওয়ে হাসপাতালটি নিজেই অসুস্থ - বিশেষ সংবাদ

উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম চার লাইনের রেলওয়ে জংশনখ্যাত দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশন। কেন্দ্রীয় লোকোমটিভ কারখানা, ক্যারেজ ডিপো, রানিং লোকো সেডসহ বিভিন্ন রেল দপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক কর্মচারীসহ প্রায় ১৫ হাজার রেল পরিবারের সদস্যের বিপরীতে পার্বতীপুরে চিকিৎসা জন্য রয়েছে ১৬ শয্যার একটিমাত্র রেলওয়ে হাসপাতাল। অথচ প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, নৈশ্য প্রহরী, নার্স না থাকায় প্রতিনিয়তই ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

এডিএমও (ADMO)সহ তিনজন চিকিৎসকের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে ডাক্তার না থাকায় বহিরাগত রোগীদের একমাত্র ভরসা ফার্মাসিস্ট রমজান আলী।

বৃটিশ আমলে নির্মিত এ হাসপাতাল ভবনটি সরকারিভাবে পুনঃসংস্কার না করায় এখন নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ভবনের ফাটল ধরায় বৃষ্টির পানি পড়ে গুদামের অনেক ওষুধ, অফিসের মূল্যবান কাগজপত্রসহ আসবাব নষ্ট হচ্ছে। জরাজীর্ণ হাসপাতাল ভবনটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার অসংঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, পাহারাদার না থাকায় হাসপাতালের মূল্যবান মালামাল যেকোনো সময় চুরির সম্ভাবনা রয়েছে। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে ডাক্তার ও পাহারাদার নিয়োগ এবং হাসপাতাল ভবনটি সংস্কারে সরকারের সুদৃষ্টির দাবি জানান ভুক্তভোগী রেল কর্মকর্তা, শ্রমিক কর্মচারীরা।

এদিকে, অসুস্থ বাবার চিকিৎসা নিতে আসা রেল পরিবারের সদস্য জাকির হোসেন জানান, বাবার চিকিৎসার জন্য এসেছিলাম। এখানে এসে শুনলাম কোনো ডাক্তার নেই। শুধু আমি না, এখানে কর্মচারীসহ প্রায় ১৫ হাজার রেল পরিবার সদস্যের ভরসা এই হাসপাতাল। তাই খুব তাড়াতাড়ি এখানে স্থায়ী ডাক্তার নিয়োগসহ সব সমস্যার সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

ফার্মাসিস্ট রমজান আলী জানান, অত্র হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট কোনো ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যহত হচ্ছে। এখনে তিনটি পদেই কোনো চিকিৎসক না থাকায় আমি রোগীদের তিন দিনের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছি। সংস্কার করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অসংরক্ষিত অবস্থার কারণে গরু চারানো ও বাজে লোকদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে হাসপাতাল ক্যাম্পাসটি।

লালমনিরহাট ডিভিশনের বিভাগীয় মেডিক্যাল অফিসার আনিসুল হক জানান, পার্বতীপুর রেলওয়ে হাসপাতালে তিনজন চিকিৎসকের বিপরীতে একজনও নেই। লালমনিরহাট হাটেও একই অবস্থা। ৭ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কোনো চিকিৎসক নেই সেখানেও। ১০ জন ফার্মাসিস্টের জায়গায় কর্মরত আছেন মাত্র দুইজন। এ ছাড়াও রেলওয়ে ভবনের এডিজির (আরএস) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পার্বতীপুর লোকোমোটিভ কারখানার হাসপাতালটিতেও দুইজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও সেখানেও একজনও না থাকায় বাধ্য হয়ে তিনি নিজেই সপ্তাহে দু'দিন কেলোকা হাসপাতালে এসে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

ডাক্তারের সংকটের কারণে রেল পরিবারের সদস্যরা পুরোপুরি চিকিৎসা না পাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ক্লিনিক কিংবা প্রাইভেট হাসপাতালের ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হচ্ছেন। তাই বিভিন্ন রেল দপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক কর্মচারীসহ স্থানীয় সচেতন মহল পার্বতীপুর রেলওয়ে হাসপাতালের এই রুগ্ন অবস্থা নিরসনের জোর দাবি জানান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য