artk
৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭, ২:২৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বই পর্যালোচনা
ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের অহিংস উদ্যোগের না বলা গল্পগুলো

মো. খালিদ আরাফাত | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৮২১ ঘণ্টা, রোববার ২০ আগস্ট ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৮২৩ ঘণ্টা, রোববার ২০ আগস্ট ২০১৭


ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের অহিংস উদ্যোগের না বলা গল্পগুলো - শিল্প-সাহিত্য

ভূমধ্যসাগর ও জর্ডান নদীর মাঝামাঝি সংকীর্ণ ভূমির ফালিটি সম্ভবত বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আবাস: ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাত। অগণিত ঐতিহাসিকেরা ঘটনাবলীর সংশ্লিষ্ট জটিলতা এবং কুশীলবদের সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা করেছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতির রূপ দিয়েছে। তবে সামরিক যুদ্ধ, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাসবাদ ও উভয় পক্ষের ক্রমাগত দুর্ভোগ আখ্যানের প্রতিপাল্টা এক নতুন ইতিহাসও লেখা হয়েছে।

‘কানেকটিং উইথ দ্যা এনিমি: এ সেঞ্চুরি অব প্যালেস্টানিয়ান-ইসরায়েলি জয়েন্ট নন ভায়োলেন্স’ গ্রন্থে ড. শিলা এইচ কাতজ বলেছেন ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের অহিংস উদ্যোগের না বলা সব গল্পগুলো। এখানে প্রথমবারের মতো, তাদের অংশীদারী ইতিহাস সৃজনশীলভাবে নির্ণয় করা হয়েছে, যাতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জায়গায় বরং এই দুই জাতি একসঙ্গে কীভাবে কাজ করেছে তা তুলে ধরা হয়েছে।

স্পেশালাইজিং ইন মিডল ইস্ট স্টাডিজ (মধ্যপ্রাচ্য গবেষণা বিশেষজ্ঞ হওয়া) বিষয়ে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শিক্ষা জীবনে লেখককে ছয় বছর জেরুজালেমে বসবাস করতে হয়। সেখানে তিনি একটি নারী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যা তাকে ঘনিষ্ঠ সংযোগ এবং বিষয়টির ওপর অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। তিনি অটোমান সাম্রাজ্যের সময় পর্যন্ত ফিরে গিয়ে দুই বিশ্বযুদ্ধ, ইন্তিফাদাগুলো এবং আজকের অসলো চুক্তির মাধ্যমে শাস্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অসংখ্য প্রচেষ্টার ধারাবাহিক বিবরণ তুলে ধরেছেন। দেখিয়েছেন, কীভাবে যৌথ অহিংস কর্মকাণ্ডের নমুনা সময়ের চাহিদার প্রতিক্রিয়া হিসেবে জন্ম নেয়।

ইসরায়েল বা ফিলিস্তিনি অঞ্চলে কাজ করে এমন শত শত সংস্থা রয়েছে। তবে যারা কেবল উভয় পক্ষের মানুষের সঙ্গে সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করে তাদের চিত্র তুলে ধরে ভারসাম্য বজায় রেখেছেন শিলা এইচ কাতজ। তার বইটি নানা ধরনের প্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীসহ আইনজীবী, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ, শিল্পী, সঙ্গীতশিল্পী, পরিবেশবিদ, কৃষক, নারীবাদী, সৈন্য, বন্দী, বাবা-মা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, ক্রীড়াবিদসহ অন্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কর্মসূচি বিশদে তুলে ধরে। রাজনৈতিক শান্তি প্রক্রিয়া ক্রমাগত ব্যর্থ হলে, এই ব্যক্তিরা অহিংসা প্রতিষ্ঠা শুধু তাদের প্রতিশ্রুতির উপর ছেড়ে দেয়নি।

বইটির প্রতিটি অধ্যায় ব্যক্তির রূপান্তর বা পুনর্মিলনের প্রগাঢ় গল্প দিয়ে শুরু। সন্তান হারানোর শোকে কাতর ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি বাবা-মা একত্র হোন যন্ত্রণা ভাগাভাগি করে স্বস্তি পেতে। আরব ও ইহুদিরা ভয় মোকাবিলা ও নিষিদ্ধ বিষয় আলোচনার জন্য গোপনে মিলিত হয়, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব তৈরি হয়। শিক্ষার্থীরা প্রথমবার একে অপরের মুখোমুখি হয়, নিজেদের যন্ত্রণা ও অপরাধবোধ প্রকাশ, বিদ্বেষ কাটিয়ে ওঠার প্রশিক্ষণ এবং একটি সাধারণ ক্ষেত্র খুঁজে নিতে।

বিরোধী শিশুদের শিল্প ও ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আস্থা বিকাশে উৎসাহিত করে। সবার জন্য স্বাধীনতা প্রচারে, প্রাক্তন যোদ্ধারা তাদের কর্মের দায়ভার নিতে শেখেন এবং ক্ষমা প্রার্থনার চর্চা করেন। প্রতিটি সমাবেশ, যদিও জনসাধারণের চোখে যথাযোগ্য বা অগ্রাহ্য, যার প্রভাব পড়ে একে অপরের মাঝে মানবতার স্বীকৃতি ও মর্যাদা পুনস্থাপনে।

‘কানেক্টিং উইথ দ্যা এনিমি’ আশাব্যাঞ্জক ও প্রেরণাদায়ী, একই সঙ্গে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ। বইটিতে, শান্তি প্রতিষ্ঠাতারা যেসব বিপজ্জনক ঝুঁকি ও বাধা মোকাবিলা করেছেন তা পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেমন, দৈহিক বাধা ও বিপদ, শত্রুর সঙ্গে ‘স্বাভাবিক’ সম্পর্ক স্থাপন প্রক্রিয়ার জন্য বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার শঙ্কা, প্রতি জাতি নিজেকে ভুক্তভোগী এবং অপরকে অপরাধী হিসাবে ভাবার যে মানসিকতা ধারণ করে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কাতজ সেসব ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের তাৎপর্য তুলে ধরেছেন, যারা বল প্রয়োগের বাস্তব বিকল্প হিসেবে সংযোগ স্থাপন এবং সংলাপ বেছে নিয়েছেন। ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি দ্বন্দ্ব সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অনেক জটিল প্রশ্ন থেকে যাবে, কিন্তু কাটজ আমাদের আস্থা রাখার কারণ হিসেবে দেখান, শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অহিংস সহযোদ্ধারা অবিরাম লড়াই চালিয়ে যাবে।

এই বিশদ বর্ণনা থেকে যে বিষয়গুলো শেখার আছে, রাজনৈতিক সীমানা যেখানে শেষ হয়ছে এই ইতিহাসের জন্ম সেখানে হয়, যেখানেই সংঘাত ও বিভাজন সেখানেই স্বস্তির পথ খুঁজে পাওয়া যায়। ইলিয়াস শাকুরের (ফিলিস্তিনি ধর্মগুরু) ভাষায়, যা বইয়ে লেখা হয়েছে, ‘এই ভূখণ্ড, এই ফিলিস্তিন, এই ইসরায়েল, ইহুদি বা ফিলিস্তিনিদের অধীনে নয়। বরং এটি তাদের জন্য, আমরা যারা দেশ প্রেমিক, এই ভূমির অধীনে এবং একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল। আমরা যদি একসঙ্গে বাঁচতে না পারি, অবশ্যই এখানে একসঙ্গে সমাহিত হব। আমারদের অবশ্যই জীবনকে বেছে নিতে হবে।’

ইউফ্রেতিস.অর্গ থেকে ভাষান্তর: মো. খালিদ আরাফাত। khalid.arafat@yahoo.com

নিউজবাংলাদেশ.কম/একিউএফ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত