artk
১০ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৪:০০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

গুলিবিদ্ধসহ ৭৯ রোহিঙ্গা চমেক হাসপাতালে ভর্তি

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৯২৫ ঘণ্টা, সোমবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৯৩০ ঘণ্টা, সোমবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭


গুলিবিদ্ধসহ ৭৯ রোহিঙ্গা চমেক হাসপাতালে ভর্তি - জাতীয়

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংসতা থেকে বাঁচতে ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা। সেনাবাহিনীর গুলিতে অনেকেই হারিয়েছেন হাত-পা। বর্তমানে ৭৯ জন ভর্তি রোহিঙ্গা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে যাদের বেশির ভাগই গুলিবিদ্ধ।

হাসপাতালটিতে আহত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। তবে অনেকে চিকিৎসা নিয়ে আবার আশ্রয়কেন্দ্রে ফিরেও যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

চমেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, “দেখা যাচ্ছে যে রোহিঙ্গাদের শর্টরেঞ্জ থেকে গুলি করে দিয়েছে। যার জন্য বোনগুলি (হাড়গুলো) একদম গুঁড়া গুঁড়া হয়ে গেছে। তো আমরা আপাতত সবগুলি রোগীকেই ইনিশিয়াল ম্যানেজমেন্ট করে ফেলেছি বিভিন্নভাবে। এর মধ্যে দুই-একটা রোগীর হয়তো অঙ্গহানি হয়ে গেছে।”

চমেকে ভর্তি রোহিঙ্গা শরণার্থী রুহুল আমিন জানান, তার বাবা-মা, স্ত্রী এবং এক ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। আরেক ছেলেকে নিয়ে কোনো রকমে নৌকায় চেপে নদী পার হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন।

বয়স্ক রোহিঙ্গা নাগরিক বশির উল্লাহ জানান, ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা গুলি করতে থাকে। এরপর তিনদিন পালিয়ে নদী পার হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি।

রোহিঙ্গা শিশু সালমা জানায়, তার বাড়ি মিয়ানমারের বুচিডংয়ে। ঘরবাড়ি সব পুড়িয়ে দেয়ায় পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে সে।

সীমান্ত পাড়ি দেয়ার সময়ও তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলেও জানায় সে।

তরুণ শফিক জানান, তাদের বাড়িতে আগুন দেয়া ও গুলি ছোড়া হয়। আহত অবস্থায় প্রথমে পালিয়ে অন্য গ্রামে আশ্রয় নেন, তবে সেখানে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। ফলে চিকিৎসার জন্য অনেক কষ্টে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রামে এসেছেন।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জালাল উদ্দিন জানান, এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাদের পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা এবং মমত্ব নিয়ে এই রোহিঙ্গা রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত