artk
১ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ৪:২৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

নাগরিকরা ‘হারিয়ে গেলে’ নির্বাচনে জেতা যাবে না: রিজওয়ানা হাসান

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭১৪ ঘণ্টা, শনিবার ১২ আগস্ট ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৯৪৫ ঘণ্টা, রোববার ১৩ আগস্ট ২০১৭


নাগরিকরা ‘হারিয়ে গেলে’ নির্বাচনে জেতা যাবে না: রিজওয়ানা হাসান - জাতীয়

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, নাগরিকেরা হারিয়ে গেলে নির্বাচনে জেতা যাবে না। ‌জাতীয় পরিচয়পত্রধারী নাগরিকেরা হারিয়ে যায়। কেউ বলতে পারে না। পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী বলতে পারবে না, এটা তো দিনের পর দিন হতে পারে না। 

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। তিন বছর আগে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিককে অজ্ঞাতপরিচয় লোকজন অপহরণ করে। অপহরণের পরপরই থানায় মামলা দায়ের করলেও কারা এর পেছনে জড়িত ছিল সে সম্পর্কে তদন্তে কিছু জানা যায়নি।

আলোচনা সভায় আজ সাতক্ষীর জেসমিন নাহার নামে এক নারী বলেন, “তার স্বামীর তিনদিন হাজতে অবস্থানের সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের প্রতিবেদনে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পরও তাকে ‌‘জঙ্গি’ বলে প্রচার করছে পুলিশ।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “যদি অপহরণের ঘটনা একটিতে শেষ হতো, তাহলে অপহরণের শিকার ব্যক্তি ও তাদের স্বজনেরা মুখ খুলতেন।”

তিনি বলেন, “নাগরিকেরা হারিয়ে গেলে নির্বাচনে জেতা যাবে না। ‌জাতীয় পরিচয়পত্রধারী নাগরিকেরা হারিয়ে যায়। কেউ বলতে পারে না। পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী বলতে পারবে না এটা তো দিনের পর দিন হতে পারে না। এটা কোনো কথা? ন্যুনতম জবাবদিহিটুকু থাকবে না? তারা সমানে গ্রেপ্তার করতে পারে, জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে, অ্যারেস্ট করতে পারে, কেউ তো বাধা দিচ্ছে না, কিন্তু আমরা হারিয়ে যাব কেন? তাহলে এই পরিচয়পত্র দিয়ে আমাদের লাভটা কি হলো? এটা আমাদের সুরক্ষাকবচ। আর নাগরিকেরা হারিয়ে গেলে কি হবে, আগামী নির্বাচনে জেতা যাবে? কোনোভাবেই সম্ভব না।”

‍বেলার নির্বাহী প্রধান বলেন, “মানুষ এখন প্রতিবাদ করতে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিপদে পড়ো না। জনগণের অনাস্থা, অবিশ্বাসের জায়গাগুলো শনাক্ত করে, আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ একটা ‌‘বিপদে পড়ার কালচারের’ মধ্যে ঢুকে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “যেসব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থাহীনতা চরম, অবিশ্বাস চরম, সেখান থেকে মুক্তি পেতে হলে, কোনো আইন বাতিল করতে হলে আমাদের বাতিল করতে হবে।”

টেলিভিশন টক শোর কথা উল্লেখ করে রিজওয়ানা বলেন, “যারা অপহৃত হয়ে যাচ্ছেন তারা আর কথা বলেন না। এটা বুঝবার বুদ্ধি নেই আপনাদের? কথা কেমন করে বলবে? যদি একটা অপহরণের ঘটনাই হতো শেষ অপহরণের ঘটনা, তাহলে অবশ্যই যারা অপহৃত হয়েছেন তারা এবং তাদের পরিবার কথা বলতেন। একটা অপহরণের ঘটনা সারতে না সারতেই যদি দেখেন, সাতজন অপহরণ হয়েছেন, তাও আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে এবং এমন পর্যায় থেকে যাকে আপনি ফেলে দিতে পারবেন না।”

আলোচনা সভার সমন্বয়ক সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “আইনে অপহরণের ব্যাপারে বিধান আছে যখন কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তখন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, তারা কোনো আইনী প্রক্রিয়া ছাড়াই গ্রেপ্তার করছে। সে কারণে গ্রেপ্তারের পরিবর্তে তুলে নিয়ে যাওয়া, উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো বেআইনি শব্দগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। যেহেতু আইনি প্রক্রিয়া না মেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত প্রতিকার আসলে নেই।”

‘আইনের শাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা’ শিরোনামে আলোচনা সভাটির আয়োজক ছিল মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত