artk
৬ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে ডিজিরা থাকেন না কেন?

সাইদ আরমান | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০৫২ ঘণ্টা, সোমবার ১০ জুলাই ২০১৭ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৯০০ ঘণ্টা, বুধবার ১২ জুলাই ২০১৭


মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে ডিজিরা থাকেন না কেন? - বিশেষ সংবাদ

দেশকে মাদকমুক্ত করবেন, এমন স্বপ্ন নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ নিয়ে এলেও স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। নিধিরাম সর্দার বনে গিয়ে বিদায় নিতে হয়। কখনো নিজেরাই বিদায় চান, কখনো সরকার সরিয়ে নেয়। তবে কার্যত, গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থার মহাপরিচালক পদে চলে আসা যাওয়ার খেলা।

নিউজবাংলাদেশকে সূত্রগুলো বলছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এযাবৎকালে ৩২ জন মহাপরিচালক পেয়েছে। অথচ সংস্থাটির বয়সও ততো নয়। ১৯৯১ সালে আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটির বয়স ২৭ বছর।

হিসাব বলছে, ২৭ বছরে ৩২ জন মহাপরিচালক। মানে গড়ে প্রতি ১০ মাসে বদল এসেছে পদটিতে। ফলে কেউ প্রতিষ্ঠানটিকে আন্তরিকভাবে নিতে পারেননি। এসেছেন, বসেছেন, যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং চলে গেছেন। আসা যাওয়ার দোলাচলে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে ২৭ বছরে প্রতিষ্ঠানটির ঝুলিতে সুনাম নেই। রয়েছে পাহাড় সমান অভিযোগ। ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে মাথা নিচু করেই চলছে প্রতিষ্ঠানটি।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিউজবাংলাদেশকে টেলিফোনে বলেন, “প্রজাতন্ত্রের কোনো পদই স্থায়ী নয়। বিভিন্ন কারণে বদলি ও সরিয়ে দেয়া হয়। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।”

অপরদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “কেন এতো দ্রত মহাপরিচালক পরিবর্তন হয় সেটি আমি বলতে পারব না। এটি সরকারের ব্যাপার।”

জানা গেছে, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রথম মহাপরিচালক ছিলেন আমলা আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী। তিনি এক বছর ছিলেন। পরে দ্বিতীয় মহাপরিচালক এম এনামুল হক ছিলেন ৬ মাস। তৃতীয় মহাপরিচালক এ কে এম মাহবুবুল হক ছিলেন ৯ মাসের কাছাকাছি।

প্রতিষ্ঠানটির সবশেষ মহাপরিচালক ছিলেন সালাউদ্দিন মাহমুদ। তিনি ছিলেন ৩ মাস। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিরোধে সরিয়ে দেয়া হয় তাকে।

জানা গেছে, সরকারের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে।

দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক মহাপরিচালকই স্বপ্ন নিয়ে আসেন। সরকারও হয়তো আশা নিয়ে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। কিন্তু তারা দায়িত্ব নিয়ে এসেই হতাশ হয়ে যান। বুঝতে পারেন, নানা কারণে এখানে কাজ করা যাবে না। সরকারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও মাদক ব্যবসায়ীদের যে শক্ত সিন্ডিকেট দেশে গড়ে উঠেছে, তাদের কারণেও অনেক সময় কোন কোন মহাপরিচালক দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। ফলে অসহায় হয়ে চলে গেছেন। আবার অনেকে কাজ করতে গিয়ে সরকারের সহায়তা পাননি, ফলে তাদেরও ফিরে যেতে হয়েছে। এভাবে চলতে থাকায় প্রতিষ্ঠানটি পেশাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আজও গড়ে ওঠেনি। যারাই এসেছেন, সব দিক বুঝে নিয়মিত হাজিরা আর ফাইল সই করে সময় পার করে গেছেন। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে ব্যাহত হচ্ছে সার্বিকভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম।

একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “একজন ডিজি ছিলেন, যাকে মদ আমদানিকারকরা সরকারকে হাত করে সরিয়ে দিয়েছেন। এমনটা দুঃখজনক।”

নতুন দায়িত্ব পেয়ে বর্তমান মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “প্রচণ্ড চাপের মধ্যে আছি। চাপটি বাহ্যিক নয় অন্তর্গত। সরকার আমাকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ করেছে। তারপর থেকে ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যে সব খবরাখবর পাচ্ছি তাতে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে কেঁপে উঠছে। শোনা যাচ্ছে চক্রঘেরা অচলায়তন নাকি ওটি।”

তিনি আরো বলেন, “আমার সমগ্র কর্মজীবনে আমি কাজকে কখনো ভয় পাইনি। নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে ভুলের মাঝে ফুল ফোটানোর চেষ্টা করেছি। সব ক্ষেত্রে সফলতা দাবি না করেও বলবো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সফল হয়েছি। তাই কাজের চ্যালেঞ্জকে বলা যায় আমি এনজয় করি। ক্যারিয়ারের সূচনা থেকে মাদককে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করি। বিভিন্ন পদে কাজ করার সময় মাদকের বিরুদ্ধে কঠিন অভিযান চালিয়ে গেছি। কখনো আপস করিনি। আজ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে পদায়ন পেয়ে খুশিতে আটখানা হওয়ার কথা। হয়েছিলামও তাই। কিন্তু ভেতরের খবর পাওয়ার পর বড় একটি সংশয় বুকের মধ্যে চেপে ধরেছে। পারবো কি?”

মাঠ প্রশাসনে কাজ করা এই কর্মকর্তা জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাতাশ বছর বয়সে বত্রিশ জন মহাপরিচালক বদলি হয়েছেন। গড়ে এক বছরও টেকেননি। স্বার্থগোষ্ঠীর হাতগুলো নাকি লম্বা লম্বা। এক মহাপরিচালক বিয়ার বানানোর অনুমতি দেননি বলে কিছু দিন আগে তাকে খবরের কাগজে অপমানের চূড়ান্ত করে ছেড়ে দিয়েছে। এভাবে হাজারো দৃষ্টান্ত দেয়া যাবে। তাই আমি সংশয়াপন্ন।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএ/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য