artk
৮ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রোববার ২৩ জুলাই ২০১৭, ৬:৩৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মেয়রদের ব্যর্থতায় চিকুনগুনিয়া মহামারি রূপ নিয়েছে: রিজভী

সিনিয়র রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৬০৪ ঘণ্টা, রোববার ১৬ জুলাই ২০১৭


মেয়রদের ব্যর্থতায় চিকুনগুনিয়া মহামারি রূপ নিয়েছে: রিজভী - রাজনীতি
রুহুল কবির রিজভী : ফাইল ফটো

মশা নিধনে ব্যর্থ হওয়া সারাদেশে চিকুনগুনিয়া মহামারি আকার ধারণ করেছে দাবি করে সরকার এবং ঢাকার দুই সিটি মেয়র এর দায় এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “রাজধানীতে মশার ব্যাপকতা বেড়ে যাওয়ায় চিকুনগুনিয়া এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। অথচ মশা নিধনে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন থেকে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।”

এতো টাকা ব্যয় হলেও ন্যুনতম মশা নিধন হয়নি উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, “তাহলে টাকাগুলো গেল কোথায়?”

তিনি বলেন, “মেয়রদের বক্তব্যে নগরবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। মশা নিধনে ব্যর্থতার কারণে রাজধানীতে শুরু হওয়া চিকুনগুনিয়া সারা দেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে। ফলে জনগণের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকার এবং দুই মেয়র এর দায় এড়াতে পারে না।”

রিজভী বলেন, “চিকুনগুনিয়ার আগ্রাসন প্রতিরোধে প্রস্তুতি দূরে থাক বরং সরকার ও সরকারের প্রতিনিধিরা জনগণের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে উপহাস করছেন। শুধু মশা নয়, জনগণ সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সেবাও পাচ্ছে না বরং তারা এখন চরম জনদুর্ভোগের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে।”

বিএনপির এ নেতা বলেন, “ঢাকা শহরে বর্ষা মৌসুমেই শুরু হয় খোঁড়াখুঁড়ি। বৃষ্টির পানিতে রাস্তাঘাটগুলো খাল-বিলে পরিণত হয়। ফলে নগরজীবন ভয়াবহ দুর্বিসহ হয়ে ওঠেছে। এর দায় কোনোক্রমেই সরকার এড়াতে পারে না।”

তিনি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পর্কে বলেন, “সারা দেশে গ্রাম-গঞ্জে ও মফস্বল শহরে চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং। এমনকি রাজধানীও এর ব্যতিক্রম নয়। তারপরও বিদ্যুতের উন্নতি নিয়ে নিজেদের সন্তুষ্টির কথা অহরহ জনগণকে শুনিয়ে যাচ্ছে সরকার। রেন্টাল ও কুইক রেন্টালে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের নামে দেশে হরিলুট চলছে।”

গণমাধ্যমের খবরের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “গত ৯ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াই প্রণোদনা হিসেবে প্রকল্পের মালিকরা সরকারের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৩৯ হাজার ২২৬ কোটি টাকা।”

তিনি বলেন, “বেসরকারি বিদ্যুৎ উদ্যোক্তারা তাদের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হিসেবে বিশেষ শর্তে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট আকারে আদায় করে নিচ্ছে এসব অর্থ। সর্বত্রই আলোচনা হচ্ছে রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের নামে যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করছে, তারা সরকারেরই ঘনিষ্ঠ লোক ও শীর্ষ নেতাদের আত্মীয়-স্বজন। লুটের টাকার ভাগ জায়গামতো পৌঁছায়।”

রিজভী বলেন, “আজও একটি গণমাধ্যমে এসেছে-মাত্র একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রেই সরকারের গচ্ছা প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী ফার্নেস অয়েলের পরিবর্তে ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করায় সরকারের এ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ৩০৫ মেগাওয়াটের সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (এসএমপিসিএল) থেকে বিদ্যুৎ কিনতে গিয়ে সরকারকে এ অর্থ গচ্ছা দিতে হচ্ছে।”

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, “বিশেষজ্ঞদের মতে, কম মূল্যের জ্বালানি ফার্নেস অয়েলে বিদ্যুৎকেন্দ্র করলে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠজনদের বড় বড় কোম্পানিকে বেশি টাকার সুবিধা দেয়া যায় না। এ জন্য উচ্চমূল্যের জ্বালানি ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার অনুমতি দিচ্ছে সরকার।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ঘাটতি মেটাতে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। বড় বড় কোম্পানিগুলোকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে জনগণের পকেট কাটছে সরকার।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, মীর সরাফতরদ আলী সফু, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন প্রমুখ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/আরআর/এমএস

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত