artk
৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

রংপুরের ৩৩ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী যারা

রফিক রাফি | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২১২১ ঘণ্টা, রোববার ১৬ জুলাই ২০১৭


রংপুরের ৩৩ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী যারা - বিশেষ সংবাদ

দেশের বৃহত্তম দল বিএনপি গত নির্বাচন বর্জন করলেও এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা বলে আসছে। তবে তাদের দাবি, সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। কোনোভাবেই তারা শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবেন না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের দাবি মানবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে বিএনপি মনে করে, ক্ষমতাসীনরা তাদের দাবি মানতে বাধ্য এবং বিএনপিকে ছাড়া আগামী নির্বাচন হবে না। তাই এরই মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে আসনভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা করছে বিএনপি। প্রাথমিকভাবে ৩০০ আসনের জন্য ৯ শতাধিক প্রার্থীর তালিকা করেছে দলটি। এই তালিকায় চলবে আরো সংযোজন বিয়োজন।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, সরকার দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে নির্বাচনের অযোগ্য করার ষড়যন্ত্র করছে। তাই প্রার্থী সংকট এড়াতে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় ১ম, ২য় ও ৩য় ক্যাটাগরিতে নাম রাখা হচ্ছে।

দলে অনেক সিনিয়র ও জনপ্রিয় নেতা রয়েছেন। প্রত্যেকেই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চান। তারকা নেতাদের আসনের তালিকায় বিকল্প নেতার নাম না থাকলেও কোন কারনে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে পরিবারের সদস্যদের সেসব আসন থেকে দলের মনোনয়ন দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে যোগ্য প্রার্থীদেরই দল মনোনয়ন দেবে বলে জানান তারা।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের এ পর্বে থাকছে রংপুর বিভাগের প্রার্থী তালিকা।

রংপুর বিভাগের ৮ জেলার আসন সংখ্যা ৩৩। এরই মধ্যে সম্ভাব্য একটি প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করেছে দলটি। এই বিভাগের একাধিক আসনের তালিকায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম রয়েছে।

রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া): গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির শীর্ষ তিন নেতা ওয়াহেদুজ্জান মাবু, মোকাররম হোসেন সুজন ও কামরুজ্জামান লিপটন।

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ): বদরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি পরিতোষ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শাহান, বদরগঞ্জ পৌর সাধারণ সম্পাদক কমল লোহানী ও সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম রসুল বকুল।

রংপুর-৩ (সদর): মহানগর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান সামু এবং সহসভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম।

রংপুর-৪ (কাউনিয়া- পীরগাছা): জেলা সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা, জেলা সদস্য আব্দুল বাতেন ও এসকে পাটোয়ারী।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর): স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা সভাপতি প্রভাষক একেএম রুহুল উল্লাহ জুয়েল, ছাত্রদল উপজেলা সাবেক সভাপতি খাজা নুর খাজা। তবে এ আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী রয়েছে।

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ): কেন্দ্রীয় সদস্য নুর মোহাম্মদ মন্ডল ও জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর): বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই দলের একক প্রার্থী। আইনী জটিলতা বা অন্য কোন কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে এই আসনে তার পরিবারের কোনো সদস্য লড়বেন।

ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী-হরিপুর): বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নির্বাহী কমিটির সদস্য জেডএম মর্তুজা চৌধুরী তুলা।

ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ-রানীশংকাইল): এই আসনটি জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই বিএনপির কোন শক্তিশালী প্রার্থী নেই। তবে পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুর রহমান জাহিদ, সহ সভাপতি জামান চৌধুরী ও উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে চান বলে জানা গেছে।

পঞ্চগড়-১ (পঞ্চগড়-তেতুলিয়া-আটোয়ারী উপজেলা): স্থায়ী কমটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার অথবা ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও পঞ্চগড় সদরের পৌর মেয়র তৌহিদুল ইসলাম।

পঞ্চগড়-২ (বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা): জোটগত নির্বাচন হলে ২০ দলীয় জোটের জাগপার শফিউল আলম প্রধান এই আসনে প্রার্থী তালিকায় শীর্ষে ছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুতে তার মেয়ে প্রার্থী হবেন। এছাড়া তালিকায় আছেন যুবনেতা ফরহাদ হোসেন আজাদ। এছাড়া বিকল্প প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির।

লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা): হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে আসা সাবেক এমপি জয়নাল আবেদিন, উপজেলা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদল সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সেলিম।

লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ): সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ হেলাল, কালিগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

লালমনিরহাট-৩ (সদর): বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু।

নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা): জোটগতভাবে নির্বাচন হলে এ আসন থেকে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানীর মনোনয়ন পাবার সম্ভবনা বেশি। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ও জেলা সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী রয়েছেন তালিকায়।

নীলফামারী-২ (সদর): জেলা সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান জামান, জেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক সোহেল পারভেজ ও পৌরসভা শাখা সভাপতি জহুরুল ইসলাম।

নীলফামার-৩ (জলঢাকা-আংশিক কিশোরগঞ্জ): এই আসনে জামায়াতের যোগ্য প্রার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান এবং জলঢাকা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল গমেট চৌধুরী নির্বাচনে বিএনপির ব্যানারে অংশ নিতে চান।

নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর- আংশিক কিশোরগঞ্জ): সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন, কিশোরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি রাজ্জাকুল ইসলাম রাজ্জাক ও কণ্ঠশিল্পী ও জাসাস নেত্রী বেবী নাজনীন।

কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী-ভূরাঙ্গামারী): জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা, নাগেশ্বরী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাসেম সরকার।

কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর- ফুলবাড়ি): বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, জেলা সহসভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা যুগ্ম সম্পাদক সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ।

কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর): সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল খালেক ও জেলা সভাপতি তাজভির উল ইসলাম।

কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী-রাজিবপুর-চিলমারী): রাজিবপুর উপজেলা সভাপতি মোখলেছুর রহমান, রৌমারী উপজেলা সভাপতি আজিজার রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিনু।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ): সাবেক পিপি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জিন্নাহ।

গাইবান্ধা-২ (সদর): জেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি আনিছুজ্জামান খাঁন বাবু, জিয়া পরিষদ নেতা খন্দকার আহাদ আহম্মেদ।

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী): জেলা বিএনপি সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিক, সাবেক ছাত্রনেতা ড. মিজানুর রহমান মাসুম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক।

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ): উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবদুল মান্নান, উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক কবীর আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় নেতা বিএনপি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম।

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা): জেলা বিএনপি সদস্য হাসান আলী, সাঘাটা উপজেলা বিএনপি সভাপতি মোহাম্মদ আলী, শিল্পপতি নাজমুল ইসলাম নয়ন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যক্ষ আশরাফুল কবির রাঙ্গা।

দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল): বীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আলহাজ্ব মঞ্জুরুল ইসলাম, কাহারোল উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সুমন।

দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ): স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান।

দিনাজপুর-৩ (সদর): দিনাপজুর পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও খালেদা জিয়ার বড় বোনের ছেলে তাহাসিন আখতার ডন।

দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর): বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিয়া।

দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ি-পাবর্তীপুর): বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রেজওয়ানুল হক ও ফুলবাড়ি উপজেলা সভাপতি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি।

দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর- হাকিমপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট): জেলা সাবেক সভাপতি অধ্যাপক লুৎফর রহমান মিন্টু ও এজেড এম জাহিদ হোসেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/আরআর/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত