artk
৫ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রোববার ২০ আগস্ট ২০১৭, ১১:২০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বেনাপোল বন্দরে কাজের পরিধি বেড়েছে, বাড়েনি জনবল

তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর প্রতিনিধি | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭২৪ ঘণ্টা, শুক্রবার ০৪ আগস্ট ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৯০৮ ঘণ্টা, শুক্রবার ০৪ আগস্ট ২০১৭


বেনাপোল বন্দরে কাজের পরিধি বেড়েছে, বাড়েনি জনবল - বিশেষ সংবাদ

বেনাপোল বন্দরে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টায় বন্দরে মালামাল আমদানি-রপ্তানির কার্যক্রম চালু করেছে রাজস্ব বোর্ড। ফলে কাজের পরিধি বেড়েছে কিন্তু বাড়েনি জনবল। ফলে চরম অসুবিধায় পড়েছে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা বন্দরের কার্যক্রম চালু রাখায় একজন অফিসারকে দ্বিগুন শ্রম দিতে হচ্ছে। এ শ্রম দিতে গিয়ে অনেকে অনিদ্রার কারণে ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। গত তিন দিনের বিরামহীন পরিশ্রমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

এছাড়া মধ্যরাতে বন্দরের ভেতরে হাঁটু-কোমর পানিতে নেমে কাস্টমস কর্মকর্তাও সেড ইনচার্জদের কাজ করতে গিয়ে বিভিন্নভাবে নাজেহাল হতে হয়েছে। তারপরও নিরাপত্তার অভাব সর্বক্ষণিক তাদের তাড়া করে ফিরছে বলে একাধিক মাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পহেলা আগস্ট বেনাপোল কাস্টমসে ২৭০টি পেপারসে ক্লিয়ারেন্স হয়েছে ৩০১টি বিলঅবএন্ট্রি, দ্বিতীয় দিনে ২০৪টি পেপারসে ক্লিয়ারেন্স হয়েছে ২৬৪টি, ৩০ জুলাইয়ে ১৯৭টি পেপারসে ক্লিয়ারেন্স হয়েছে ৪১৩টি, ৩১ জুলাইয়ে ২৩১টি পেপারসে ক্লিয়ারেন্স হয়েছে ২৫১টি। এর ফলে বন্দরে রাজস্ব ফাঁকির প্রবণতা বাড়বে বলে একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ সালের অর্থ বছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউস থেকে রাজস্ব আয়ের টার্গেট ছিল ৩ হাজার ৭শ ৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকা, সেখানে অর্থ বছরে রাজস্ব আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৮শ ১৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, অর্থ বছরে এ হাউস থেকে ৫৪ কোটি ৮ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আহরণ হয়েছে।

এর আগের বছর ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট ছিল ২ হাজার ৯শ কোটি টাকা, রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ হাজার ৯শ ৩২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। রাজস্ব বেশি আদায় হয়েছিল ৩২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বেনাপোল কাস্টমস হাউসে মঞ্জুরিকৃত পদ আছেন ৩৪১টি, বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৭৩ জন কর্মকর্তারা।

১৬৮ জন অফিসার এখনো বেনাপোল কাস্টমসে সংকট রয়েছে। তারপরে রাতকালীন কার্যক্রমে চালু করায় মহাসংকটে ভুগছেন বেনাপোল কাস্টমস হাউস। এর মধ্যে কমিশনার একজন, অতিরিক্ত কমিশনার থাকার কথা ২ জন, আছে একজন, যুগ্ম কমিশনার থাকার কথা দুইজন, আছে একজন, উপসহকারী কমিশনার থাকার কথা ৪ জন, ৪ জনই আছে, প্রোগ্রামার একজন, আছে একজনই। সহকারী কমিশনার থাকার কথা ৮ জন আছে ৩ জন, শূন্য আছে ১০ জন।

সহকারী প্রোগ্রামার একজন আছে একজনই, রাসায়নিক পরীক্ষক থাকার কথা একজন, আছে একজনই, রাজস্ব কর্মকর্তা ২৩ জন থাকার কথা আছে ২৮ জন, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ১২০ জন থাকার কথা আছে ৭৮ জন, শূন্য আছে ৪২ জন। কম্পিউটার অপারেটর থাকার কথা ৫ জন আছে ৪ জন, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর থাকার কথা ৮ জন, আছে ৫ জন, গাড়িচালক থাকার কথা ১১ জন, আছে ৪ জন, সিপাহী থাকার কথা ৮০ জন, আছে ৩৫ জন, এমএলএসএস থাকার কথা ১৫ জন, আছে ৮ জন। এভাবে প্রতিটি ক্ষেতেই অফিসার কম আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে।

