artk
৬ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

দ্বিতীয়বার ‘বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক’ পেলেন কুমিল্লার মতিন সৈকত

জেলা সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৭৪১ ঘণ্টা, সোমবার ১৭ জুলাই ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৭৪১ ঘণ্টা, সোমবার ১৭ জুলাই ২০১৭


দ্বিতীয়বার ‘বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক’ পেলেন কুমিল্লার মতিন সৈকত - জাতীয়

দ্বিতীয়বার ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক’ পেলেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের কৃতি সন্তান কৃষকবন্ধু অধ্যাপক মতিন সৈকত। পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক’ গ্রহণ করেন মতিন।

১৬ জুলাই রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ ১৪২১ ও ১৪২২ বঙ্গাব্দের পুরস্কার দেয়া হয়। এ সময় প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মতিন সৈকতের গলায় মেডেল এবং হাতে সনদ ও চেক তোলে দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিনিয়র কৃষি সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহ। মন্ত্রী পরিষদের সদস্যসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মতিন সৈকতকে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বিশেষভাবে অভিনন্দন জানান।

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী তার সনদে উল্লেখ করেন “বাংলাদেশের গণমানুষের উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নে জনাব এমএ মতিনকে (মতিন সৈকত) ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারে’ ভূষিত করা হলো।”

কৃষি মন্ত্রণালয় প্রকাশিত স্মরণিকায় উল্লেখ করা হয়, “জনাব এমএ মতিন সৈকতের উদ্ভাবিত স্বল্পমূল্যে সেচ প্রযুক্তি স্থানীয় জনসাধারণকে আকৃষ্ট করেছে। তিনি কৃষি ও মাছ চাষে সেচ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ উন্নয়নের নিরলসভাবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”

এছাড়া তিনি বোরো মৌসুমে বিঘাপ্রতি মাত্র দুশত টাকার বিনিময় বিশ বছর ধরে সেচ সুবিধা দিয়ে আসছেন। নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনের জন্য ক্ষতিকর বালাই নাশক এবং জমিতে জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে কৃষকে উৎসাহিত করছেন। তিনি দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ১৫৪টি আইপিএম ও আইসিএম ক্লাবকে সংগঠিত করে। রাসায়নিক সার ও বালাই নাশক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন। এছাড়া নিজস্ব নার্সারির মাধ্যমে চারা উৎপাদন, মৎস চাষ সম্প্রসারণ, বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। স্বল্প ব্যয়ের সেচ প্রযুক্তি উদ্ভাবন, জৈব সার ও জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকে উদ্বুদ্ধকরণ এবং বৃক্ষরোপন কার্যক্রমে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এমএ মতিনকে (মতিন সৈকত) বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২১ দেয়া হলো।

উল্লেখ্য, এর আগে মতিন সৈকত ২০১০ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে আরেকবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরষ্কার গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির অভিনন্দনপত্র পান। পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারিভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে ২০১৫ ও ২০১৭ সালে ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে প্রথমস্থান অর্জন করেন। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা এফএও এবং কানাডা বাংলাদেশ সেন্টারসহ অনেকেই তার কাজের প্রসংশা করেছেন। বিবিসিসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম তার সাক্ষাৎকার প্রচার করে। জাতীয় দৈনিকগুলো তার ওপর বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচ/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত