artk
৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

আগাম জামিন নিলেন সাবেক বিচারপতি জয়নুল  

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ০৮৪১ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১১ জুলাই ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১২২৭ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ১১ জুলাই ২০১৭


আগাম জামিন নিলেন সাবেক বিচারপতি জয়নুল    - কোর্ট-কাচারি
ফাইল ফটো

দুর্নীতি দমন কমিশনের এক নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে আলোচনার একদিন পরেই হাই কোর্টে গিয়ে আগাম জামিন নিয়েছেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীন।

সোমবার হাই কোর্টের বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এএনএম বশির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

আদালতে বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান কবির।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জারি করা এক নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার হতে পারেন- এমন আশঙ্কা থেকে সাবেক এ বিচারপতি জামিনের আবেদন করেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

মনিরুজ্জামান কবির পরে সাংবাদিকদের বলেন, “বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। দুদক তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে তিনি জামিনের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন।”

তিনি বলেন, “একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলা না হলেও দুদক তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, সেটি উল্লেখ করে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থেকে তিনি জামিন আবেদন করেছিলেন।”

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, “তাকে কেন নিয়মিত জামিন দেওয়া হবে না তা, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে দুদক এবং সরকারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।”

জয়নুল আবেদীন ১৯৯১ সালে হাই কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২০০৯ সালে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে অবসরে যান তিনি।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সন্দেহে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই সম্পদের হিসাব চেয়ে তাকে নোটিস দেয় দুদক। দুদকের দেয়া ওই নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি জয়নুল আবেদীন ২০১০ সালের ২৫ জুলাই হাই কোর্টে একটি রিট আবেদনও করেছিলেন। তার শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ বিষয়টি উত্থাপিত হয়নি বিবেচনায় খারিজ করে দিয়েছিল।

সাত বছর পর পুনরায় ওই বিচারপতির বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে দুদকের কাছে- এমনটি উল্লেখ করে তার বিষয়ে অনুসন্ধানের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে গত ২ মার্চ চিঠি দেয় কমিশন।

এর জবাবে গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে দুদকের কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ সমীচীন হবে না বলে সুপ্রিম কোর্ট মনে করে। কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, দুর্নীতি বা অন্য কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ছাড়া তার প্রাথমিক তদন্ত বা অনুসন্ধান না করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

গতকাল রোববার চলতি সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনে সুপ্রিম কোর্টের ওই চিঠির কড়া সমালোচনা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

 

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত