artk
৬ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

কর্মীদের চাকরিচ্যুতির হুমকি
আমানতের জন্য মরিয়া মার্কেন্টাইল ব্যাংক

সাইদ আরমান | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২১২৮ ঘণ্টা, শনিবার ১৫ জুলাই ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২৪৮ ঘণ্টা, রোববার ১৬ জুলাই ২০১৭


আমানতের জন্য মরিয়া মার্কেন্টাইল ব্যাংক - বিশেষ সংবাদ

আমানতের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বেসরকারি খাতের মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড। আমানত বাড়াতে ব্যাংক তার কর্মীদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে। লক্ষ্য অর্জন করতে না পারলে, চাকরি থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হচ্ছে।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপক ও সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এতথ্য পেয়েছে নিউজবাংলাদেশ।

জানা গেছে, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো পরিদর্শন করে সরাসরি শাখার কর্মীদের আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণে করে দিচ্ছেন।

জানতে চাইলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মশিউর রহমান বুধবার নিউজবাংলাদেশকে টেলিফোনে জানান, “আমাদের শাখা পরিদর্শন নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। সেখানে শাখাগুলোর আর্থিক সূচক পর্যালোচনা করা হয়। শাখাগুলো যাতে আরও ভালো করতে পারে তার জন্য দিক নির্দেশনা দেয়া হয়।”

তবে সুনির্দিষ্টভাবে সবাইকে আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য বেধে দেয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই তথ্য ঠিক নয়। তবে শাখাগুলো যাতে অন্য ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ভালো প্রতিযোগিতা করতে পারে সেটি তো নির্দেশ দেয়াই হতে পারে।”

তবে নিউজবাংলাদেশকে রাজধানীর অত্যন্ত তিনটি শাখার ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে তিনি পুরো শাখার দায়িত্বে থাকলেও তাকেও আলাদা করে লক্ষ্য বেধে দেয়া হয়েছে। একইভাবে তাদের অন্য কর্মীদেরও আমানত সংগ্রেহের লক্ষ্য দেয়া হয়েছে।

ওই শাখা তিনটির দুটিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজে এবং একজন উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) সরাসরি পরিদর্শন করে কর্মকর্তাদের আমানতের লক্ষ্য বেধে দেন।

অন্য শাখাটিতে একজন ডিএমডি সরাসরি পরিদর্শন করে বৈঠক করেন।

বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মী বলেন, চাকরি নিয়েছি সাধারণ ব্যাংকিংয়ে। আমার কাজ তো আমানত সংগ্রহ করা নয়। আমাকেও বলা হয়েছে চলতি বছর ৩ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করতে হবে।

আরেকজন কর্মী জানা, তাকে লক্ষ্য বেধে দিয়ে বলা হয়েছে লক্ষ্য অর্জন করতে না পারলে বেতন ভাতা বাড়বে না। পদোন্নতি আটকে যাবে। তাছাড়া চাকরিও হারাতে পারেন।

জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে বেসরকারিখাতের এই ব্যাংকটি। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলসহ সমমনা কিছু ব্যক্তি ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমান ব্যাংকটির শাখার সংখ্যা ১১৯টি।

ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের শাখা কর্মীদের সবাইকে এভাবে আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য বেধে দেয়া যায় না। এতে ব্যাংকের কর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়। কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না। এতে ব্যাংক পরিচালনায় ঝামেলা তৈরি হতে পারে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এভাবে আমানতের জন্য মরিয়া হয়ে কর্মীদের হুমকি দিলে মেধাবি ও যোগ্য কর্মীদের সুযোগ বুঝে অন্য ব্যাংকে চলে যাবেন।

তবে জলিলের মুত্যুর পর ব্যাংকটিতে নানা অব্যবস্থাপনা শুরু হয়। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বহিরাগতদের উপস্থিতিও পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পর্ষদ সভায় হাতাহাতির ঘটনা নিয়েও সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান শহিদুল আহসান। যার মালিকনায় একটি বেসরকারি নিউজ চ্যালেন রয়েছে। শহিদুল আহসান আরেকটি নতুন প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক থেকে বেনামে বিপুল অঙ্কের টাকা ঋণ নিয়েছে। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এই ঘটনায় ওই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানো নোটিশ পর্যন্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “আমানত সংগ্রহ করা সব কর্মীর কাজ নয়। যদি ব্যাংক সব কর্মীদের এভাবে আমানতের লক্ষ্য বেধে দিয়ে থাকে সেটি অন্যায়। তবে আমাদের কাছে এমন কোন অভিযোগ এলে আমরা বিষয়ট খতিয়ে দেখবো।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএ/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য