artk
৫ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রোববার ২০ আগস্ট ২০১৭, ১১:০৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বেনাপোল ইমিগ্রেশন শাখা সোনালী ব্যাংক
৬ মাসে ট্রাভেল ট্যাক্স টোকেনে ৬৫ লাখ টাকার ঘুষ আদায়

তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর প্রতিনিধি | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৩৩৩ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ০৮ আগস্ট ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১১৩৭ ঘণ্টা, বুধবার ০৯ আগস্ট ২০১৭


৬ মাসে ট্রাভেল ট্যাক্স টোকেনে ৬৫ লাখ টাকার ঘুষ আদায় - বিশেষ সংবাদ

যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে ছয় মাসে সাত লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ জন পাসপোর্টযাত্রী ভারতে গিয়েছেন। এসব যাত্রী ভারতে প্রবেশের সময় ট্রাভেলস ট্যাক্স টোকেন নিতে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। বেনাপোলের সোনালী ব্যাংকের ইমিগ্রেশন শাখার কর্মকর্তারা এই টাকা আদায় করেছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণের যাত্রী ভারতে প্রবেশ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। শুধু রমজান মাসের আগ থেকে অর্থাৎ পহেলা মে থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত এই ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে দুই লাখ ১৭ হাজার পাঁচশ ১২ জন পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে প্রবেশ করেছেন। এ দুই মাসেই সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তারা এসব যাত্রীর কাছ থেকে পাঁচশ টাকার ট্রাভেলস ট্যাক্স টোকেন কাটার সময় অতিরিক্ত ১০ টাকা হারে প্রায় ২১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে আদায় করেছেন। নিউজবাংলাদেশের অনুসন্ধানে এ তথ্য বের হয়ে এসেছে।

এই বিপুল পরিমাণের টাকা প্রতি বৃহস্পতিবার এ শাখার চারজন কর্মকর্তার মাঝে ভাগ বাটোয়ারা করা হয়। এছাড়া এখানে দৈনিক ভিত্তিতে দয়াল নামে একজন ট্রাভেল টোকেনে সিল মারেন প্রতিদিন। তাকে প্রতিদিন পাঁচশ টাকা করে দিতে হয় বলে জানিয়েছেন এই শাখার এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “বাকি টাকা এই শাখার ক্যাশিয়ার নুর ইসলাম, রুহুল কুদ্দুস, রুহুল আমিন ও অলিয়ারের মধ্যে ভাগ বণ্টন হয়।”

ভারত ভ্রমণ শেষে ফিরে আসা আব্দুল কাদের (পাসপোর্ট নম্বর বিএইচ০৯৭২৪৬৩) বলেন, “গত শনিবার আমি আমার পরিবার নিয়ে কলকাতায় বেড়াতে যাই। ইমিগ্রেশন ট্যাক্স ট্যাভেল কাটার সময়ে অতিরিক্ত ১০ টাকা করে নেয় আমাদের কাছ থেকে। যারা এ অতিরিক্ত ১০ টাকা দিচ্ছে না, তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকছে। তাছাড়া এখানে একটি দালাল চক্র আছে যারা একেকজন ২০টি থেকে ৩০টি পাসপোর্ট এক সঙ্গে নিয়ে কাউন্টার আগলে ধরে রাখে। যে কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভ্রমণ ট্যাক্স কাটতে অসুবিধা হয়।”

অপর যাত্রী সেলিনা বেগম (পাসপোর্ট নম্বর বিএন ০৫২২০৮৪) বলেন, “আমার ভারতে প্রবেশের আগে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভেতরে সোনালী ব্যাংকের শাখায় ট্যাভেলস টিকিট নিতে যাই। সরকারের নির্ধারিত টোকেনের মূল্য পাঁচশ টাকা হলেও ব্যাংক কর্মকর্তরা টোকেন প্রতি ১০ টাকা করে বেশি দাবি করেন। কেন টোকেন প্রতি ১০ টাকা বেশি লাগবে তা জানতে চাইলে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেন, এটা এখানকার নিয়ম। টোকেন নিতে সবাই অতিরিক্ত ১০ টাকা করে দেয়।”

এই আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনের সোনালী ব্যাংক থেকে যে কোনো যাত্রীকে ট্রাভেলস টোকেন ক্রয় করার সময়ে পাঁচশ টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ টাকা করে দিতে হয় বলে একাধিক পাসপোর্ট যাত্রী অভিযোগ করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ইমিগ্রেশন শাখার ক্যাশিয়ার নুর ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “আমি এখানে এসেছি কয়েক মাস হলো। তবে সব পাসপোর্টযাত্রীর কাছ থেকে টাকা নেয়া হয় না, কিছু যাত্রীর কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়।”

দীর্ঘ চারবছর ধরে সোনালী ব্যাংকের ইমিগ্রেশন শাখায় কর্মরত রুহুল কুদ্দুসের কাছে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “আমাদের আগেও যারা এখানে দায়িত্বে ছিলেন তারা পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছ থেকে এ হারে টাকা আদায় করতেন। তাই আমরাও ট্রাভেলস ট্যাক্স টোকেন বিক্রির সময়ে প্রতিটি পাসপোর্ট যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ টাকা করে নিয়ে থাকি। আর এ টাকা ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত ছয় কর্মকতার মাঝে ভাগবাটোয়ারা করা হয়। এটি বৈধ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বৈধ আর অবৈধ কি? সবাই নিয়ে থাকে তাই আমরাও নিই।”

বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল সোনালী ব্যাংক শাখার ম্যানেজার রকিবুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “আমি এখানে নতুন এসেছি। এর আগেও আমি ব্যাংকের এ শাখায় কাজ করেছি। তবে পাসপোর্ট যাত্রীদের কেউ টাকা নেয়ার বিষয়টি আমার কাছে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

তাছাড়া সোনালী ব্যাংকের ইমিগ্রেশন শাখার কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট যাত্রীদের সঙ্গে কোনো প্রকার টাকা-পয়সা লেনদেন থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত