artk
৫ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রোববার ২০ আগস্ট ২০১৭, ১১:১৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

গান পাগল মানুষ গীতিকবি এমদাদ সুমন

আসাদ রহমান | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৯০৮ ঘণ্টা, শনিবার ১২ আগস্ট ২০১৭


গান পাগল মানুষ গীতিকবি এমদাদ সুমন - বিনোদন

গানের ক্ষেত্রে সাধারণত শিল্পীদেরকে চিনে থাকেন শ্রোতারা। কিন্তু পেছন থেকে যারা একটি গানকে শ্রুতিমধুর করতে অবদান রাখেন তারা থাকেন নিভৃতে। তেমনি নিভৃতচারী হলেন গীতিকাররা। একটি গানের কথামালা গড়ে ওঠে তাদের হাত ধরেই। তেমনই অনেক গীতিকবি বিভিন্ন প্রজন্মে বাংলা গানের ভুবনে আলো ছড়িয়েছেন।

বর্তমান প্রজন্মে তাদের উত্তরসূরি হয়ে যারা কাজ করে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম এমদাদ সুমন। দেশের অনেক জনপ্রিয় শিল্পী তার লেখা গান করে শ্রোতানন্দিত হয়েছেন। তার আরও একটি পরিচয় হলো, গান লেখার পাশাপাশি অডিও-ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিডি চয়েস মিউজিকের স্বত্বাধিকারী তিনি। তার সংগীত চর্চা, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির হালচালসহ নানা কথা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন নিউজবাংলাদেশের সঙ্গে।

গানের ভুবনে পথচলার শুরুটা কবে থেকে?

ছোটবেলা থেকেই গান নিয়ে দারুণ আগ্রহ ছিলো। মুগ্ধ হয়ে শুনতাম বাংলা গান। সেই আগ্রহই আমাকে গানের আঙিনায় নিয়ে এসেছে। ২০০৪ সালে থেকে আমি গানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

নিজে লেখা প্রথম গান...

আমার প্রযোজিত মুভি ‘এইতো ভালোবাসা’ সিনেমার ‘বলো না ভালোবাসি’ গানটি। গেয়েছিলেন জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ ও কনা।

এখন পর্যন্ত লেখা গানের সংখ্যা....

সংখ্যাটি তিন শতাধিকেরও বেশি। তবে প্রকাশিত গানের সংখ্যা দুই শতাধিক হবে। রোমান্টিক, স্যাড সং, ফোকসহ বৈচিত্রময় গান লেখার চেষ্টা করেছি।

একটা কোম্পানির স্বত্বাধিকারী আপনি। যথেষ্ট ঝামেলার কাজ। এর ভেতরেও গান লেখার সময় বের করেন কীভাবে?

গান আমার নেশা ও পেশা। এটা রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। সেই ভালো লাগার জায়গা থেকেই মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকা গানের কথাগুলো বের করে আনি। এটার জন্য আলদাভাবে সময় বের করার প্রয়োজন হয় না।

যেসব শিল্পীরা আপনার কথায় গান করেছেন...

জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ, এস আই টুটুল, নাসির, আরফিন রুমি, ইমরান, তৌসিফ, কলকাতার আকাশ সেন, রাকিব মুসাব্বির, কাজী শুভ, বেলাল খান, অনিক সাহান, শহিদ, ক্লোজআপ তারকা রাজীব, ইলিয়াস হোসাইন, রাজীব হোসাইন, মিলন, তানভীর শাহিন, সাগর, অয়ন চাকলাদার, জুয়ের মুর্শেদ, ফিদেল, আরিয়ান, কনা, পুজা, নওমি, স্বরলিপি, সাবা, ফারাবী, খেয়া, হেমা, নওরীন, কনিকা, আনিকা, আর্নিক প্রমুখ। এছাড়া, কিছু কাজ চলমান অবস্থায় আছে, যাদের মধ্যে সবাই তারকা শিল্পী।

নিজের লেখা প্রিয় গানগুলো...

আরফিন রুমি ও খেয়ার ‘মন মানে না’, ‘ভালোবাসার পরশ’, তৌসিফের ‘আমারে ছাড়িয়া’, ‘সুখ পাখি’, ‘অচিন পাখি’, ‘স্বপ্নবাড়ী’, ইমরানের ‘হৃদয়ের সীমানা’, ইলিয়াসের ‘আমার ভিতর’ ও ‘মন মানে না’, সাফায়াতের ‘ওরে নীল দরিয়া’, মিলনের ‘এ কূল ওকূল’, ‘জানে জিগার’, বেলাল খানের ‘সখি’, কুমার বিশ্বজিতের ‘বলো না ভালোবাসি’, রাজীব ও নওরিনের ‘পাগল পাগল মন’, রাকিব ও ফারাবীর ‘মনটা ছুয়েঁ দেখো না’, শহিদ ও কণিকার ‘কি করে বুঝাই’, নাসিরের ‘সখি ভালোবাসার কারে কয়’, কাজী শুভ’র ‘অবুঝ মন’, বর্ষা চৌধুরীর ‘বঙ্গবন্ধু হে মহান নেতা’, সাবা ও কাজী শুভর ‘মনেরই আকাশ’, ‘চাদের আলো’, রাজীবের ‘বলনারে তুই’ ইত্যাদি গানগুলো আমার খুব প্রিয়। গানগুলো শ্রোতাপ্রিয়তাও পেয়েছিলো অনেক।

গান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা....

আমি মূলত নতুন প্রতিভাবান শিল্পীদের নিয়েই কাজ করে বেশি সাচ্ছন্দবোধ করি। দেশের আনাচে কানাচে যত প্রতিভাবান শিল্পীরা আছেন তাদের জন্য সিডি চয়েস মিউজিককে একটি ভরসার প্লাটর্ফম হিসেবে দাঁড় করাতে চাই। যেখানে থেকে তারা নিজেদের ক্যারিয়া গড়ে নিতে পারবেন। আর এ ধরনের প্রতিভাবান শিল্পীদের মাঠ পর্যায় থেকে তুলে আনার জন্য সিডি চয়েস মিউজিক অচিরেই রিয়েলিটি শো আয়োজন করবে। নবীন-প্রবীণ সব ধরনের শিল্পীরা যাতে মানসিক প্রশান্তি নিয়ে গান করতে পারে সে ক্ষেত্রে সিডি চয়েস মিউকিক বিশ্বস্ততার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করবে।

সংগীতাঙ্গনের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে কী পথ রয়েছে বলে মনে করেন?

এখানে অনেক সংকট আছে। ভালো মানের কথা ও সুরের সংকট। শিল্পের চর্চা না করেই শিল্পীদের খ্যাতির সংকট। বাজারের অব্যস্থাপনার সংকট। অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে হবে। আর অডিও ইন্ডাস্ট্রি বলতে তো আর কিছু দেখছিই না। সব ভিডিওতে গ্রাস হয়ে গেছে। তবে এটাকে আপডেট হওয়া বললে তার সঙ্গে আমাদেরও তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এই অঙ্গনের মানুষদের একতা নিয়ে কাজ করতে হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/একিউএফ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য