অপরদিকে, গত ছয় মাসে বেনাপোল শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে ৪৭টি বিলঅবএন্ট্রির অনিয়ম ধরা পড়েছে। এসব অনিয়ম থেকে সংস্থাটি ১৮ কোটি ১৪ লাখ ৯ হাজার ২৪৫ টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করেছে।

এর মধ্যে জানুয়ারিতে অনিয়ম ধরা পড়েছে ১০টি, ফেব্রুয়ারিতে ৬টি, মার্চে ৬টি, এপ্রিলে ৮টি, মে’তে ৯টি ও জুন মাসে ৮টি অনিয়মের ঘটনা ধরা পড়েছে। এ সংস্থাটির জনবল রয়েছে মোট ৮ জন, এর মধ্যে ৩ জন ইনস্পেক্টর থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র একজন, পরিচালক আছে একজন, সিপাহী আছে ৪ জন, অফিস সহকারী ২ জন। বেনাপোল কাস্টমস হাউস রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখায় সংস্থাটি তাদের কার্যাবলী পরিচালনা করেত সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে।

এছাড়া বেনাপোল বন্দরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অনুমোদিত পদের সংখ্য ১১১ জন থাকলেও সেখানে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১০৫ জন। সেখানেও ৬ জন জনবল কম আছে। বন্দরের নিরাপত্তার লক্ষ্যে ১৪৯ জন আনসার ব্যাটেলিয়ন থাকলেও সেখানে একশ ৩০ জনের মতো কর্মরত আছেন। বাকিগুলো অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকেন বলে জানা গেছে। 

বিষয়টি নিয়ে বন্দর উপপরিচালক (প্রশাসন) রিজাউল হকের সঙ্গে কথা বললে তিনি নিউজবাংলাদেশকে জানান, সরকারের নির্দেশ অনুসারে জনবল সংকট নিয়ে দিনে-রাতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সরকার কাজের পরিধি বাড়িয়েছে কিন্তু জনবল বাড়ায়নি। যে কারণে এক শিফটের জনবল দিয়ে দুই শিফট কার্যক্রম চালাতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পরতে হচ্ছে। তারপরও আমরা আমাদের সাধ্যমতো সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি।

বন্দরের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা কাস্টমস হাউস ও বন্দর খোলা থাকায় এখানকার একশ্রেণির শুল্ক ফাঁকিবাজদের সুবিধা হয়েছে। এমনিতেই বন্দরে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। তারপর রাতে আমদানি-রপ্তানি চালু হওয়াতে এ চক্রের পোয়াবারো হয়েছে। তারা সর্বদা সক্রিয় রয়েছে সুযোগ পেলেই তারা বড় ধরনের শুল্কের মতো ঘটনা ঘটবে বলে তিনি জানান।

বেনাপোল শুল্ক গোয়েন্দার ইনস্পেক্টর মোতালেব নিউজবাংলাদেশকে জানান, আমাদের অফিসে সর্বমোট ৮ জন কর্মকর্তা আছে। এর মধ্যে একজন ডিডিও ৩ জন ইনস্পেক্টর নিয়ে কাজ করতে হিমশিম খেতে হয়। তার উপরে নাইট শিফট চালু করায় ভোগান্তির শেষ নেই। এত কম সংখ্যক জনবল দিয়ে এত বড় বন্দর সুপারভিশন করা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি জানান।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. শওকাত হোসেনের কাছে বন্দরে রাতকালীন সার্ভিস চালুর ফলে কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশ অনুসারে বেনাপোল কাস্টমস হাউস ২৪ ঘণ্টাই খোলা রাখা হয়েছে। তবে আগে যে জনবল দিয়ে এক শিফটে সার্ভিস দেয়া কঠিন হতো। প্রায় একই জনবল দিয়ে রাত-দিন সার্ভিস দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গত তিনদিনে আমাদের অনেক কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় সার্ভিস দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাছাড়া জনবল কম থাকায় কাস্টমস কর্মকর্তাদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। আগের থেকে যে খুব একটা বেশি পেপারস হচ্ছে সেটি কিন্তু নয়। তার পরে বোর্ডের নির্দেশ সবার পালন করতে হবে।

নিউজবাংলাদেশ/টিআইএম/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত