artk
১১ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৫ জুন ২০১৮, ৫:৪১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

এবার হ্যাকারদের টার্গেটে সমুদ্রগামী জাহাজ

নিউজ ডেস্ক | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১২৩৯ ঘণ্টা, রোববার ২০ আগস্ট ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৪০৪ ঘণ্টা, রোববার ২০ আগস্ট ২০১৭


এবার হ্যাকারদের টার্গেটে সমুদ্রগামী জাহাজ - আই-টেক

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর এবার হ্যাকারদের নজরে পড়েছে সমুদ্রগামী পণ্যবাহী জাহাজ। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে জাহাজ কোম্পানির অর্থ ও তথ্য হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি হ্যাকাররা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে চলাচলকারী জাহাজের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়ারও ঘটনা ঘটাচ্ছে।

সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম ‘সাইবারকিল’ একটি মাঝারি সাইজের শিপিং কোম্পানির ইমেইল চালাচালি তদন্ত করে এক বিরাট জালিয়াতি উদঘাটন করেছে। সেখানে দেখা গেছে, শিপিং কোম্পানিটির কম্পিউটার সিস্টেমে কেউ একজন ভাইরাস ঢুকিয়ে দিয়েছে। ফলে কোম্পানির ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের যে কোনও ইমেলই তারা মনিটর করতে পারছিল।

প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় আর্থিক ক্ষতি হয় জ্বালানির বিল পরিশোধ করতে গিয়ে। তারা যাদের কাছ থেকে জ্বালানি কেনে, তাদের যখন বিল পরিশোধ করছে, সেই বিল যে একাউন্ট নাম্বারে যাওয়ার কথা, ভাইরাসটি সেটি পরিবর্তন করে অন্য একাউন্ট নম্বরে পাঠিয়ে দিচ্ছিল। এভাবে কয়েক মিলিয়ন ডলার হ্যাকাররা সরিয়ে নেয়ার পর বিষয়টি কোম্পানির নজরে আসে।

কেবল মাঝারি সাইজের শিপিং কোম্পানি নয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিপিং কোম্পানিগুলোর একটি মায়েস্কও এখন এরকম হ্যাকিং নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা বুঝতে পেরেছে, হ্যাকাররা চাইলে জাহাজ চলাচলের মতো ব্যাপারেও হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

একটা জাহাজ কোম্পানির কম্পিউটার সিস্টেমে হ্যাক করতে পারলে বিস্তর স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নেয়া সম্ভব। একটা ঘটনার কথা জানাজানি হয়েছে ইতোমধ্যে। সেখানে দেখা গেছে, জলদস্যুরা একটা কোম্পানির নেটওয়ার্ক হ্যাক করে জানার চেষ্টা করছিল, যে জাহাজে তারা ডাকাতি করার পরিকল্পনা করছে সেটাতে কী মালামাল পরিবহন করা হচ্ছে।

এবিষয়ে একজন সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ বলেন, “জলদস্যুরা একটি জাহাজে উঠে বারকোড দেখেই তখন বুঝতে পারবে কোন কনটেইনারে কী মাল আছে। তখন তারা কেবল সেই মালামাল নিয়ে কেটে পড়বে।”

কিন্ত কেবল মালামাল ভর্তি কনটেইনার নয়, পুরো জাহাজই এখন আসলে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ জাহাজ চলে এখন পুরোপুরি কম্পিউটার ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। একটি জাহাজের কম্পিউটার ব্যবস্থা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সেটিকে আর চালানো যাচ্ছিল না। ইলেকট্রনিক চার্ট ডিসপ্লের মতো স্পর্শকাতর নেভিগেশন সিস্টেম করাপ্ট হয়ে পড়েছিল।

এমন আশংকা বাড়ছে যে, হ্যাকাররা কম্পিউটার সিস্টেমে ভাইরাস ঢুকিয়ে দিয়ে পুরো জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। এমনকি হ্যাকাররা নেভিগেশন সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ দখল করে একটি জাহাজ যেখানে আছে, সেখান থেকে অনেক দূরবর্তী কোনও স্থানে সেটি অবস্থান করছে বলে দেখাতে পারে।

বিশ্বে প্রায় ৫১ হাজার বাণিজ্যিক জাহাজ আছে, যেগুলো বিশ্ব বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ পরিবহন করে। কাজেই হ্যাকাররা যে এই জাহাজ চলাচল খাতকে টার্গেট করেছে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সূত্র: বিবিসি বাংলা

নিউজবাংলাদেশ.কম/একিউএফ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য