artk
৩ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বুধবার ১৮ অক্টোবর ২০১৭, ১:২২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাবিতে শিবিরের ১২ নেতাকর্মীকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ 

রাবি সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১০৪৪ ঘণ্টা, বুধবার ০৯ আগস্ট ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২৫৬ ঘণ্টা, বুধবার ০৯ আগস্ট ২০১৭


রাবিতে শিবিরের ১২ নেতাকর্মীকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ  - শিক্ষাঙ্গন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলে মধ্যরাতে শিবিরের ১২ নেতাকর্মীকে ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন- শিবিরের রাবি শাখার সাহিত্য সম্পাদক নাবিউল ইসলাম (আরবি, মাস্টার্স), শিবিরের সাথী সাহারুল আলম হিমেল (পরিসংখ্যান, চতুর্থ বর্ষ), ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ শাখার সভাপতি সাহেব রানা (আইসিই, তৃতীয় বর্ষ), জোহা হলের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন (ইসলামের ইতিহাস, তৃতীয় বর্ষ), শিবির কর্মী আশিকুল হাসান নাফিস (নৃবিজ্ঞান, চতুর্থ বর্ষ), আরিফুল ইসলাম (ফারসি, মাস্টার্স), রাকিব আহমেদ (আইন, দ্বিতীয় বর্ষ), মাহমুদুল হাসান (উদ্ভিদবিজ্ঞান, চতুর্থ বর্ষ), শরীফুল ইসলাম (পরিসংখ্যান, চতুর্থ বর্ষ), আব্দুর রাকিব (ইসলামিক স্টাডিজ, তৃতীয় বর্ষ), অলিউল (আরবি, মাস্টার্স) এবং গোলাম রাব্বানি (আরবি, দ্বিতীয়)।

হল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল থেকে শিবিরের রাবি শাখার সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক নাবিউল ইসলাম এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সভাপতি সাহেব রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হলের ১৫০, ১৫৫, ২৫৪, ২৭৬ ও ৩৫৮ নম্বর কক্ষ থেকে শিবির নেতা জাকির হোসেন, সাহারুল আলম, শিবির কর্মী আশিকুল হাসান, আরিফুল ইসলাম, রাকিব আহমেদ, মাহমুদুল হাসান, শরীফুল ইসলাম, আব্দুর রাকিব, অলিউল ও গোলাম রাব্বানিকে ধরে হলের অতিথি কক্ষে নিয়ে আসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় দুটি কম্পিউটার, শিবিরের রিপোর্ট ও জিহাদি বইসহ বিপুল পরিমাণ সাংগঠনিক কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয়।

কম্পিউটারে শিবিরের গোপন পরিকল্পনার তথ্য আছে বলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে ছাত্রলীগের প্রায় চার ঘণ্টার ধরপাকড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কোনো সদস্য কিংবা হল প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। পরে শিবির নেতাকর্মীদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এদিকে শিবির নেতাকর্মীদের পুলিশে দেয়ার পর রাত ৪টার দিকে হলে এবং ক্যাম্পাসে শিবিরবিরোধী মিছিল করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, “সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১২টার দিকে রাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলের ১৪৮ নম্বর কক্ষ থেকে শিবির নেতা নাবিউল এবং ১৪৩ নম্বর কক্ষ থেকে সাহেব রানাকে আটক করে। পরে হলের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে আরো ১০ জনকে আটক করি। ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে তারা হলে অবস্থান করছিল। তাদের সবাইকে পুলিশে সোপর্দ করেছি।”

মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি, তদন্ত) মাহবুব আলম বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা শিবিরের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের কক্ষ থেকে কম্পিউটার, মুঠোফোন, রিপোর্ট বই এবং জিহাদি বইসহ সাংগঠনিক কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনকে থানায় আনা হয়েছে। পরবর্তীতে সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য