artk
৪ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যায় এমপি রানাসহ ১৪ জন অভিযুক্ত

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৪১৬ ঘণ্টা, বুধবার ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২০৩৮ ঘণ্টা, বুধবার ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭


মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যায় এমপি রানাসহ ১৪ জন অভিযুক্ত - কোর্ট-কাচারি

টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। ১৮ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া অভিযোগ গঠনর এই আদেশ দেন।

এর আগে আসামি পক্ষের আইনজীবী মামলার পুনঃতদন্ত ও ডিসচার্জের জন্যে পৃথক দুটি আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে দেন।

মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাসহ চারভাইয়ের বিচার দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অভিযোগ গঠন শেষে দুপুর ১২টার দিকে এমপি রানাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে সকাল ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে টাঙ্গাইলে আদালত চত্বরে আনা হয় তাকে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এস আকবর খান জানান, আসামি পক্ষের দুটি আবেদন খারিজ হয়ে গেলেও কারাগারে এমপি রানার সুচিকিৎসার আবেদনটি গ্রহণ করেন আদালত।

অভিযোগ গঠনে মামলার বাদী ও নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ স্বস্তি প্রকাশ করে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

এর আগে অসুস্থতা দেখিয়ে কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ এমপি রানাকে আদালতে হাজির না করায় এই হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি আটবার পিছিয়েছে।

১৭ আগস্ট সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে বিচারিক আদালতে হাজির করতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের আপিল বেঞ্চ নির্দেশ দেন।

দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর এমপি রানা গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর এই আদালতেই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, আইনে বিধান রয়েছে আসামি কারাগারে থাকলে তার উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি করার। ফারুক হত্যা মামলার আসামি আমানুর যেহেতু কারাগারে রয়েছেন এবং অভিযোগ গঠনের তারিখগুলোতে অসুস্থতার কথা বলে হাজির করা হয়, তাই শুনানি সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, রাষ্ট্রপক্ষ প্রস্তুত হয়ে আছে। তাকে বুধবার আদালতে হাজির করা হলেই শুনানি করা হবে।

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ টাঙ্গাইলে তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার সামনে পাওয়া যায়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলার তদন্ত শুরু করে। ২০১৪ সালের আগস্টে এ মামলার আসামি আনিসুল ইসলাম ওরফে রাজা ও মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তার হন। আদালতে তাদের স্বীকারোক্তিতে এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইয়ের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। এরপর থেকে আমানুর ও তার ভাইয়েরা আত্মগোপনে চলে যান।

গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আমানুর, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য