artk
৪ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫:৫১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

‘দেশ বন্যাদুর্গত- প্রচার বন্ধ করতেই গণজাগরণের ওপর হামলা’

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২১৫৬ ঘণ্টা, রোববার ২০ আগস্ট ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২২৩৯ ঘণ্টা, রোববার ২০ আগস্ট ২০১৭


‘দেশ বন্যাদুর্গত- প্রচার বন্ধ করতেই গণজাগরণের ওপর হামলা’ - জাতীয়

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর হামলার পর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়াটা প্রমাণ করে এর পেছনে সরকারের যোগসাজশ ও ইন্ধন রয়েছে। দেশ বন্যাদুর্গত—এই প্রচার বন্ধ করতেই করা হয়েছে।

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর একের পর এক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বিকেল চারটায় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ অজয় রায়, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, ডাক্তার নাজিমুদ্দিন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি।

ইমরান বলেন, গতকাল পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদসূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ৩০টি জেলার অন্তত ৬০ লাখ মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। প্রাণহানির সংখ্যা এরই মধ্যে শতক ছাড়িয়েছে। দুর্গত এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসেবার অভাব সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গৃহপালিত পশুপাখির মৃত্যু এবং বানের পানিতে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়া সৃষ্টি করেছে দীর্ঘমেয়াদি অভাব ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা।

গণজাগরণ মঞ্চ ইতিমধ্যেই ‘বানভাসি মানুষের পাশে তারুণ্য; বাঁচাও মানুষ’ শীর্ষক কর্মসূচি ঘোষণা করে ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা থেকে সংগৃহীত ত্রাণসামগ্রী দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ১৭ আগস্ট ত্রাণ তৎপরতা জোরদারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে পূর্বঘোষিত ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম চলাকালে অতর্কিতে একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক ‘বন্যা কই পাইছিস? দেশে কোনো বন্যা নেই, তোরাই বন্যার গল্প বানাইছিস’ বলে লাঠিসোঁটা নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন।

এদের একজন গুরুতর আহত রিয়াজুল আলম ভূঁইয়া এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান ইমরান।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

ইমরান বলেন, হামলাকারীদের চিহ্নিত করার উপাদান হিসেবে আক্রমণকারীদের ফেলে যাওয়া একটি সচল মোবাইল ফোন ও ছবি পুলিশের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে গত পরশু হামলার প্রতিবাদ জানানো এবং একই সঙ্গে ত্রাণ সংগ্রহের জন্য গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা শাহবাগে অবস্থান নিলে পুলিশ কর্মসূচি পালন করতে বাধা দেয়। পরে সংবাদমাধ্যমে আমাদের ব্রিফিং শেষে ফেরার পথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এলে একই গোষ্ঠী পেছন থেকে মঞ্চের কর্মীদের ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালায়। এতেও কমপক্ষে আটজন কর্মী আহত হন।

এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে জনদুর্ভোগ থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে পুরো ব্যাপারটিকে অপরাপর ইস্যুগুলোর মতোই ধামাচাপা দিতে ও গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতেই সরকার এসব হামলা-মামলা অব্যাহত রেখেছে বলে দাবি করেন ইমরান এইচ সরকার।

গণজাগরণ মঞ্চ সব বাধা প্রতিরোধ করেই রাজপথে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত