artk
৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৯:৪০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পাহাড় ধস
‘পুনর্বাসন করাটাই প্রধান কাজ’

রাঙামাটি সংবাদদাতা | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১০২৬ ঘণ্টা, সোমবার ১৭ জুলাই ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ২২৩১ ঘণ্টা, সোমবার ১৭ জুলাই ২০১৭


‘পুনর্বাসন করাটাই প্রধান কাজ’ - জাতীয়
ফাইল ফটো

রাঙামাটিতে স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসের প্রভাব পড়েছে প্রায় সকল খাতেই। পর্যটন খাত থেকে শুরু করে মৌসুমী ফল চাষিরাও তা থেকে রেহাই পায়নি। দুর্দশায় দিন কাটছে পরিবহণ শ্রমিকদেরও।

পাহাড় ধসের কারণে জেলার সঙ্গে গত ১৪ জুন থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সকল ধরনের যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। ভয়াবহ পাহাড় ধসে তলিয়ে যাওয়া ঘাগড়া শালবন এলাকার ১৫০ রাস্তা সেনাবাহিনী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অক্লান্ত পরিশ্রমে গত ২১ জুন (বুধবার) হালকা যানবাহন চলার জন্য খুলে দেয়া হয়। এরই মধ্যে গতকাল রোববার বিকেলে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কটিও যাতায়াতের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।

বিপর্যয়কালীন বাজারের কৃত্রিম সংকটও প্রশাসনের ভূমিকায় দুই-তিন দিন পর স্বাভাবিক হয়ে যায়। বিকল্প রুটে লঞ্চের মাধ্যমে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে লঞ্চ মালিক সমিতি ও স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে, গতকাল সকাল থেকেই রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামগামী লোকাল বাসগুলো চলাচল করছে। সব মিলিয়ে এখন রাঙামাটি স্বাভাবিক দিকে রূপ নিয়েছে।

এখনও জেলার মোট ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুই হাজারের মতো মানুষ আশ্রিত। আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসরত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর এখন পুনর্বাসন করতে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান নিউজবাংলাদেশকে জানান, গতকাল বিকেল থেকেই রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। জেলার সাথে অভ্যন্তরীণ জেলাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হওয়াতে জনজীবন আরও স্বাভাবিক হয়েছে।

আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষদের কথা জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করাটাই এখন আমাদের প্রধান কাজ। ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়দের পুনর্বাসনের চিন্তা সরকার করছে। এ সপ্তাহে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করার লক্ষে তিনটি বিশেষ কমিটি করা হবে। ইতোমধ্যে পুনর্বাসন করার জন্য আমরা জায়গা খুঁজছি।”

নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করা হবে জানিয়ে তিনি নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “আমরাতো এদের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পুনর্বাসন করতে পারি না। আমরা আশ্রিতদের নিরাপদ ও টেকসইভাবে পুনর্বাসন করবো।”

উল্লেখ্য, ভারি বৃষ্টি ও প্রবল বর্ষণের ফলে গত ১২ ও ১৩ জুন পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে দুই সেনাকর্মকর্তা ও তিন সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় চরম বিপাকে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশুদ্ধ পানি ও জ্বালানি তেলসহ সকল নিত্যপণ্যে কৃত্রিম সংকটে ভোগে রাঙামাটিবাসী। তবে ১৬ জুন (শুক্রবার) থেকে বিকল্প যোগাযোগ হিসেবে কাপ্তাই-রাঙামাটি রুটে তিনটি লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করে স্থানীয় প্রশাসন।

 

নিউজবাংলাদেশ.কম/পিআর/এমএস/কেকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত