artk
১ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ৪:১৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

জাবিতে বিধিবহির্ভূত খাতে কোটি টাকা ব্যয়

জাবি প্রতিনিধি | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ১৮১৬ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৬ জুন ২০১৭


জাবিতে বিধিবহির্ভূত খাতে কোটি টাকা ব্যয় - শিক্ষাঙ্গন

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে প্রতিবছর বিধিবহির্ভূত খাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসন। বিধি বহির্ভূত ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা, লাইব্রেরি, আবাসন, পরিবহন এবং ইন্টারনেটের মত গুরুত্বপূর্ণ খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আগামী শনিবার (১৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে বাজেট ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিধিবর্হিভূত খাতে কোটি টাকা ব্যয় বন্ধ করে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৯ মে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ২০১২-১৩ অর্থবছরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রতিষ্ঠানটিকে অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দ না দিয়ে এমপিওভুক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাধিকবার নির্দেশ দেয় কমিশন। কিন্তু সে নির্দেশনা এখনো পর্যন্ত কার্যকর করা হয়নি। কমিশনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২ কোটি ১৯ লাখ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ভর্তুকি দেয়া হয়। পরবর্তী অর্থ বছরগুলোতে ভর্তুকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২ কোটি ২১ লাখ ৯৮ হাজার ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। এভাবে প্রতিবছরই বিধিবহির্ভুত খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চলতি বাজেটে ১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ঘাটতি দেখানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন ভর্তুকিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আগামীকালের সিনেট অধিবেশনে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে বিধিবহির্ভূত ব্যয় সংকোচনে করে শিক্ষা-গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইউজিসির নিয়মানুসারে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন কোনো স্কুল-কলেজ থাকলে তা এমপিওভুক্ত হতে হবে। আর নয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইআর) এর অধীনে থাকতে হবে। কিন্তু ‘জাবির স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ কোনোটির অধীনে না থেকে বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলের টাকা থেকে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েই চলছে বছরে পর বছর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভুক্ত করা হলে জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে না বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টদের।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৯৩ কোটি ৫২ লাখ প্রস্তাবিত বাজেটের শিক্ষা সরাঞ্জম, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে মাত্র ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। যা মোট বাজেটের ০ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে প্রদত্ত ভর্তুকি অর্ধেক। গবেষণা খাতে এ স্বল্প বরাদ্দ বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যাপ্ত ক্লাস রুম না থাকায় ঠিক মতো ক্লাস করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বিভাগগুলোর নিজস্ব ভবন, ল্যাব, পাঠাগার ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

সাজ্জাদ হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাজেটের ০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ব্যয় শিক্ষা-গবেষণা খাতে, যা দেশের একটি উচ্চ বিদ্যাপীঠের জন্য খবুই দুঃখ ও হতাশাজনক।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার মো. আশরাফুল মুনিম নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিধিবহির্ভূত খাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে ব্যহত করছে। তাই কালকের বাজেটে এ সব খাতে ব্যয় বন্ধ করে গবেষণা খাতে ব্যয় বাড়ানো উচিত।”

বিধিবহির্ভূত খাতে ব্যয়ের সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক আবুল হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার আবু বকর সিদ্দিক নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “ইউজিসি নির্দেশ দিলেও জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজকে এখনও এমপিওভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনএম/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য